দু’দুবার নদী পেরিয়ে ক্ষুব্ধ হাতির পালের তান্ডব মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে ! ভাঙল বাড়ি, খাটের তলায় লুকিয়ে প্রাণ বাঁচল যুবকের

348
দু'দুবার নদী পেরিয়ে ক্ষুব্ধ হাতির পালের তান্ডব মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে ! ভাঙল বাড়ি, খাটের তলায় লুকিয়ে প্রাণ বাঁচল যুবকের 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভাগের হাতি! একবার ও তাড়ায় তো একবার ও। আর তারই জেরে দু’দুবার নদী পের হতে হয়েছে বুনো হাতির পালকে। স্বাভাবিক ভাবেই যাতায়াতের ধকল আর পরিশ্রম এবং ক্ষুদা মেটাতে দ্বিগুন ক্ষতির মুখে গ্রাম বাসীরা। পাকা ধান মাড়িয়ে খাওয়ার পাশাপাশি ভাঙল ঘরবাড়িও। মঙ্গলবার মধ্য রাতের ঘটনায় রীতিমত ত্রস্ত গ্রামবাসীরা। ঘটনা মেদিনীপুর শহরের উপকন্ঠে লোধাসাই গ্রামের৷

জানা গেছে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই হাতির পাল মেদিনীপুর সদর ব্লকের ডুমুরকোটা এলাকাতে রয়েছে৷ হাতির পালের হামলাতে ব্যাপক ক্ষতি হওয়াতে চাষীদের ক্ষোভ বাড়ছিল। সেই ক্ষোভে লাগাম দিতে মঙ্গলবার সন্ধায় হাতিগুলিকে তাড়িয়ে ঝাড়গ্রাম জেলার বনবিভাগের মানিকপাড়া এলাকায় ঢুকিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেয় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বনদপ্তর৷ এই দুই জেলার মধ্যে সীমানা হিসেবে রয়েছে কংসাবতী নদী। স্থানীয় গ্রামগুলিতে থাকা হাতি তাড়ানোর সহায়ক শক্তি হিসেবে হুলা পার্টির সাহায্য নিয়ে বনকর্মীরা প্রায় ৪০টি বুনো হাতির পালকে ধাওয়া করে কংসাবতী নদী পের করে দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ফিরে আসে।

দু'দুবার নদী পেরিয়ে ক্ষুব্ধ হাতির পালের তান্ডব মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে ! ভাঙল বাড়ি, খাটের তলায় লুকিয়ে প্রাণ বাঁচল যুবকের 2

বনদপ্তর টের পায়নি যে এপারের হাতি ওপারে তাড়ানোর পরিকল্পনা আগেই চলে গেছিল ওপারে। ওপরেও চাষিদের ক্ষেতে ক্ষেতে পড়ে রয়েছে হলুদ পাকা ধান। হাতি আসলে তাদের বিস্তর ক্ষতি হবে এই ধারনা নিয়ে তারাও গোপনে জোট বেঁধে পরিকল্পনা নিয়ে ফেলে হাতির পাল এপারে আসলেই ফের তাড়া করবে তারা। হলও তাই, যেইনা নদী পেরিয়ে হাতির পাল ওপারে মাটি ছুঁয়েছে অমনি বাজি পটকা মশাল আর কুলকুলি বাজিয়ে গ্রামবাসীরা তাড়া করল হাতির দলকে। হাতির দল ফের নদীতে নেমে ফিরে আসে এপারে।

আরও পড়ুন -  এক বছর পেরিয়ে গেল কুরবান শাহ খুনের ! অধরা মূল অভিযুক্তরা! দল আর পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন স্ত্রী

লোধাসাই গ্রামের বাসিন্দা নিশিকান্ত দাস জানিয়েছেন, “এ পারের বনকর্মী ও হুলা পার্টির দল বোধহয় সবে মাত্র ঘরে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তার মধ্যেই রাত একটা নাগাদ হাতির পাল পুনরায় ঢুকে পড়ে এপারের লোধাসাই গ্রামে। আর গ্রামে ঢুকেই মাটির বাড়ি ভেঙে খাবারের খোঁজ চালায় হাতি গুলি। প্রায় চল্লিশটি হাতি ছিল ওই দলে।”

আরও পড়ুন -  নিরন্নের সাথে অন্নমুখে দেবাদ্রিতা, অন্ধকারে আলো ছড়ালেন বিভাষ, আরও একবার খেজুরি ছুঁয়ে মিডনাপুর ডট ইন

জানা গেছে গ্রামের প্রান্তে থাকা নিরঞ্জন দিগরের মাটির বাড়ি ভেঙে ভেতরে খাবারের খোঁজ শুরু করে হাতে। ওই সময় ভেতরে ঘুমিয়েছিলেন নিরঞ্জন বাবুর ছেলে রাজতিলক দিগর। দেওয়াল তার উপর পড়তেই কোনভাবে সরে গিয়ে খাটের তলায় ঢুকে প্রাণ বাঁচান হাতির হাত থেকে। ওই বাড়ি থেকে সমস্ত ধান-চাল এমনকি রান্না করা ভাতও বের করে রাস্তায় ছড়িয়ে খায় হাতির পাল। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে গ্রামের পাশে থাকা ধান জমিতেও ব্যাপক ক্ষতি করেছে। গ্রামের বাসিন্দাদের কলাবাগান থেকে অন্যান্য গাছগুলিও খেয়ে নষ্ট করেছে হাতিতে। ব্যাপক ক্ষতির কারণে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

আরও পড়ুন -  হেস্টিংসের 'ব্রাইটন অব ক্যালকাটা,' স্নেইথের 'রানসউইক', আর পিন্টু ভট্টাচার্যর দিঘায় এখন হাজার হাজার ঝাউয়ের লাশ

গভীর রাত অবধি ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়ে বহু ধান জমির ক্ষতি করেছে। পরে নিজেরাই গিয়ে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। পুনরায় হাতির আক্রমণ হওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা এখন রাত জাগছেন বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হয়ে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ডুমুরকোটায় তবুও কম ক্ষয়ক্ষতি করছিল হাতির পাল কিন্তু দু’দফা নদী পারের পর থেকেই লোধাসাইতে তাদের তান্ডব মারাত্মক আকার নিয়েছে।