শিলিগুড়িতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা! আটক একাধিক

522
Advertisement

অশ্লেষা চৌধুরী: গৃহবধূ থেকে কলেজ পড়ুয়া, যুবতী, কিশোরী এমনকি মধ্যবয়সী মহিলা। নানা ধরনের নানা ভাষাভাষী। এরাজ্যে তো বটেই এমনকি ভিন রাজ্য। নানা ধরনের যুবক যুবতী, নারী পুরুষের যাতায়তে গম গম করছিল বাড়ি গুলি। নজরে পড়ছিল আশেপাশের মানুষ, বাসিন্দাদের। একটা নয়, বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সকলের চোখে ধুলো দিয়ে চলছিল রমরমিয়ে দেহ ব্যবসা। তবে আচমকাই হানা দিল পুলিশ, আটক করা হল বেশ কয়েকজনকে। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরবঙ্গের প্রাণ শহর শিলিগুড়িতে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ির ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সন্তোষীনগর এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরেই কয়েকটি বাড়িতে বহিরাগত যুবতী ও মহিলাদের আনাগোনা লেগেই থাকত। এছাড়াও অপরিচিত ব্যক্তিদের সেইসব বাড়িগুলিতে ঢুকতে দেখতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ভেতরে কী চলছে আন্দাজ করতে পারলেও ছিল প্রমাণের অভাব।

Advertisement
Advertisement

অবশেষে খবর দেওয়া হয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটরকে। এরপরেই খবর যায় পুলিশে। স্থানীয়দের অভিযোগ পেয়ে সেই এলাকায় অভিযান চালায় খালপাড়ার ফাঁড়ির পুলিশ। শুরু হয় তল্লাসি অভিযান। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্দিষ্ট বাড়ির পাশাপাশি আশেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও অভিযান চালান পুলিশ কর্মীরা। দেখা যায়, এক একটি বাড়িতে ছোট ছোট প্রচুর ঘর। সেখানে কারা আসছেন, কারা যাচ্ছেন তার কোনও তথ্যই কো-অর্ডিনেটর কিংবা পুলিশের কাছে নেই। একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে হাতেনাতে ধরে আটকও করে খালপাড়া ফাঁড়ির পুলিশ।

এদিন দুর্গা সিং বলেন, “স্থানীয়দের থেকে খবর পেয়েই আসি। পুলিশকে ফোন করি। দুজন ধরাও পড়েছে। তারা স্বীকারও করে যে, দেহ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।“ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ‘বহুদিন ধরেই এলাকায় কিছু বাড়ীতে বহিরাগত যুবতী ও মহিলাদের আনাগোনা লেগেই ছিল। পাশাপাশি অপরিচিত ব্যক্তিদের সেইসব বাড়িগুলিতে ঢুকতে দেখতেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু প্রমাণের অভাবে কাউকে ধরা যায়নি।‘

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, শনিবার রাতেই ২০-২৫ জন যুবতী পালিয়ে যায়। ভিনরাজ্য থেকেও অনেকে এসে থাকছেন এখানে, যাদের কোনও তথ্য নেই। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানোর পর, পুলিশ আটক করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে জোরকদমে।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেও শিলিগুড়িতে মধুচক্র চালানোর অভিযোগে একটি হোটেল থেকে কয়েকজন যুবক-যুবতীকে আটক করেছিল পুলিশ। পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়, এতদিন কিছু বেআইনি হোটেলে দেহ ব্যবসার কাজ চলছিল। সেখানে পুলিশের নজরদারি জোরদার হওয়ায় নতুন কৌশল নিয়েছে দেহ ব্যবসায়ীরা।