বাবা গো ,আমি টিকা নেবনা! করোনা ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে কেঁদে ভাসালেন খোদ স্বাস্থ্যকর্মীই

184
বাবা গো ,আমি টিকা নেবনা! করোনা ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে কেঁদে ভাসালেন খোদ স্বাস্থ্যকর্মীই 1

অশ্লেষা চৌধুরী: বাবা গো! মা গো! আমায় ছেড়ে দাও গো! এক মহিলার কন্ঠে এই আর্ত চিৎকার শুনে ছুটে আসলেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। কী হল, কী হল? দেখা গেল এক মহিলা স্বাস্থ্য কর্মী ত্রাহি ত্রাহি রব শুরু করে দিয়েছেন করোনার টিকা নেবেনা বলে।  এদিন রাজ্যের অন্যান্য জায়গার মত আলিপুর দুয়ারেও সুষ্ঠ ভাবে শুরু হয়েছিল করোনা ভ্যাকসিনের ড্রাইরান। কিন্তু হঠাৎ করেই সিরিঞ্জ দেখে কেঁদে ভাসালেন ন্যাশনাল হেলথ মিশনের জেলার প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর রমা মণ্ডল বাছার। দুচোখ ভরা জল নিয়ে জানালেন, কিছুতেই টিকা নেবেন না তিনি।

রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার জেলাতেও ভ্যাকসিনের ড্রাই রান চলছিল। রীতিমতো অনুষ্ঠান করে চলছিল এই ট্রায়াল রান। স্বাস্থ্যকর্মী টিকা নিচ্ছিলেন এক এক করে। আর ন্যাশনাল হেলথ মিশনের জেলার প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর রমা মণ্ডল বাছারের পালা আসতেই ঘটল বিপত্তি, সিরিঞ্জ হাতে স্বাস্থ্যকর্মী এগিয়ে আসতেই রীতিমতো কান্নায় ভেঙে পড়লেন তিনি।

বাবা গো ,আমি টিকা নেবনা! করোনা ভ্যাকসিন নিতে গিয়ে কেঁদে ভাসালেন খোদ স্বাস্থ্যকর্মীই 2

আর এত লোকের উপস্থিতিতে তাঁর এমন কাণ্ডে বিব্রত হয়ে পড়লেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা। পরে তিনি বলেন, ‘‘উনি ভ্যাকসিনে ভয় পাননি। ভয়টা আসলে পেয়েছেন ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জের। তবে সামলে নিয়েছেন।’’

সাময়িক ভয় কাটিয়ে অবশ্য ন্যাশনাল হেলথ মিশনের জেলার প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর রমাদেবী বলেন, আসলে ‘‘এখানে আমার কেউ নেই তো। চাকরি করতে এসেছি। তাই সাময়িকভাবে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমি সবাইকে বলছি, আপনারা প্রত্যেকে ভ্যাকসিন নিন।’’
উল্লেখ্য, আজ আলিপুরদুয়ার জেলার তিনটি জায়গা মাতৃসদন, জেলা হাসপাতাল ও যশোডাঙা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোভিড ১৯ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল রান করে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। তিন জায়গাতেই ট্রায়াল রানে উপস্থিত ছিলেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশচন্দ্র বেরা। মাতৃসদনে ট্রায়াল রানে ভ্যাকসিন নিতে এসেছিলেন ন্যাশনাল হেলথ মিশনের জেলার প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর। আর সেখানেই এই কাণ্ড ঘটে যায়।

আলিপুরদুয়ারের পাশাপাশি রাজ্যের অন্য জে‌লাগুলিতেও শুক্রবার কোভিড ভ্যাকসিনের ট্রায়াল রান হয়। স্বাস্থ্যকর্মীদের কীভাবে টিকা দেওয়া হবে তা হাতে-কলমে দেখানো হয়। মূলত টিকা দেওয়ার পরিকাঠামো ঠিক আছে কিনা, কীভাবে আরও দ্রুত টিকা দেওয়া যায়, টিকা দেওয়ার সময় কোভিড প্রোটোকল মানা হচ্ছে কী না এবং ভ্যাকসিন নিতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে কী না সবটাই খতিয়ে দেখা হয়।

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানান, ‘‘প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মীদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। জেলার ১০ হাজার ৮০০ স্বাস্থ্য কর্মীর নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। এদিনের ট্রায়াল রান সফল হয়েছে।’’ কিন্ত একজন স্বাস্থ্যকর্মী সকলের সামনেই ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জে ভয় পাচ্ছেন সেটাও কি খুব স্বস্তিদায়ক? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি ।

Previous articleআজকের রাশিফল, ৯ই জানুয়ারি’২০২১
Next articleবিধানসভায় ২২দিন তাঁকে জল দেয়নি কংগ্রেস ! ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র জবাবে মানস