রাজ্যে সংক্রমণের মাত্রা উদ্বেগজনক! শুধুই মেদিনীপুর নয়, পুজোর মধ্যেই করোনায় প্রাণ হারালেন ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক

1367
রাজ্যে সংক্রমণের মাত্রা উদ্বেগজনক! শুধুই মেদিনীপুর নয়, পুজোর মধ্যেই করোনায় প্রাণ হারালেন ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক 1

ওয়েব ডেস্ক : শুধুই মেদিনীপুর নয়, পুজোর মধ্যেই রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৪ জন চিকিৎসকের। বিজয়ার পরের দিন মঙ্গলবার মেদিনীপুরে নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয়েছে সিউড়ি হাসপাতালের জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক অমল রায়ের। ওই সিউড়ি হাসপাতালেই অষ্টমীর দিন মৃত্যু হয় আরও এক চিকিৎসকের। এছাড়াও মৃত্যু হয়েছে আরও ২ প্রবীন চিকিৎসকের। সব মিলিয়ে অবস্থা ক্রমশই মারাত্মক হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক মহল। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে সংক্রমণের মাত্রা দিন দিন ক্রমশ বাড়ছে। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নয়, একই সাথে পাল্লা দিয়ে করোনায় সংক্রমিত হয়ে চিকিৎসাধীন রাজ্যের একাধিক চিকিৎসক। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে চিকিৎসকদের তরফে বারংবার অনুরোধ, সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও কোনোমতেই টনক নড়ছে না সাধারণ মানুষের।

তার ওপর এই মূহুর্তে রাজ্যে একাধিক উৎসব চলছে। দূর্গাপুজোয় অবশ্য আদালতের তরফে সাধারণ মানুষের মণ্ডপে না ঢোকার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কী? মণ্ডপে ভিড় না হলেও সামাজিক দূরত্ববিধি শিকেয় তুলে মানুষ দেদারে রাস্তায় বেরিয়েছে। এদিকে পুজোর মধ্যেই করোনায় সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হল রাজ্যের আরও ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককের। জানা গিয়েছে, পুজোর মধ্যেই করোনা সংক্রমিত হয়ে মৃত্যু হয়েছে বর্ধমানের মেমারির বাসিন্দা বছর ৭৫ এর চিকিৎসক দিলীপ ভট্টাচার্যের। পাশাপাশি দিন দুয়েক আগেই করোনা যুদ্ধে হেরে গিয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক সুজন কুমার মিত্র (৮০)।

রাজ্যে সংক্রমণের মাত্রা উদ্বেগজনক! শুধুই মেদিনীপুর নয়, পুজোর মধ্যেই করোনায় প্রাণ হারালেন ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক 2

একই সাথে পুজোর মধ্যেই মৃত্যু হয়েছে রাজ্যের আরও দুই চিকিৎসক অমল রায় এবং দিলীপ বিশ্বাস (৬৫)-র। জানা গিয়েছে, চিকিৎসক দিলীপ বিশ্বাস বেশকিছুদিন ধরেই সিউড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অষ্টমীর দিন আচমকা তাঁর মৃত্যু হয়। একই সাথে কিছুদিন আগেই করোনায় সংক্রমিত হয়েছিলেন চিকিৎসক অমল রায়। এরপর তাঁর শরীরে একিউট কোভিড নিউমোনিয়া বাসা বাঁধে। বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালেই মৃত্যু হয় ওই চিকিৎসকের।

আরও পড়ুন -  নদীতে মাঝধরতে গিয়ে কাকদ্বীপ মৎস্যবন্দরে ট্রলার বিস্ফোরণ, গুরুতর জখম ১

এদিকে গত একমাসের সরকারি বুলেটিন অনুযায়ী যত দিন যাচ্ছে রাজ্যে সংক্রমণের মাত্রা ক্রমশ বাড়ছে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। তবে শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নয় পাশাপাশি আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছে চিকিৎসকরাও। শেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার পর্যন্ত এ রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের মৃত্যু সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ জন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই যতদিন যাচ্ছে চিকিৎসক মহলে আশঙ্কা ও উদ্বেগ দুইই ক্রমশ বাড়ছে। এবিষয়ে ওয়েস্টবেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের ডঃ রাজীব পান্ডে বলেছেন, “আমরা হাতজোড় করে সকলের কাছে অনুরোধ করেছি। যেভাবেই হোক এই সংক্রমণ-মৃত্যু আটকাতে হবে। কিন্তু বাস্তব তো দেখলাম। উদ্বেগ বাড়ছে। প্রাণ বাঁচানোর কাজে যুক্ত চিকিৎসক-চিকিৎসাকর্মীরাও প্রাণ হারাচ্ছেন।”

আরও পড়ুন -  শব্দছন্দ পত্রিকার ত্রিংশতি বর্ষপূর্তি উৎসব উদযাপন ও শারদ সংকলন প্রকাশ

একই সাথে এবিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অফ হেলথ সার্ভিসেস ডক্টরসের রাজ্য সম্পাদক মানস গুমটা বলেন, “প্রশাসন বা সাধারণ মানুষের কাছে আমরা প্রতি মুহূর্তে সতর্ক করেছি, করছিও। কিন্তু কেউ কেউ দায়িত্ব পালন করলেও অনেকেই উদাসীন। জানি না কী ভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা হবে। চিকিৎসকেরা আপ্রাণ লড়ছেন। কিন্তু তাঁদেরও ক্লান্তি আছে। এটা মনে রাখতে হবে। চিকিৎসকরা মৃত্যুর বলি হচ্ছেন প্রায় প্রত্যেকদিনই। এখনও সময় আছে, সতর্ক হতে হবে।” তবে এই মূহুর্তে রাজ্যের যা পরিস্থিতি তাতে সাধারণ মানুষ যদি সচেতন না হন সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মহল।