গোয়ালতোড়ে কুকুরের তাড়া খেয়ে পুকুরে পড়ে মৃত্যু হল হরিণীর

324
গোয়ালতোড়ে কুকুরের তাড়া খেয়ে পুকুরে পড়ে মৃত্যু হল হরিণীর 1

নিজস্ব সংবাদদাতা, গোয়ালতোড় :- লোকালয়ে ঢুকে কুকুরের তাড়া খেয়ে পুকুরে পড়ে মৃত্যু হল একটি হরিণীর। পশ্চিম মেদিনীপুরের গোয়ালতোড় থানা এলাকার একটি গ্রামের পুকুর থেকে সোমবার উদ্ধার করা হয়েছে হরিণীটিকে। তখনও জীবিত ছিল হরিণী। তাকে উদ্ধার করার পর অবশ্য বাঁচানো যায়নি।  ঘটনায় রীতিমত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

গোয়ালতোড়ে কুকুরের তাড়া খেয়ে পুকুরে পড়ে মৃত্যু হল হরিণীর 2

ঘটনাটি ঘটেছে গোয়ালতোড়ের পূর্ব মাইলিসায়ে। যদিও হরিণীটি পুকুরে পড়ার সময় কোনও প্রত্যক্ষদর্শী ছিলনা তাই নিশ্চিত করে বলা যায়না যে কুকুরের তাড়া খেয়েই ওটি পুকুরে পড়েছিল তবে বনকর্মীদের প্রাথমিক অনুমান কুকুরের তাড়া খেয়েই মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে এদিন সকালে পূর্ব মাইলিসাই স্থানীয় একটি পুকুরে গ্রামবাসীরা হরিণীটিকে জলে হাবুডুবু খেতে দেখেন। তারা পুকুর থেকে হরিণীটিকে উদ্ধার করে পুকুরের পাড়ে তুলে এনে বনদপ্তরের মাইলিসাই রেঞ্জ অফিসে খবর দেয়। হরিণীটিকে জল থেকে উদ্ধার করার পর মুহুর্তেই মারা যায়।

গোয়ালতোড়ে কুকুরের তাড়া খেয়ে পুকুরে পড়ে মৃত্যু হল হরিণীর 3

ঘটনাস্থলে আসে বনকর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হরিণীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা কোনো কুকুর বা শিয়ালের কামড়ের মতো। গ্রামবাসীরা আরো জানান রাতের বেলায় পুকুরের এই দিকে কুকুরের প্রচুর চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। তাতেই তাদের অনুমান হয়তো সেই সময়েই হরিণীটি কে কুকুর‍ তাড়া করে। এবং কুকুরের কামড় খেয়ে নিজের প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে নেমে পড়ে। তারপর আর সেখান থেকে উঠতে পারেনি৷

বনকর্মীদের অনুমান, সম্ভবতঃ হরিণটিকে জলে নামতে দেখে পুকুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে ছিল কুকুরের দল। ফলে হরিণটি উঠতে পারেনি।সারারাত্রি পুকুরের ওই ঠান্ডা জলে থাকার দরুন অবস্থা কাহিল হয়ে গিয়েছিল৷ ভোরের দিকে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে জল থেকে উদ্ধার করলেই শেষ রক্ষা হয়নি। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানান, হরিণীর পিঠের দিকে কামড়ের দাগ রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই আসল কারণ জানা যাবে।

উল্লেখ্য পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার জঙ্গলমহল বলেই খ্যাত গোয়ালতোড়ের গোয়ালতোড় ও পূর্ব মাইলিসাই ফরেস্ট রেঞ্জে হরিনের সংখ্যা যথেষ্ট বেড়ে চলেছে। বনকর্তাদের শ্লাঘার বিষয় যে, উপযুক্ত পরিবেশ এবং জঙ্গলের ঘনত্ব বাড়াতেই এটা সম্ভব হয়েছে। কিন্ত পাশাপাশি এটাও সত্যি যে পর্যাপ্ত খাবার না মেলায় হরিণের পাল মাঝে মধ্যেই হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। গ্রাম লাগোয়া কচি ধানের চারাই তাদের লক্ষ্য। আর এটা করতে গিয়েই কখনও যান বাহনের সাথে দুর্ঘটনা আবার কখনও কুকুরের তাড়ায় প্রাণ সংশয় হচ্ছে এদের।

Previous articleনিউ নর্মালে পর্যটকদের ঠিকানা হোক হিমালয় ঘেঁষা বাংলা! শুরু হচ্ছে বেঙ্গল হিমালয় কার্নিভাল
Next articleদিঘায় ৬০০ কেজির দানব হাঙর! বিক্রি হল আশি হাজার টাকায়, খাদ্যের বাজার মূল্য দাঁড়াবে ৫লক্ষ টাকা