নারায়নগড়ে, কেশপুরে জিতছে তৃনমূলই! পুলিশের নামে ‘গোপন’ রিপোর্ট ভাইরাল, মামলা দায়ের পুলিশের

669
নারায়নগড়ে, কেশপুরে জিতছে তৃনমূলই! পুলিশের নামে 'গোপন' রিপোর্ট ভাইরাল, মামলা দায়ের পুলিশের 1

নারায়নগড়ে, কেশপুরে জিতছে তৃনমূলই! পুলিশের নামে 'গোপন' রিপোর্ট ভাইরাল, মামলা দায়ের পুলিশের 2নিজস্ব সংবাদদাতা: দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগেই পুলিশের গোপন রিপোর্ট বলে লিফলেট  আকারে ছড়িয়ে দেওয়া হল বেশ কিছু বিধানসভার সম্ভাব্য ফলাফল আর যাতে দেখানো হল খুবই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জিতে আসছে শাসকদল কিন্তু মার্জিন অসম্ভব কম! দ্য খড়গপুর পোষ্টের হাতে আসা কেশপুর আর নারায়নগড় বিধানসভার এই রিপোর্ট অনুযায়ী দুটি বিধানসভাতেই তৃনমূল জিতে আসছে বটে কিন্তু ব্যবধান এতটাই কম যে শেষ মুহূর্তে প্রতিদ্বন্দি বিজেপি যদি একটু জোর দেয় তবে জয় তাদেরও হতে পারে এমনটাই বোঝানো হয়েছে।

পুলিশের তরফে এই রিপোর্টকে ভুয়ো বলে দাবি করে বলা হয়েছে কারা এই কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এই রিপোর্টে বলা হয়েছে ১১ই মার্চ থেকে ২২শে মার্চ গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে এই সার্ভে করা হয়েছে। রিপোর্টে ফলাফলও দেখানো হয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে এবং অবশেষে বলা হয়েছে কেশপুর বিধানসভায় প্রায় ১৫হাজার এবং নারায়নগড় বিধানসভায় ১ থেকে ২হাজার ভোটে জিততে চলেছে তৃনমূল কংগ্রেস প্রার্থী।নারায়নগড়ে, কেশপুরে জিতছে তৃনমূলই! পুলিশের নামে 'গোপন' রিপোর্ট ভাইরাল, মামলা দায়ের পুলিশের 3

নারায়নগড়ে, কেশপুরে জিতছে তৃনমূলই! পুলিশের নামে 'গোপন' রিপোর্ট ভাইরাল, মামলা দায়ের পুলিশের 4

উল্লেখ্য ২০১৯ লোকসভায় কেশপুর বিধানসভায় ১লক্ষ ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে এগিয়েছিল তৃনমূল অন্যদিকে নারায়নগড়ে শাসকদল পিছিয়ে ছিল প্রায় ৫হাজার ভোটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই রিপোর্ট মোতাবেক কেশপুরে তাঁদের জয় আসলেও ভোট কমে যাচ্ছে প্রায় ৯০ হাজার যা কিনা কর্মীদের মনোবলকে তলানিতে ঠেকিয়ে দেওয়ার মত অন্যদিকে নারায়নগড়ে পরাজয় থেকে জয় তৃনমূল কর্মীদের ব্যাপক আত্মসন্তুষ্টি এনে দিতে পারে যা ভোটের দিনে বুথের লড়াইয়ের পক্ষে মারাত্মক।

তৃনমূলের পক্ষ থেকে এই রিপোর্ট সম্পর্কে সাবধান করে কর্মীদের বলা হয়েছে, “কোনওভাবেই এই রিপোর্টকে গ্রাহ্য করবেননা। এটা একটা গভীর চক্রান্তের অংশ। কোথাও আমাদের ভোট বাড়িয়ে, কোথাও ভোট কমিয়ে কর্মীদের মনোবল ভেঙে নির্বাচনের দিনের লড়াইকে লঘু করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি সমর্থককে বুথে আনা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিজেপির ফাঁদ এড়িয়ে যেতে হবে। নির্বাচনের দিন বুথে বুথে মাটি কামড়ে পড়ে থাকুন।” বুধবার প্রতিটি বুথ কমিটিকে এমনই নির্দেশ দিয়েছে তৃনমূল।

অন্যদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, ‘সম্পুর্ন ভুয়ো রিপোর্ট এটি। যারা এই রিপোর্ট তৈরি করেছে তাদের বাংলা ভাষা জ্ঞান নিয়েই সন্দেহ রয়েছে। রিপোর্টের শেষে নির্যাস হিসাবে দেবনাগরী উচ্চারণকে বাংলা বলে চালানো হয়েছে যা কিনা হিন্দি ভাষাভাষীরা করে থাকেন। যেমন বলা হয়েছে অমুক বিধানসভা কেন্দ্রে তৃনমূল কংগ্রেস এত ভোটে বিজয় প্রাপ্ত হবে। বাংলায় এই বিজয় প্রাপ্ত শব্দটি ব্যবহার হয়না। বাংলায় সরাসরি বলা হয় বিজয়ী হবে বা জয়ী হবে। এটা থেকেই পরিষ্কার হিন্দিভাষী কোনও চক্র এই কাজ করছে যারা সম্ভবত এই নির্বাচন উপলক্ষ্যে বাংলায় সক্রিয়। কারা তারা আমরা খোঁজ করছি।”

পশ্চিম মেদিনীপুর পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, পুলিশের লোগো ব্যবহার করে যারা এই দুষ্কর্ম করেছে তাঁদের খোঁজ করছি আমরা। একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে নির্দিষ্ট ভাবে।