মেদিনীপুর সদরে দাপাচ্ছে হাতির পাল, তটস্থ গ্রামের পর গ্রাম

327
মেদিনীপুর সদরে দাপাচ্ছে হাতির পাল, তটস্থ গ্রামের পর গ্রাম 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: আমনের চারা পোঁতা হয়ে গেছে জমিতে। সবুজ সতেজ সেই চারা লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে। গ্রামে গ্রামে সম্বৎসরের সম্বল এই ধান, সারা বছরের আয়। আর সেই ধানেই সর্বনাশের ছায়া ফেলতে ফের হাজির হয়েছে দলমার পাল। মেদিনীপুর সদরে দাপাচ্ছে হাতির পাল, তটস্থ গ্রামের পর গ্রাম 2কিছুদিন আগেই দাপিয়ে যাওয়ার পর ফের হাতির পালের হানায় তটস্থ মেদিনীপুর সদর ব্লকের একের পর এক গ্রাম। বৃহস্পতিবার সকালেই হাতির পালের আগমনের খবরে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে গুড়গুড়িপাল থানা এলাকার একাধিক গ্রামে।

জানা গেছে বৃহস্পতিবার ভোরে কংসাবতী নদী পেরিয়ে ৩০ টি হাতির পাল ঢুকে পড়ে চাঁদড়া রেঞ্জের মনিদহ এলাকায়। ফরিদচক, পলাশিয়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি করে ধানজমির। পরে গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে, দিনের আলো ফোটার পর জঙ্গলে প্রবেশ করে হাতির পালটি। সন্ধ্যা বেলা ফের হাতির হানার আশংকা এলাকাবাসীর। গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এই নিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে বারংবার হাতির পাল প্রবেশ করছে মেদিনীপুর সদরে। কিছুদিন আগেই একটি হাতির পাল ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া থেকে কংসাবতী নদী পেরিয়ে ঢুকে পড়ে মেদিনীপুর সদর ব্লকে। তছনছ বিঘার পর বিঘা ধান জমি। সম্প্রতি হাতির দুটি পালকে পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে বাঁকুড়া জেলায় পাঠালেও নতুন করে ঝাড়গ্রাম থেকে ফের হাতির পাল প্রবেশ করল মেদিনীপুর সদর ব্লকের গুড়গুড়িপাল এলাকায়।

মেদিনীপুর সদরে দাপাচ্ছে হাতির পাল, তটস্থ গ্রামের পর গ্রাম 3

পশ্চিম মেদিনীপুরে এই মুহূর্তে প্রায় একশো হাতি রয়েছে জেলার বিভিন্ন জঙ্গল গুলিতে। মেদিনীপুর সদর ব্লকের চাঁদড়ার জঙ্গলে সারা বছরই রেসিডেন্সিয়াল হাতি রয়েছে। লোকালয়ে চাষের জমিতে ক্ষতি করে সর্বস্বান্ত মেদিনীপুর সদর ও শালবনী ব্লকের কৃষকেরা। গত এক সপ্তাহ ধরে চেষ্টা করে চাঁদড়ার জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় থাকা ২৫ টি হাতির একটি দলকে বাঁকুড়া জেলার দিকে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। পুরোপুরিভাবে সেগুলিকে তাড়ানোর আগেই আরো একটি দল প্রবেশ করল মেদিনীপুর সদর ব্লকে।

আরও পড়ুন -  IIT-Kharagpur-র আবিস্কারকে স্বীকৃতি দিল ICMR ! সস্তায় করোনা পরীক্ষার মেশিন এবার বাজারে নামার অপেক্ষায়

বনদপ্তর অবশ্য জানিয়েছে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে তারা। হাতি গুলিকে ফেরৎ পাঠানোর জন্য একটি রুট তৈরি করা হচ্ছে। মেদিনীপুর বনবিভাগের এক কর্তা জানিয়েছেন, “সর্বত্রই এখন ধানের চারা অথবা সবজির ক্ষেত রয়েছে। তাই হাতিদের বেশি বিরক্ত করলে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি। অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতি হবে এমন একটি রাস্তা ধরে হাতির পালকে দলমায় ফেরৎ পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী বন বিভাগের সঙ্গে কথা বলেই এই রাস্তা তৈরি করা হবে। চাষিদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমান মেপে ক্ষতিপূরণ দেবে বনদপ্তর।”