চার মন্ত্রী শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেই! হুমায়ুনের হাত ধরে প্রথম মন্ত্রী পেল ডেবরা, শুভেন্দুকে টক্কর দিয়ে মন্ত্রীসভায় অখিল, তরুণ মুখ ঝাড়গ্রামের বীরবাহা

224
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুধু পশ্চিম মেদিনীপুর থেকেই ৪জন ঠাঁই পাচ্ছেন তৃনমূল জামানার তৃতীয় মন্ত্রীসভায় যার মধ্যে প্রথমবার জিতেই ডেবরা থেকে মন্ত্রী হচ্ছেন প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক হুমায়ুন কবীর। এমনইতেই টক্কর লড়াইয়ের ডেবরা যেন এবার মন্ত্রীপদ পাওয়ার জন্য তৈরি হয়েই ছিল। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়েছিল বিজেপি প্রার্থী আরেক প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক ভারতী ঘোষের। বিজেপি জয়ী হলে ভারতী ঘোষের মন্ত্রিত্বপদ পাওয়া পাক্কাছিল অবশ্য সেক্ষেত্রে যদি তিনিও জয়ী হতেন। সে জায়গায় তৃনমূল থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী সভায় চলে এলেন হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবীর আবার ডেবরার ভূমিপুত্রও বটে। তাঁর কলেজ জীবন মেদিনীপুর কলেজেই। সুলেখক কবীর অভিনয়ও করেছেন চলচিত্রে এবার একেবারে নতুন ভূমিকায় আসতে চলেছেন। শুধু তাই নয় তাঁর হাত ধরে ডেবরা বিধানসভা এই প্রথম মন্ত্রিত্ব পাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত ডেবরা। বিশেষ করে ডেবরার ভবানীপুর, ভরতপুর, গোলগ্রাম আর মলিহাটি গ্রামপঞ্চায়েতের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক বাসিন্দা এবার স্বপ্নের লোয়াদা সেতু বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

Advertisement

কেশপুর থেকে জিতে প্রথম মন্ত্রীসভায় যাচ্ছেন শিউলি সাহা। এর আগে কেশপুর থেকে মন্ত্রী হয়েছিলেন সিপিএমের নন্দরানী ডল। কেশপুর কলেজ, অজস্র স্কুল, প্রেক্ষাগৃহ সহ প্রচুর বিদ্যালয়কে উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিকে উন্নতিকরন করেছিলেন তিনি। শিউলি সাহার হাত ধরে ফের উন্নয়নের অপেক্ষায় কেশপুর। শালবনী থেকে জয়ী হয়ে মন্ত্রী হতে চলেছেন শ্রীকান্ত মাহাত। ঠিক শালবনী না হলেও বিধানসভার পুনর্বিন্যাস হওয়ার আগে এই সংলগ্ন বেশকিছুটা জায়গা সহ একসময় গড়বেতা বিধানসভার মধ্যে ছিল যেখানে মন্ত্রী ছিলেন সিপিএমের সুশান্ত ঘোষ। সবং থেকে ফের মন্ত্রী হতে চলেছেন মানস ভূঁইয়া। ভূঁইয়া প্রথম মমতা মন্ত্রীসভার সেচ মন্ত্রী ছিলেন কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইউপিএ থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করায় ভূঁইয়া মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন।

Advertisement
Advertisement

এদিকে প্রথমবার ভোটে জিতেই ঝাড়গ্রাম থেকে মমতা মন্ত্রীসভায় যাচ্ছেন একেবারে তরুণ মুখ বীরবাহা হাঁসদা। বঙ্গ রাজনীতিতে চমকপ্রদ উত্থান তাঁর। বাবা প্রাক্তন বিধায়ক প্রয়াত নরেন হাঁসদার আসনে একসময় বিধায়ক হয়েছিলেন মা চুনিবালা হাঁসদা। পরে অবশ্য নরেন হাঁসদা প্রতিষ্ঠিত দল ঝাড়খন্ড পার্টি- নরেন সাইনবোর্ডে পরিণত হয়। তৃনমূলের এবারের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগের দিনই তৃনমূলের পতাকা নেন এবং প্রার্থী হয়ে যান। পরাজিত করেছেন বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি সুখময় সৎপথিকে এবং প্রথমবারই মন্ত্রী। তৃনমূল মন্ত্রিসভায় ঝাড়গ্রাম থেকে প্রথম মন্ত্রী হয়েছিলেন সুকুমার হাঁসদা। পরে তিনি ডেপুটি স্পিকার হয়েছিলেন।

পূর্ব মেদিনীপুরে শুভেন্দু অধিকারীকে টক্কর দিয়ে রামনগর থেকে মন্ত্রী হচ্ছেন অধিকারী পরিবারের চির প্রতিদ্বন্দ্বী অখিল গিরি। রাজনীতিতে অধিকারী পরিবারের চির প্রতিদ্বন্দ্বী অখিল গিরি যেন রবিনসন ক্রুশো। সারাজীবনই প্রায় একই রাজনৈতিক দলে অবস্থান করছে অধিকারী আর গিরি পরিবার কিন্তু পরস্পর বিরোধী। আর সেই কারণেই বোধহয় শিশির অধিকারীর মাথা টপকে অখিলের দিকে পুরস্কার বাড়িয়ে দিতে কুন্ঠিত হয়েছে কলকাতার নেতারা। কিন্তু হাল ছাড়েননি অখিল। রবিনসন ক্রুশোর মতই বারবার হেরেও নতুন উদ্যোমে লড়াইয়ে নেমে পড়েছেন। অবশেষে সেই আকাঙ্খিত পুরস্কার। বিজেপির হাত ধরে যখন তৃনমূল শিবির ছেড়ে দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী এন্ড কোং তখন অখিল গিরির পাওনা আটকাবে কে ? সোমবার ১০টা ৪৫ মন্ত্রিসভার শপথে রামনগরের বিধায়ক।

গত বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বার শপথ নিয়েছেন মমতা। রবিবার সেই তৃতীয় মন্ত্রিসভার ৪৩ জন মন্ত্রীর তালিকা রাজভবনে জমা দিলেন তিনি। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ২৪ জন। বাকি ১৯ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে ১০ জন পাচ্ছেন স্বাধীন দফতর। রবিবার যে তালিকা পাঠানো হয়েছে তাতে পুরনো মন্ত্রীরা অনেকেই থাকছেন। সেই সঙ্গে এ বার ১৭ জন নতুন মুখ দেখা যাবে। আবার নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। অন্য দিকে, কামারহাটি বিধানসভা আসনে জয় পেলেও তালিকায় নাম নেই রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী মদন মিত্রর। বাদ পড়েছেন গত মন্ত্রিসভার দুই সদস্য তাপস রায় ও নির্মল মাঝি। এবারের মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হচ্ছেন বঙ্কিম হাজরা, রথীন ঘোষ, পুলক রায়, বিপ্লব মিত্র, হুমায়ুন কবীর, অখিল গিরি, রত্না দে নাগ, বুলুচিকি বরাইক, দিলীপ মণ্ডল, আক্রুজ্জমান, শিউলি সাহা, শ্রীকান্ত মাহাত, বীরবাহা হাঁসদা, জ্যোৎস্না মান্ডি, পরেশ অধিকারী, মনোজ তিওয়ারি।