Homeএখন খবর'মুখে কুলুপ এঁটে' নারদাভিযুক্ত চার হেভিওয়েট নেতামন্ত্রীর জামিন মঞ্জুর করলেন হাইকোর্ট! প্রয়োজনে...

‘মুখে কুলুপ এঁটে’ নারদাভিযুক্ত চার হেভিওয়েট নেতামন্ত্রীর জামিন মঞ্জুর করলেন হাইকোর্ট! প্রয়োজনে জামিন খারিজ করা হবে জানালেন বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক: নারদ কাণ্ডে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও রকম ভাবে কোনও সাক্ষাৎকার নয়,এই শর্ত সাপেক্ষেই চার হেভিওয়েট নেতা-মন্ত্রীর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হল হাইকোর্টে। প্রয়োজনে খারিজ হতে পারে জামিনের আদেশ, এও জানিয়ে দিলেন বিচারপতি। হাইকোর্টের ৫ সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ এই সকল শর্ত দিয়েই ৪ হেভিওয়েটের জামিন মঞ্জুর করে শুক্রবার। ২ লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে অন্তর্বর্তী জামিন পান ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়। ফলে চার নেতা-মন্ত্রীকে আর গৃহবন্দি থাকতে হবে না।

তবে জামিন মঞ্জুরের পাশাপাশি কিছু শর্তও রেখেছে হাইকোর্ট, যা হল, ‘নারদমামলা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেবেন না এই ৪ হেভিওয়েটরা। শুধুমাত্র নারদ মামলা নিয়ে কোনও মন্তব্য বা সাক্ষাৎকার নয়। সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য বা সাক্ষাত্কার নয়। কোনও তথ্য প্রমাণ বিকৃত করা চলবে না।’

এদিন বেলা ১২ টা নাগাদ হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে শুনানি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর হয়। এদিন শুনানির শুরুতে হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘ অভিযুক্তদের শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেওয়া যায় কীনা সে বিষয়ে ভাবছে আদালত। বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে অভিযুক্ত-সাধারণ মানুষের মধ্য আলাপচারিতার সুযোগ নেই। এঁরা মানুষের পরিষেবার কাজের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৭তে মামলা শুরু, আপনারা তখন তাঁদের গ্রেফতার করেননি।তাঁরা তখন যা প্রভাবশালী ছিলেন এখনও তাই আছেন।‘তাহলে এখন কেন গ্রেফতার ?’

এরপর সিবিআইয়ের পক্ষে উকিল তুষার মেহেতাকে আশ্বস্ত করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল বলেন, ‘মামলা ঠান্ডাঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে না।’ পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘অনেকদিন এই মামলা চলতে পারে।ততদিনের জন্য এই অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া যেতে পারে।চূড়ান্ত নির্দেশের পর প্রয়োজনে জামিন খারিজ করা যেতে পারে।’

প্রসঙ্গত, নারদ কাণ্ডে এই ৪ নেতামন্ত্রীর গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে। চলতি মাসের ১৭ তারিখ নারদ কাণ্ডে রাজ্যের পরিবণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সহ সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র ও শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে তুলে নিজাম প্যালেসে এনে গ্ৰেফতারি পরোয়ানায় সই করানো হয়। তারপর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। নিজাম প্যালেসে তৃণমূল কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ডের পাশাপাশি রাজভবনেও বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি নেতা-মন্ত্রী দের গ্রেফতারের খবর পেয়ে সকালেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও নিজাম প্যালেসে পৌঁছে যান। তিনি দাবী করেন, বেআইনি ভাবে তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়কদের সিবিআই গ্রেফতার করেছে। তাই তাঁকেও গ্রেফতার করতে হবে।

এরপরেই এদিন বিকেলের দিকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে শুরু হয় এই মামলার ভার্চুয়াল শুনানি। তাঁদের ১৪ দিনের হেফাজতে নিতে চেয়ে আবেদন করে সিবিআই। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়। কিন্তু শুনানি চলাকালীনই বিচারপতির ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় সিবিআইকে। অবশেষে বিচারক অনুপম মুখোপাধ্যায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে এদিনই নিম্ন আদালতের এই জামিনের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিবিআই। হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে সিবিআই বর্ণনা করে, গ্রেফতারির প্রতিবাদে নিজাম প্যালেসের অফিস ঘেরাও হয়েছে, হুমকি দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে। হাইকোর্টের নির্দেশেই তদন্ত করছে সিবিআই, কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে তদন্ত সম্ভব নয়। সেই মামলার রায় দেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল এবং ৪ প্রভাবশালীকে যেতে হয় প্রেসিডেন্সি জেলে। বুধবার এই মামলায় শুনানি হবে বলে জানানো হয়।

কিন্তু বুধবারেও সুরাহা হয়নি তাঁদের জামিন সংক্রান্ত মামলার। এরই মধ্যে বুধবার ভোর রাত থেকেই এসএসকেমে এক এক করে শয্যা নিতে শুরু করেন মদন-শোভন-সুব্রত। এরপর বৃহস্পতিবার মামলার শুনানি থাকলেও অনিবার্য কারণ বশত বাতিল হয়ে যায় শুনানি। এরপর আরও কিছুদিন ধরে চলতে থাকে জামিন ঘিরে একের পর এক নাটকীয় ঘটনা।

গত সপ্তাহেই দীর্ঘ টালবাহানার পর শুক্রবার সকালে ফের শুরু হয় এই ৪ নেতা-মন্ত্রীর জামিন মামলার শুনানি। এখান থেকেই আবার নতুন মোড় নেয় গল্প। রায় দানকারী দুই বিচারপতির মতবিরোধের কারণে ৪ হেভিওয়েটের অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর মামলায় জটিলতা সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, এদিন প্রথমে জামিন মঞ্জুর করেছিলেন বিচারপতি অরিজিত্‍ বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু জামিন মঞ্জুরের বিরোধিতা করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল। অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, জেল হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেও ৪ জনকেই থাকতে হবে গৃহবন্দি অবস্থায়। তবে যেহেতু দুই বিচারকের সিদ্ধন্তে মতভেদ রয়েছে, তাই এই মামলার শুনানির আবেদন যায় কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে। অবশেষে অন্তর্বর্তী জামিন পেলেন এই ৪ হেভিওয়েট।

RELATED ARTICLES

Most Popular