পেট ব্যথা থেকে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, ছোট্ট পাতায় মিলবে সমাধান

327
পেট ব্যথা থেকে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, ছোট্ট পাতায় মিলবে সমাধান 1
পেট ব্যথা থেকে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, ছোট্ট পাতায় মিলবে সমাধান 2

নিউজ ডেস্ক: আগেকার সময়ে পেটের ব্যথা বা পেত খারাপ হলেই মা, দিদা এক ধরণের পাতা বেঁটে গরম ভাতের সাথে মেখে খাইয়ে দিতেন। আর চোখের নিমেষেই উধাও হয়ে যেত পেটের ব্যথা। সেই পাতাটির নাম থানকুনি পাতা। তবে এই পাতা শুধু মাত্র পেটের সমস্যার সমাধানে নয়, হাজার গুণের ওষুধ। কেবলমাত্র ঘরোয়া টোটকা নয়, প্রাচীন আর্য়ুবেদ শাস্ত্রেও এই পাতার প্রচুর গুণাগুণ বর্ণিত রয়েছে। অনেক ওষুধও তৈরি হত এই পাতার রস থেকে। তবে আজকাল এই পাতার ব্যবহার কমে গেছে। কিন্তু শরীরকে নানা দিক দিয়ে সুস্থ রাখতে এই পাতার জুড়ি নেই। আর আমাদের দেশেই কেবল নয়, খ্রিস্টপূর্ব ১৭ শতক থেকেই আফ্রিকা, জাভা, সুমাত্রাতেও ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয় এই পাতা। মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও এই পাতা বাটা খুবই উপকারী। নিয়মিত থানকুনি পাতা খেলে আরও যেসব উপকার পাওয়া যায়, আসুন জেনে নেওয়া যাক-

শরীরে রক্ত প্রবাহ ঠিক থাকে : অনেকের থ্রম্বোসিসের সমস্যা থাকে। এছাড়াও অনেকের দেহেই নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার কারণে রক্তপ্রবাহে সমস্যা হয়। থানকুনি পাতার রস খেলে রক্ত শুদ্ধ থাকে। সেই সঙ্গে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রাও ঠিক থাকে। ফলে হাত, পা ফুলে যাওয়া এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পেট ব্যথা থেকে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি, ছোট্ট পাতায় মিলবে সমাধান 3

মানসিক অবসাদ কমায় : যারা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য থানকুনি পাতার রস বেশ উপকারী। থানকুনি পাতা স্ট্রেস হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে মানসিক চাপ আর অস্থিরতা দুই কমে।

ক্ষত নিরাময়ে : কোনও ভাবে আঘাত পেলে কিংবা কোথাও কেটে গেলে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করতে থানকুনি পাতা বেশ কার্যকরী। এই পাতা বেটে কাটা জায়গায় লাগালে ব্যথা কম হবে আর রক্ত পড়াও বন্ধ হয়ে যাবে। এমনকি ক্ষত থেকে সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকবে না।

পেটের সমস্যা কমায় : পেটের যে কোনও রোগে থানকুনি পাতা খুব ভালো। আমাশয় থেকে আলসার সবই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এ পাতা খেলে। যাদের হজমের সমস্যা আছে তারা নিয়মিত থানকুনি পাতা খেতে পারেন।

মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে : নিয়মিত থানকুনি পাতা খাওয়া শুরু করলে শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পেন্টাসাক্লিক ট্রিটারপেনস নামের একটি উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে, যে কারণে মস্তিস্কের সেল ভালোভাবে কাজ করতে পারে। নিয়মিত এ পাতা খেলে স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়। এমনকী অ্যালঝেইমারের মতো অসুখের ওষুধও তৈরি হয় এই পাতার রস থেকেই।

ঘুমের সমস্যা দূর করে : যাদের ঘুমের সমস্যা আছে তারা প্রতিদিন সকালে উঠে থানকুনি পাতা ভেজানো জল খান। এতে স্নায়ু শিথিল হবে, সেই সঙ্গে ঘুমও ভালো হবে।

ডিটক্সিফিকেশন : অনেকেই জানেন, লেবুর রস শরীরের ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে। এসবের মতো থানকুনি পাতাও ভালো ডিটক্সিফিকেশন করে। প্রতিদিন থানকুনি পাতার রসের সঙ্গে এক চামচ মধু মিশিয়ে খান। এতে শরীর থেকে টক্সিন বেরিয়ে যাবে।

এসব ছাড়াও, কোনও কারণে শরীরের ভেতরে ক্ষত হলে নানা রকম সমস্যা যেমন-জ্বর, ক্লান্তি এসব সমস্যা দেখা দেয়। সেইসাথে খিদে কমে যাওয়া, পেশির ব্যথাও হয় অনেক সময়। থানকুনি পাতার মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটারি উপাদান থাকায় এটি জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে সহায়তা রাখে। এই পাতা ক্লান্তি ভাবও দূর হয়। সেই সঙ্গে অনেক রকম সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে।