প্রকাশ্যে মদের আসর বসানোর প্রতিবাদ করায় বেধড়ক মারধর, খাস কলকাতায় মৃত বৃদ্ধ প্রতিবাদী

161
Advertisement

ওয়েব ডেস্ক : প্রকাশ্যে মদ্যপানের প্রতিবাদ করায় খুন হতে হল এক বৃদ্ধকে। দূর্গাপুজোর মধ্যেই খাস কলকাতার গড়ফায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ষষ্ঠীর দিন রাতে। এলাকারই বাসিন্দা কানাই নস্করের বাড়ির সামনে দেদার মদ-গাঁজার নেশা করতে শুরু করেন এলাকারই একদল সমাজ বিরোধী। প্রতিবাদ করায় সপ্তমীর দিন রাতে আচমকা কানাই নস্কর নামে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে প্রায় ৬০-৭০ জন দুষ্কৃতি হামলা চালায়। অভিযোগ, ঘর থেকে টেনে বের করে ওই বৃদ্ধকে তারা ব্যাপক মারধর শুরু করে। মারের জেরে মৃত্যু হয় কানাই নস্করের। এমনকি কানাইবাবুর নাতি আকাশকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনার পর আকাশ বাহাদুর নামে ওই যুবক আপাতত গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশের তরফে ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

জানা গিয়েছে, ষষ্ঠীর দিন রাতে গড়ফা মণ্ডলপাড়ায় এলাকার বাসিন্দা কানাই নস্করের বাড়ির সামনে মদের আসর বসায় এলাকারই কয়েকজন। অভিযোগ, শুধুমাত্র পূজোর মধ্যেই নয়, প্রায়ই তাঁর বাড়ির সামনে মদ, গাঁজার আসর বসায় কয়েকজন দুষ্কৃতি। এদিন বৃদ্ধ কানাই নস্কর ঘটনার প্রতিবাদ করলে তাদের মধ্যে বচসার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা কিছুক্ষণের মধ্যে তাদের অশান্তি মিটে যায়। এরপর সপ্তমীর দিন রাতে আচমকা প্রায় ৬০-৭০ জন দুষ্কৃতিদল মিলে বাড়িতে বাঁশ, লাঠি, ইট নিয়ে হামলা চালায়। সেসময় হাতের কাছে কানাই নস্করের নাতি আকাশ বাহাদুরকে পেয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করে। এমনকি তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। সেসময় নাতিকে বাঁচাতে তাঁর মামা এবং দাদু কানাই নস্কর এগিয়ে এলে বৃদ্ধ কানাই নস্করকেও মারধর করে দুষ্কৃতী দল। ঘটনার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় কানাই নস্করকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

Advertisement
Advertisement

ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গড়ফা থানার পুলিশ। তবে যেখানে ৬০-৭০ জন দূষ্কৃতি মিলে হামলা চালিয়েছে সপ্তাহ খানেকের বেশি সময় কেটে গেলেও কিভাবে সেখানে মাত্র ৩ জনকে গ্রেফতার করা হল এই প্রশ্নই তুলছে স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি একইসাথে এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। যদিও এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে বসানো হয়েছে পুলিশ পিকেট।