উদোর পিন্ডি চাপলো বুধোর ঘাড়ে ! বাবার মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে বেরুলো অন্যের দেহ

233
উদোর পিন্ডি চাপলো বুধোর ঘাড়ে ! বাবার মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে বেরুলো অন্যের দেহ 1

নিউজ ডেস্ক: মৃতদেহ বদলে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি হাসপাতাল চত্বরে। অভিযোগ, হাসপাতালের গাফিলতিতে মৃতদেহ অদলবদল হয়েছে। অপরদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবী, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নয়, মৃতদের পরিবারের সদস্যরা দেহ চিনতে ভুল করাতেই এই কাণ্ড ঘটেছে। আর এই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে সরগরম দুর্গাপুরের ঐ হাসপাতাল চত্বর।

জানা গিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের ২৪ তারিখ ধানবাদের নিরসার বাসিন্দা ৫৫ বছরের চম্পাই মাজিকে স্নায়ুরোগ নিয়ে আইকিউ সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার বেলার দিকে মৃত্যু হয় চম্পাই মাজির। মৃতদেহ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়। গতকাল, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ীর লোক মৃতদেহ মর্গ থেকে নিয়ে যান। অপরদিকে, সরস্বতী পুজোর আগে ব্রেনের সমস্যা নিয়ে আইকিউ সিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন দুর্গাপুরের লাউদোহার ইছাপুরের বাসিন্দা পরেশ সামন্ত। ৭৮ বছরের ওই রোগীও বুধবার মারা যান হাসপাতালে। তাঁর দেহও রাখা হয় মর্গে। যথারীতি তাঁর পরিবারের লোকও মর্গ থেকে এসে মৃতদেহ নিয়ে যায়।

উদোর পিন্ডি চাপলো বুধোর ঘাড়ে ! বাবার মৃতদেহ সৎকার করতে গিয়ে বেরুলো অন্যের দেহ 2

এরপরেই হয় মূল নাটকের সূত্রপাত। পরেশ সামন্তর মৃতদেহ ত্রিবেণীতে সৎকার করতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেখেন, মৃতদেহ অন্য কারও। ততক্ষণে লাউদোহার পরেশ সামন্তর মৃতদেহ পৌঁছে গেছে ধানবাদে। অভিযোগ, ইছাপুরের পরেশ সামন্তর জায়গায় তাঁর পরিবারের হাতে ধানবাদের চম্পাই মাজির মৃতদেহ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর ধানবাদের চম্পাইয়ের পরিবারের হাতে দেওয়া হয়েছে পরেশ সামন্তর মৃতদেহ। আইকিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় এই কাজ হয়েছে বলেই ওঠে অভিযোগ। ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতের আত্মীয়রা। হাসপাতালে দুই পরিবারের তরফেই ক্ষোভ দেখানো শুরু হয়।
মৃত পরেশ সামন্তর মেয়ে সমাপ্তি সামন্ত বলেন, “বাবাকে ১৫ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল ব্রেন স্ট্রোকের সমস্যা নিয়ে। বুধবার রাতে বাবার মৃত্যু হয়। সকালে মৃতদেহ প্লাস্টিকে মুড়ে আমাদের দেন হাসপাতাল কতৃপক্ষ। এর পর দাহ করার সময়ে দেহ বদল হয়েছে বলে জানতে পারি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত গাফিলতির জন্য ভুগতে হচ্ছে।”
একই অভিযোগ তুলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় তোলেন মৃত চম্পাই মাজির পরিজন দশরথ যাদব।

কর্তৃপক্ষের তরফে অবশ্য পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মৃতের পরিবার কেন দেখে নেয়নি দেহ। আইকিউ হাসপাতালে সিইও ডক্টরর পরমহংস মিশ্র বলেন, “পরিবার দু’টিকে মৃতদেহ তুলে দেওয়ার সময় দেহ দেখিয়েই খাতায় সই করানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের দেহ চিনতে ভুল হওয়ার কারণেই এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনও রকম দায়ী নয়।”

উল্টে দুই পরিবারেরই অভিযোগ, তাঁদের দেখতে দেওয়া হয়নি মৃতের দেহ। কোভিড মহামারীর প্রোটোকল মেনে দেহ পরিবারের হাতে দেওয়ার সময় তা সম্পূর্ণভাবে প্লাস্টিকে মোড়া ছিল।

বিষয়টি নিয়ে যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করে, তবে তা বিফল হয়। ঘটনায় দুই পরিবারের তরফেই ক্ষোভ দেখানো শুরু হওয়ায় ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয় হাসপাতাল চত্বরে। আর ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিরোনামে উঠে আসে দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি হাসপাতাল।