হেঁসেলিয়ানা, মালাই পুডিং: সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায়

141
হেঁসেলিয়ানা, মালাই পুডিং: সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় 1
হেঁসেলিয়ানা, মালাই পুডিং: সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় 2

            মালাই পুডিং
                             সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায়হেঁসেলিয়ানা, মালাই পুডিং: সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় 3
চারদিকে এমন একটা ভাব যেন সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাইনা? অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ছাড়া বাইরে বেরুচ্ছেন কিংবা গলায় নিয়ম রক্ষায় মাস্কটি ঝুলিয়ে রেখেছেন। স্যানিটাইজার নামটাতো ভুলেই গেছেন অনেকে। বাজার ঘাট হাট করে খোলা করোনা বিধি ছাড়াই। কিন্তু করোনা এখনও যায়নি। খবর নিন, সব শহরেই দু-চারজন আক্রান্ত হচ্ছেন আর সবচেয়ে বড় কথা করোনার দ্বিতীয় ঢেউটি সম্পর্কে আমরা এখনও অন্ধকারে। তাই যতদিন না সবাই টিকা নিচ্ছি তাই নিয়ম মেনে চলতেই হবে আর বিশেষ করে সেটা মানা দরকার খাবার-দাবারের বেলায় যা কিনা কোনও অজানা জায়গা থেকে আমাদের মুখ দিয়ে পেটে যাচ্ছে। আর আরও সাবধান হতে হবে শিশুদের বেলায়। আমি তো বলব, বাইরের খাবার নৈব নৈব চ।

তাহলে কী চুপ করে বসে থাকব আর আলু ভাতে ভাত, বেগুন পোড়া? ধুর! তাই কখনও বলেছি? বরং লকডাউনে আমি আপনাদের চোব্য চোষ‍্য লেহ‍্য পেয় রেসিপি দিয়েছি কিনা বলুন? আর এমন জিনিস যার উপাদান আপনি আপনার পাশের মুদি দোকানে পেয়ে গিয়েছেন। এবারও তেমন একটা জিভে জল ঝরানো খাবার বানানোর পদ্ধতির কথা বলছি। যাকে আমরা বলি পুডিং! ওই শুরু হল পুডিং নিয়ে হৈচৈ। কেউ কেউ বলেই ফেললেন, পুডিং মানেই তো শহুরে ব্যাপার স্যাপার। আজ্ঞে না, একেবারেই নয়। বরং আপনি খুব সহজেই এটা আপনার বাড়িতে বানিয়ে নিতে পারবেন কী শহর, কী গ্রাম। একটু ভালো মুদি দোকানে গিয়ে উপাদান গুলি সংগ্ৰহ করে নিন। বাকিটা আমিই বলে দিচ্ছি। আর পুডিং খেতে কে না ভালোবাসে, বিশেষ করে বাচ্চারা পুডিং পেলে বেজায় খুশি হয়। আর বাচ্চাদের জন্য এর পুষ্টিগুনের জুড়ি নেই।হেঁসেলিয়ানা, মালাই পুডিং: সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় 4

হেঁসেলিয়ানা, মালাই পুডিং: সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায় 5

চলুন, আজ দেখে নিই পুডিং কিভাবে বানিয়ে সবার মন জয় করা যায়।
উপকরণ:
ব্রাউন ব্রেড, দুধ, কাস্টার্ড পাউডার,চিনি,ডিম, বাটার বা যে কোনও রিফাইন তেল।
পদ্ধতি:
পুডিং র জন্য প্রথম যেটা আমাদের করতে হবে,সেটা হলো ক্যারামেল তৈরি। আসলে ক্যারামেল হল একটি গাঢ় রঙের আস্তরন তৈরি করা। এই ক্যারামেল ই পুডিং র সৌন্দর্য তৈরি করে।একটি পাত্রে ১চামচ রিফাইন তেল বা বাটার মাখিয়ে দিন, তারপর ২চামচ চিনি দিয়ে গ্যাস ওভেন র ওপর রাখুন,চিমটি বা সাঁড়াশি দিয়ে পাত্রটি ধরে ঘোরাতে থাকুন,যাতে চিনি গলে সমান ভাবে ছড়িয়ে যায়, আর পুড়ে না যায়।তৈরি হয় গেলো পুডিংয়ের প্রথম ধাপ ক্যারামেল বানানো।

এবার পাউরুটি গুলো ছুরি দিয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিন। রুটির পাশের বাদামী অংশ গুলো রাখতেও পারেন,বা কেটে বাদ দিতে পারেন।বাদ দিয়ে দিলে পুডিং আরো স্পঞ্জি হবে। একটি মিক্সার এ পাউরুটির টুকরো গুলো দিন,তাতে এক কাপ দুধ দিন। যদি আমিষ খেতে চান,ডিম মেশাতে পারেন,এরপর সবগুলি একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন।
অন্য একটি পাত্রে ২চামচ কাস্টার্ড পাউডার দিন,তাতে এককাপ দুধ মেশান। চামচ দিয়ে ভালোভাবে গুলে, মিশিয়ে রাখুন।

গ্যাস ওভেনে একটি পাত্র বসান।২কাপ দুধ দিন,পরিমাণ মতো চিনি দিয়ে ধিমে আঁচে নাড়তে থাকুন। অন্য পাত্রে গুলে রাখা কাস্টার্ড টি অল্প অল্প করে মেশাতে থাকুন।যতক্ষন না দুধ ঘন হচ্ছে ততক্ষণ হাত বা চামচ দিয়ে নেড়ে যাবেন, হাত থামবেনা। দুধ, কাস্টার্ড ঘণ হলে,তাতে পাউরুটির মিশ্রণটি মেশান। মিষ্টির পরিমাণটা দেখে নেবেন।
এরপর যে পাত্রে চিনি ক্যারামেল টি করেছিলেন,সেই পাত্রে মিশ্রণটি ঢেলে দিন।পাত্রটি ঠুকে ঠুকে মিশ্রণটি সমানভাবে মেশান,যাতে ভেতরে ফাঁক না থাকে,বা বাতাস না ঢোকে।এরপর পাত্রর মুখ একটি ফয়েল বা রাংতা দিয়ে মুড়ে দিন।

একটি প্রেসার কুকার বা বড় পাত্রে অল্প জল দিয়ে গাসভেন এ বসান। জলের মধ্যে একটি স্ট্যান্ড দিন।স্ট্যান্ড র ওপর যে পাত্রে পুডিং র মিশ্রণ টি রেখেছেন, সেটি বসান।ঢাকা বন্ধ করে ২০মিনিট রাখুন।হয়ে গেলে বের করে নিন।ঠান্ডা হলে, ফ্রিজে ২/৩ঘণ্টা রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে স্পঞ্জি পুডিং কেটে কেটে পরিবেশন করুন। কী? দেখলেন তো কত সহজ পুডিং বানানো!