শুক্রবার দিন ভর ডেবরায় কর্মসূচি হুমায়ুন কবীরের! সেলিমাকে সরিয়ে এবার কি প্রার্থী এই প্রাক্তন আইপিএস

599
Advertisement

নরেশ জানা ও শশাঙ্ক প্রধান : মঙ্গলবার দুপুরটা খোশ মেজাজেই কাটিয়েছেন বর্ধমানের ইস্ট ওয়েস্ট এডুকেশন ইনস্টিটিউটের সরস্বতী পুজোর মন্ডপে। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী অনিন্দিতার এবং পারিবারিক বন্ধুরা। নিজের ফেসবুকেই সেই খোশ মেজাজের ছবিও পোস্ট করেছেন তিনি। বন্ধুদের জানিয়েছেন সরস্বতী পুজোর প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ঠিক এক সপ্তাহ আগে তৃনমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন তিনি আর তারও কয়েকদিন আগে পাকাপাকি অবসর নিয়েছেন চাকরি থেকে। শেষ চাকরিটা ছিল চন্দননগর পুলিশ কমিশনার পদে। অবসর গ্রহনের মাত্র ৬মাস বাকি ছিল তার আগেই নির্বাচন কমিশনের চিঠি পেয়েছিলেন বদলির। না, আর বদলি না নিয়ে সরাসরি অবসর নিয়ে নিয়েছিলেন।

Advertisement

তখন অনেকেই আন্দাজ করতে পারছিলেন যে রাজনীতিতে আসতে চলেছেন তিনি এবং যোগ দিতে চলেছেন তৃনমূল কংগ্রেসেই কারন স্ত্রী অনিন্দিতা কয়েক মাস আগেই যোগ দিয়েছেন শাসকদলেই। আর শাসকদলে যোগ দিলে তিনি যে বড়সড় পদে যাবেন তাতে সন্দেহ কী? কিন্তু চমকটা অন্য জায়গায় আর সেটা হল পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বিধানসভা ক্ষেত্র থেকেই সম্ভবত প্রার্থী হতে চলেছেন তিনি।

Advertisement
Advertisement

না, তৃনমূলের তরফে যদিও এখনও সেরকম কিছুই ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু সম্প্রতি রাজ্য তৃনমূল থেকে ডেবরা ব্লক তৃণমূলকে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে আগামী ১৯তারিখ, শুক্রবার ডেবরার ৩টি জায়গায় কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হবেন তিনি। ‘যাত্রা ক্যাম্পেন’ নামক এই কর্মসূচি অনুযায়ী বলা হচ্ছে ওই দিন সকাল ১০টায় ডেবরার এম.জি. গেষ্ট হাউসে তাঁকে স্বাগত জানাবেন ব্লক নেতৃত্ব। ৫০ থেকে ১০০ জনের উপস্থিতিতে এখানেই জলযোগের পর তিনি যাবেন বালিচক অডিটোরিয়ামে। ১১টা ৪৫ মিনিটে এখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জন দলীয় ছাত্র-যুব নেতা কর্মীদের সঙ্গে পারষ্পরিক আলোচনায় অংশ নেবেন তিনি।

এরপর পথের সাথী হোটেলে পৌঁছাবেন বেলা দেড়টায় এবং সেখানে ১০০জন স্থানীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি দ্বিপ্রহরিক আহার সারবেন তিনি। তাঁর ওই দিনের শেষ কর্মসূচি বেলা সাড়ে তিনটার সময়। বালিচকের নেতাজী ক্লাবে এলাকার ১০০জন শিক্ষক, অধ্যাপক, চিকিৎসক, বুদ্ধিজীবী সহ বিভিন্ন পেশার মানুষদের সাথে মিলিত হবেন।

যদিও তৃনমূলের পক্ষ থেকে এখনও প্রার্থী পদে কারুরই নাম ঘোষণা করা হয়নি কিন্তু এই টানা কর্মসূচি নিয়ে যখন তিনি ডেবরা দিয়েই নিজের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চলেছেন তখন বুঝতে খুব অসুবিধা হয়না যে তাঁকেই এবার এই বিধানসভা ক্ষেত্রে প্রার্থী করা হতে চলেছে। এমনিতেই গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে দীর্ন ডেবরায় নতুন মুখ খুঁজছিল দলের রাজ্য নেতৃত্ব। ২০১১ তে এই বিধানসভায় সিপিএমকে ভালো ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয়ী হয়েছিলেন রাধাকান্ত মাইতি। কিন্তু ভোটে জেতার পর বিভিন্ন কারনে তাঁর এবং তার সঙ্গে দলের জনপ্রিয়তা হু হু করে কমতে শুরু করে।

২০১৬ তে তাই তাঁর বদলে প্রার্থী করা হয় সেলিমা খাতুন বিবিকে। এবার জয় আসে হাজার দশেক ভোটে। এতদিনে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে আর সেলিমার বিভিন্ন কার্যক্রমে জনসমর্থন একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। আর হু হু করে বেড়েছে বিজেপি অন্যদিকে হৃত ক্ষমতা পুনুরুদ্ধার করে নিজেদের জায়গা ফিরে পাচ্ছে বামেরাও। এই অবস্থায় সেলিমাকে প্রার্থী করে ভোটে জেতা অসম্ভব ছিল। হয়ত সে কারণেই বেছে নেওয়া হচ্ছে ২০০৩সালের ব্যাচ এই আইপিএসকে।

সৎ এবং দক্ষ বলে পরিচিত এই প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে প্রার্থী করার পেছনে অবশ্য আরও একটি ফর্মুলা কাজ করছে। তিনি শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর নয় এই ডেবরারই ভূমিপুত্র। মাড়োতলার অদূরেই কাঁসাই নদীর কোল ঘেঁষে বনবারাসতী গ্রামে। মেদিনীপুর কলেজের দুরন্ত ফুটবলার হিসাবেও যেমন দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন তেমনই চলচ্চিত্রে স্বাক্ষর রেখেছেন নিজস্ব প্রতিভার। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ধরেছেন সরস ও আকর্ষণীয় জনপ্রিয় কলম। এর চেয়ে ভালো প্রার্থী আর কে হতে পারেন?

ডেবরার বরিষ্ঠ তৃনমূল কংগ্রেস নেতা তথা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ অলোক আচার্য্য বলেছেন, ‘শুক্রবার তাঁর টানা কর্মসূচি আছে ঠিকই তবে প্রার্থী হবেন তেমন ঘোষণা হয়নি। যদি ব্যক্তিগত ভাবে আমার মত জানতে চান তাহলে বলতে পারি, এই কর্মসূচি তাঁকে যে প্রার্থী করা হচ্ছে এটা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্যই।” ছবি: হুমায়ুন কবীরের ফেসবুক ওয়াল থেকে