ইন্দোনেশিয়া থেকেই জ্বর, করোনা সন্দেহে পূর্ব মেদিনীপুরের ব্যবসায়ীকে পুলিশ আর স্বাস্থ্য আধিকারিকরা নিয়ে গেলেন বেলেঘাটা আই.ডিতে

222
ইন্দোনেশিয়া থেকেই জ্বর, করোনা সন্দেহে পূর্ব মেদিনীপুরের ব্যবসায়ীকে পুলিশ আর স্বাস্থ্য আধিকারিকরা নিয়ে গেলেন বেলেঘাটা আই.ডিতে 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: ব্যবসায়ী কিছুতেই যাবেন না আর নাছোড়বান্দা পুলিশ আর স্বাস্থ্যদপ্তর। দুপুর থেকে বিকাল অবধি চলল দড়ি টানাটানি। আর তারপরই পুলিশের হুমকি, না যেতে চাইলে এবার চ্যাংদোলা করে নিয়ে যাওয়া হবে। বাধ্য হয়ে ব্যবসায়ী সুড়সুড় করে উঠে পড়লেন পূর্ব মেদিনীপুরের স্বাস্থ্য দপ্তরের গাড়িতে। গাড়ি ছুটল কলকাতার বেলেঘাটা আই.ডি হাসপাতাল, পশ্চিমবাংলার করোনা আক্রান্তদের জন্য একমাত্র চিকিৎসা পরিকাঠামো যুক্ত হাসপাতালে।

 

ইন্দোনেশিয়া থেকেই জ্বর, করোনা সন্দেহে পূর্ব মেদিনীপুরের ব্যবসায়ীকে পুলিশ আর স্বাস্থ্য আধিকারিকরা নিয়ে গেলেন বেলেঘাটা আই.ডিতে 2

পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর এলাকায় এমনই ঘটনার স্বাক্ষী থাকলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এই ব্যক্তি নোবেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা, তা নির্দিষ্ট পরীক্ষার আগে বলতে রাজি হননি জেলা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকরা। তবে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাঁর বাড়ি থেকে বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করে নিয়েছেন জেলা প্রশাসনের এক কর্তা।

ভগবানপুরের বনমালিপুর গ্রামের বাসিন্দা গোবিন্দ সাউ রড ও সিমেন্টের ডিলার। কিছু দিন আগে বিজনেস ট্যুরে ইন্দোনেশিয়া গিয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়া থেকে দেশে ফিরে এলেও কোলকাতা বিমানবন্দরে থার্মাল স্কানিং না করিয়ে চলে আসেন কোন ভাবে। কিন্তু গ্রামের বাড়িতে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যে তিনি জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা তাঁকে নির্দিষ্ট পরীক্ষার কথা বললেও তিনি তা করাতে রাজি হননি।

 

এরপর এদিন দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য দফতর পুলিশের সহযোগিতায় আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে উপস্থিত হন। বিকেল নাগাদ তাঁকে বেলেঘাটা আই ডি হাসপাতালে পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক (সি এম ও এইচ) নিতাই মণ্ডল বলেন, ‘এই ব্যক্তি ব্যবসার জন্যে বিদেশে গিয়েছিলেন। ফেরার পর তিনি জ্বর ও কাশিতে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

ওনাকে নির্দিষ্ট পরীক্ষার জন্যে বলা হলেও কোন ভাবে পরীক্ষার জন্যে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে পরীক্ষার জন্যে কোলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উনি করোনা আক্রান্ত কিনা তা নির্দিষ্ট পরীক্ষার পর বলা সম্ভব। জেলাতে এখনো এই রোগে আক্রান্তের খবর নেই । সুতরাং এ নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।