কথা রাখেনি কমিশন, প্রতিবন্ধীদেরও নিতে বলা হল ভোটের প্রশিক্ষণ! ক্ষুব্ধ শিক্ষক সংগঠন

492
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে প্রতিবন্ধীদের নির্বাচনের কাজে যুক্ত না করার আবেদন জানানো হয়েছিল বিভিন্ন শিক্ষক, কর্মচারী সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে। কমিশনের তরফে বলাও হয়েছিল বিষয়টি ভেবে দেখার কিন্তু কাজের কিছুই হলনা। অন্য বারের মত এবারও বহু শারীরিক প্রতিবন্ধীকে ভোট কর্মী হিসাবে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানালেন এক শিক্ষক সংগঠনের নেতৃত্ব।

Advertisement

ওই সংগঠনের পক্ষে দাবি করা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে ভরসা দেওয়া হয়েছিল শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরকে ভোট কর্মী হিসাবে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া হবে না।
কিন্তু এবারও বহু শারীরিক প্রতিবন্ধীকে ভোট কর্মী হিসাবে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট লেটার দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এই প্রতিবন্ধকতা নিয়ে নাম কাটানোর জন্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে দপ্তরে ছুটে বেড়াচ্ছেন।

Advertisement
Advertisement

দীর্ঘদিন ধরেই নির্বাচনে ভোট কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করে চলেছে শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চ নামে একটি বহুল পরিচিত সংগঠন। সেই সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক কিংকর অধিকারী জানালেন, “আমাদের রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত ভোট কর্মী অংশ নেন তাঁদের কী পরিমাণ ধকল সহ্য করতে হয় তা অনেকেই জানেননা। সাধারণ মানুষ দেখতে পান ওই ভোট কর্মীরা ভোটের দিন ভোট গ্রহণ শুরু থেকে শেষ অবধি কাজ করেই ক্ষান্ত। কিন্তু বাস্তব হল বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের কাজ শুরু হয় ভোটের আগের দিন থেকে আর দায়িত্ব শেষ হতে রাত ১২টা হয়ে যায়। ”

অধিকারী বলেন, ” ভোট গ্রহণের আগের দিন দায়িত্ব বুঝে নেওয়া থেকে পরের দিন সমস্ত সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়ার পরও মুক্তি নেই। বাকি অংশটা যাবতীয় ধকল সামলে নিজের দায়িত্বে বাড়ি ফিরে আসা। একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষেই এই প্রক্রিয়া শেষ করতে কাল ঘাম ছুটে যাওয়ার জোগাড় হয়। আর এই কাজটি যদি কোনও প্রতিবন্ধীকে করতে হয় তার কী অবস্থা হয় ভাবুন। এই সমস্ত দিক মাথায় রেখেই সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা কমিশনকে আবেদন করেছিলাম যাতে ওনাদের ভোটের কাজের বাইরে রাখা হয়। কমিশন বিষয়টি ভেবে দেখবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেন কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তাঁদেরও ভোট কর্মী হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের প্রশিক্ষণের দিন ও স্থান জানিয়েও দিয়েছেন।”

ভোটকর্মী হিসাবে এই নিযুক্তি পত্র পাওয়া এই মানুষরা তাঁদের এই নিযুক্তি বাতিলের জন্য এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছেন। অন্যদিকে তাঁদের এই নিয়োগ মুলতবি করতে হলে কমিশন বলছে মেডিকেল বোর্ডে গিয়ে সার্টিফিকেট নিয়ে আসার কথা। অথচ তারা ফিজিক্যালি হ্যান্ডিক্যাপ পোস্টে কর্মে নিযুক্ত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের এই খামখেয়ালিপনার তীব্র নিন্দা করেছেন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী-শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের রাজ্য সম্পাদক । তিনি বলেন, ‘ অনর্থক এই হয়রানি বন্ধ করা হোক। নতুন করে তাঁরা আর কি সার্টিফিকেট দেবে? আমরা দাবি জানাচ্ছি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশন কোন শর্ত ছাড়াই এই সমস্ত প্রতিবন্ধীদের এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিক। মাননীয় সিইও আরিজ আফতাবের কাছে মেল এবং হোয়াটসঅ্যাপ করে এই দাবি পাঠিয়েছি। উনি দেখেছেন। এরপর কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেন দেখব। যদি তাস্বত্ত্বেও এঁদের ভোটের কাজে পাঠানোর ব্যাপারে কমিশন সিদ্ধান্তে স্থির থাকেন তবে আন্দোলনে নামা ছাড়া অন্য পথ নেই।’

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কমিশনের অফিসে যোগাযোগ করা হলে এক আধিকারিক জানান, ‘কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এঁদের ভোটের কাজে নিযুক্ত না করা। নেহাৎ কর্মী সঙ্কট না হলে হয়ত এঁদের ভোটের কাজে নাও পাঠানো হতে পারে কিন্তু কর্মী সঙ্কট দেখা দিলে হয়ত নিতে হতেও পারে। তবে এখনও মুখ্য নির্বাচনী কমিশনের এ বিষয়ে কোনও মতামত পাওয়া যায়নি। আর এবার অনেক কিছু নতুন বিষয় যোগ হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাই অন্যবারের চেয়ে বেশি ভোট কর্মী যুক্ত হতে পারে। যদি প্রতিবন্ধীদের ভোট প্রক্রিয়ায় ব্যবহারও করা হয় তবে তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।’