পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ! নেই প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য সংরক্ষণ (Quota), প্রতিবাদ জানাল ওয়েল ফেয়ার আ্যশোসিয়েশন

765
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ! নেই প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য সংরক্ষণ (Quota), প্রতিবাদ জানাল ওয়েল ফেয়ার আ্যশোসিয়েশন 1
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ! নেই প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য সংরক্ষণ (Quota), প্রতিবাদ জানাল ওয়েল ফেয়ার আ্যশোসিয়েশন 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের পক্ষ থেকে কনস্টেবল নিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয়েছে কিন্তু সেখানে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের জন্য কোনও সংরক্ষন রাখা নেই এমনই অভিযোগ তুলে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিবাদপত্র পাঠালো এক্স সার্ভিস ম্যান ওয়েল ফেয়ার আ্যশোসিয়েশন। অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের এই সংগঠনটির সদর দপ্তর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরায়।

সংগঠনের সম্পাদক শিবু দাস জানিয়েছেন, “যাঁরা দেশ রক্ষার জন্য বছরের পর বছর সৈনিক হিসাবে মাটিতে, আকাশে, কিংবা জলে নিজেদের জীবনের মূল্যবান সময় অতিবাহিত করেছেন তাঁরা অবসরের পর কেন্দ্র এবং রাজ্যের অসামরিক স্থানে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রাধিকার পাবেন এটা সরকারের স্বীকৃত এবং ঘোষিত নীতি। যদিও আশ্চর্যের বিষয় হল গত কয়েকবছর ধরে বাংলায় এই নীতি বিঘ্নিত হচ্ছে। এবারও তারই প্রমাণ মিলল। সম্প্রতি রাজ্য সরকার পুরুষ কনস্টেবল নিয়োগের জন্য প্রায় সাড়ে ৭হাজার শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করেছেন কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এখানে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের জন্য কোনও সংরক্ষন নেই অথচ আলাদা করে তপশিলি জাতি, উপজাতি, অনগ্রসর শ্রেণীর জন্য সনরক্ষনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ! নেই প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য সংরক্ষণ (Quota), প্রতিবাদ জানাল ওয়েল ফেয়ার আ্যশোসিয়েশন 3

শিবু দাস আরও বলেছেন, “অন্যেরা সনরক্ষন পাচ্ছেন এটা নিয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই কারন দেশের আইন মোতাবেক এই সংরক্ষন তাঁদের প্রাপ্ত কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ঘোষিত নীতি অনুযায়ী গ্রূপ সি পদে মোট শূন্যপদের ৫% এবং গ্রূপ ডি পদে ১০% পদ প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য সংরক্ষন থাকবে কিন্তু এখানে তা করা হয়নি। এই বিষয়টি নিয়েই আমরা রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের পাশাপাশি ডিরেক্টর জেনারেল অফ রি এলকেশোনের দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও আমরা আবেদন জানিয়েছি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য।”

উল্লেখ্য ২২জানুয়ারি থেকে এই আবেদনপত্র অনলাইনে গ্রহণ শুরু করা হয়েছে যা ২০শে ফেব্রুয়ারি’২০২১ বিকাল ৫টায় শেষ হবে। এই পর্বে ৭,৪৪০ জন কনস্টেবল (পুরুষ) এবং ১১৯২জন মহিলা কনস্টেবল নেওয়া হবে। পুরুষ শূন্যপদে তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণী বা ওবিসি ছাড়াও এনভিএফ, সিভিক ভলেন্টিয়ার, সেনসাস কর্মী ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রের জন্য সংরক্ষন থাকলেও কোথাও প্রাক্তন সৈনিকদের জন্য সংরক্ষনের কথা উল্লেখিত হয়নি ওই নিয়োগ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে।

এক্স সার্ভিসম্যান ওয়েলফেয়ার আ্যশোসিয়েশনের সভাপতি বিশ্বজিৎ ভুঞা বলেন, ” এই নতুন নয়, এর আগে প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রেও আমরা এই একই জিনিস দেখেছি। আমাদের বহু অবসর প্রাপ্ত সেনা শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে রেখেও সেই সুযোগ পাননি। কয়েকবছর আগেও এই অবস্থা ছিলনা। হঠাৎ করে সরকার কেন তাঁদের ঘোষিত নীতি থেকে সরে আসলেন বুঝতে পারছিনা। এরকমটা নয় যে কেবলমাত্র অবসরপ্রাপ্ত হওয়ার সুবাদে আমাদের কোনও পরীক্ষা ছাড়াই চাকরিতে নিয়োগ করে দেওয়া হয়। অন্যদের মতই আমাদেরও প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় বসতে হয়, শিক্ষক শিক্ষনের মত ট্রেনিং বা ব্যাংকিং বা যে পদে নিয়োগ চাই তার প্রস্তুতি নিতে হয়। আমরা শুধু সরকারকে তাঁর ঘোষিত নীতি রক্ষা করতে বলছি।”

ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘ একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে সরকার তাঁর এই ধরনের ঘোষিত নীতি থেকে সরে আসলে শুধু যে প্রাক্তন সৈনিকরা দুরবস্থায় পড়বেন এমনটা নয়, ভবিষ্যতে সৈনিকের চাকরিতে যেতে যুবকরা উৎসাহ হারাবেন কারন তাঁরা জানেন যে তাঁদের পুরো যৌবনটা এই পেশায় কাটানোর পর পরিণত বয়সে এসে কিছু সুবিধা প্রদান করে সরকার। সরকার সেই নীতি থেকে সরে গেলে এ রাজ্যের বেকার যুবকরা উৎসাহ হারাবে সেনায় যোগ দিতে আর তাতে বিপদটা হবে আমাদেরই, এই বাংলার। বেকারের সঙ্কটটা আরও বাড়বে।’