প্রত্যেক ভোট কর্মীর করোনা টিকা নিশ্চিত না করে নির্বাচন নয়! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসককে জানালেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা

703
প্রত্যেক ভোট কর্মীর করোনা টিকা নিশ্চিত না করে নির্বাচন নয়! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসককে জানালেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা 1
প্রত্যেক ভোট কর্মীর করোনা টিকা নিশ্চিত না করে নির্বাচন নয়! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসককে জানালেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা 2

প্রত্যেক ভোট কর্মীর করোনা টিকা নিশ্চিত না করে নির্বাচন নয়! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসককে জানালেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা 3নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনার ঝড় আর অতিমারির মৃত্যু মিছিল কিছুটা কম হলেও থেমে যায়নি একেবারে। তার মধ্যেই কোভিডের দ্বিতীয় সংস্করণের চোখ রাঙানির মধ্যে চলে এসেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের গুরু দায়িত্বই রাজ্যের শিক্ষক সমাজের ওপর। শিক্ষক সমাজের বড় অংশই ভোট গ্রহণের দায়িত্বে থাকেন। নির্বাচন মানেই ব্যাপকতম মানুষের অংশগ্রহন। ফলে কতটা নিরাপদ থাকতে পারবেন তাঁরা এই প্রশ্ন তুলে নির্বাচনের আগেই সমস্ত ভোট কর্মীরই করোনা টিকা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসকের দরবারে বিক্ষোভ সহ স্মারকলিপি প্রদান করলেন শিক্ষকদের সংগঠন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ।

বৃহস্পতিবার মেদিনীপুর শহরে উপস্থিত হয়ে জেলা শাসকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর জেলাশাসকের দপ্তরে অতিরিক্ত জেলা শাসক (শিক্ষা) প্রতিমা দাসের নিকট ওই দাবি সহ বিভিন্ন দাবিতে একটি দাবিপত্র জমা দেন সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল। অতিরিক্ত জেলা শাসক জানিয়েছেন, ” এই দাবিপত্র তিনি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে পাঠিয়ে দেবেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী, প্রভাত শতপথী, অনিন্দ্য সুন্দর পাল, বিশ্বজিৎ ভূঁইঞা প্রমুখ।

প্রত্যেক ভোট কর্মীর করোনা টিকা নিশ্চিত না করে নির্বাচন নয়! পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাসককে জানালেন শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা 4

সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, প্রতিটি নির্বাচনের প্রাক্কালে আমরা সমস্ত ভোট কর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সময়োপযোগী বিষয়গুলি নির্বাচন কমিশনের কাছে রেখে থাকি। আমাদের নির্দিষ্ট কয়েকটি চিরাচরিত দাবি যেমন আমরা পেশ করেছি তেমনি এই সময়ের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা দাবি করেছি, নির্বাচনের প্রাক্কালে সমস্ত ভোট কর্মীরই করোনা প্রতিষেধক টিকাকরন করাতে হবে। কারন একটি অতিমারি সংক্রমন ভীতি নিয়ে নির্বিঘ্ন ভোট গ্রহণ করা যায়না। আমরা রাজ্যের সিইও দপ্তরের পাশাপাশি আমরা প্রতিটি জেলায় জেলাশাসকের দপ্তরে এবং ব্লকে ব্লকে ডেপুটেশন কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। আমরা বিশেষ কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে নই। আমরা চাই সাংবিধানিক দায়িত্ব ভোট কর্মীরা যেন মাথা উঁচু করে পালন করতে পারে তা নিশ্চিত করুক নির্বাচন কমিশন।

এছাড়াও সংগঠনের পক্ষ থেকে যে প্রধান দাবিগুলি পেশ করা হয়েছে সেগুলি হল, রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কর্মীর জন্য সুনিশ্চিত নিরাপত্তার ব্যবস্থা এবং তার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। প্রতিটি বুথে প্রিজাইডিং অফিসারের সহিত ৬ জন কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী(সেন্ট্রাল ফোর্স) দিয়ে ভোটার এবং ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।স্পর্শকাতর বুথগুলিতে দ্বিগুণ হারে এই নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যবস্থা রাখতে হবে।

আরও দাবি করা হয়েছে রিলিভারের জন্য প্রতিটি বুথে একজন করে অতিরিক্ত ভোটকর্মী দিতে হবে।
ডিউটি থাকা অবস্থায় হিংসাত্মক কোন ঘটনায় ভোট কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ৫০ লক্ষ টাকা আর সাধারণ মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসাবে দিতে হবে এবং পরিবারের একজনকে চাকুরি দিতে হবে। হতাহতের জন্য আগে থেকে প্রতিটি ভোট কর্মীর জন্য বীমার ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। ভোট গ্রহণের শেষে ভোট বাক্স জমা দেওয়ার পর রিলিজ অর্ডার দিয়ে দিলেই নির্বাচন কমিশনের সমস্ত দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ভোট গ্রহণের জন্য ভোট কর্মীদের বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার পর থেকে বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত তাঁর জীবনের সমস্ত নিরাপত্তার ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।

সংগঠনের পক্ষে জানানো হয়েছে কোভিড পরিস্থিতিতে ভোট কর্মী এবং ভোটারদের সুরক্ষিত রাখার জন্য সমস্ত রকম উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রতিটি বুথে ভোট কর্মীদের থাকা, খাওয়া ও সঠিকভাবে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া পরিচালনার উপযুক্ত পরিকাঠামোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রিজাইডিং অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তৎক্ষণাৎ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ভোটিং মেটেরিয়ালস জমা দেওয়ার পর বাড়ি ফেরার জন্য উপযুক্ত যানবাহন যথেষ্ট পরিমাণে রাখার কথাও দাবিতে বলা হয়েছে।

সংগঠন চাইছে প্রতিবন্ধীদের ভোট কর্মী হিসাবে নিয়োগ করে তাঁদের হয়রানি বন্ধ করা হোক এবং এবার
বুথ ভিত্তিক নয় পোস্টাল ব্যালট বিধানসভা অনুযায়ী একসাথে মিলিয়ে গননা করা হোক যাতে অসাধু উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা ভোট কর্মীদের রাজনৈতিক মতাদর্শ সনাক্ত করতে না পারেন।

শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পক্ষে অনিন্দ্য সুন্দর পাল, প্রভাত শতপথী এবং প্রতাপ পন্ডা বলেন, এখনো বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়নি তার আগেই আমরা আমাদের জেলায় জেলাশাসকের দপ্তরে ভোট কর্মী হিসেবে আমাদের দাবি গুলি জানিয়ে গেলাম। নির্বাচনের পূর্বে আমরা যদি যথাযথ প্রতিশ্রুতি না পাই কিংবা নিরাপত্তার প্রশ্নে যদি অবহেলা দেখা যায় তাহলে আমরা বিগত দিনের মতো জেলাজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো এবং প্রয়োজনে ভোট কর্মী হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব বয়কট করার ডাক দেবো। আশা করি আমাদের দাবি গুলি নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করবেন।