Homeএখন খবরহোম আইসোলেশন! ভালোবাসার খড়গপুরকে ভালো থাকার কথা শোনালেন চিকিৎসক গৌতম সাহা

হোম আইসোলেশন! ভালোবাসার খড়গপুরকে ভালো থাকার কথা শোনালেন চিকিৎসক গৌতম সাহা

Advertisement

(১৭ দিন নিভৃতবাস বা হোম আইসোলেশন যাপন শেষে ফের কাজে ফিরেছেন শহরের বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডঃ গৌতম সাহা। এই শহরে করোনা সংক্রমনের হার তুলনা মূলক বেশি। আর ইদানিং সরকারের পক্ষ থেকে উপসর্গহীন অথবা মৃদু উপসর্গ যুক্তদের বাড়িতেই থাকতে বলা হচ্ছে। অবশ্যই যদি সেই পরিকাঠামো থাকে। পরিকাঠামো মানে বাথরুম সহ একটি আলাদা ঘর। যদি সে ঘর না থাকে তবে সরকার দিচ্ছে সেফ হোমে থাকার সুবিধা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার হিসাবে ৭৪% মানুষের বাথরুম যুক্ত আলাদা। ঘরের সুবিধা নেই কিন্তু খড়গপুর শহরে বাথরুম যুক্ত আলাদা ঘরের সুবিধা ৫০% র বেশি। ফলে প্রচুর মানুষ নিজের ঘরে থাকছেন। কেমন করে আমরা সেই নিভৃতবাস যাপন করতে পারি, করোনা কালে আমাদের কী কী করা উচিৎ সেই নিয়ে দ্য খড়গপুর পোষ্ট একটি দীর্ঘ আলাপচারিতায় যুক্ত হয়েছিল ডঃ গৌতম সাহার সাথে। ডঃ সাহার সেই অভিজ্ঞতা বা পরামর্শ দ্য খড়গপুর পোষ্ট শেয়ার করছে দ্য খড়গপুর পোষ্টের পাঠকদের জন্য।)

নাই, নাই ভয়, হবেই হবেই জয়:                      করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ হলেই প্ৰথম যে জিনিসটা হয় সেটা হল শক, একটা তীব্র মানসিক আঘাত, যেখানে অনেক সময় মনে হয়, আমি মারা যাব বা মারা যেতে পারি। দ্বিতীয় যে বিষয়টি শুরু হয় তা হল ডিপ্রেশন বা তীব্র হতাশা। মনে মনে মানুষ ভাবতে থাকেন যে, আমারও করোনা হয়ে গেল! এই দুটো বোধ করোনা আক্রান্তকে মানসিক ভাবে দুর্বল, মৃয়মান হতোদ্যম করে দিতে পারে যদিনা তিনি জানেন যে আমাদের দেশে প্রায় ৯০শতাংশ পজিটিভ হওয়া মানুষই মৃদু উপসর্গযুক্ত অথবা উপসর্গহীন। এঁরা শারীরিক ভাবে শক্তিশালী বলেই এঁদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেঙে করোনার লক্ষণ ফুটে উঠতে পারেনি। অর্থাৎ আপনি পজিটিভ মানেই আপনি বিপদগ্রস্ত নন। মূলতঃ এঁদের কেই হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বাকি ১০শতাংশ আক্রান্তের ৭/৮% একটু প্রকট হন। এঁদের সেই রকম কোনও জায়গায় থাকা উচিৎ যেখানে প্রয়োজনে অক্সিজেন পাওয়া যাবে। মাত্র ২/৩শতাংশ যাঁরা বয়স্ক, আগে থেকেই কঠিন রোগ অথবা অন্যান্য কোনও শারীরিক রোগে আক্রান্ত যেমন হাই সুগার, হার্ট বা ফুসফুস ইত্যাদি সমস্যায় রয়েছেন তাঁদের আইসিইউ, ভেন্টিলেশন সুবিধা যুক্ত হাসপাতালে যেতে হয়। সরকার এ ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর। আপনি পজিটিভ হলেই সরকারের নজরদারিতে আছেন সে আপনি উপসর্গহীন অথবা উপসর্গযুক্ত যাই হোন না কেন। আসলে কেউ পজিটিভ হলে সে বিপজ্জনক কী না তা নির্ভর করে ভাইরাল লোডের ওপর। আপনি পজিটিভ হতেই পারেন কিন্ত ভাইরাল লোড কম থাকলে বিপদের কিছু নেই।

এবার হোম আইসোলেশন:
আগেই বলেছি হোম আইসোলেশনের প্রাথমিক শর্ত বাথরুম যুক্ত আলাদা ঘর। খোলা মেলা, পর্যাপ্ত আলো বাতাস খেলবে এমন ঘরটা বেছে নিন। আপাতত এটাই আপনার ঘর যেখানে ২৪ঘন্টা, কয়েকদিন আপনাকে থাকতে হবে। এই ঘরে অন্য কেউ ঢুকবেনা। দরজা বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে দরজা খুলবে যেমন খাবার দেওয়ার সময়। চেষ্টা করতে হবে যাতে একজনই আপনাকে খাবার পরিবেশন করেন। যতদিন আপনি হোম আইসোলেশনে থাকছেন ততদিন পরিবারের একজন সদস্যই যেন খাবার পরিবেশন করেন বা অন্য প্রয়োজন পূরণ করেন সেটা নিশ্চিত করাই ভালো। যিনি খাবার দিতে আসবেন তিনি মাস্ক পরে দরজায় দাঁড়াবেন। আপনি মাস্ক পরে (বাকি সময় মাস্ক না পরেই ঘরে থাকবেন।) দরজা খুলবেন। উনি খাবার নামিয়ে দিয়ে যাবেন। আপনি খাবার তুলে আনবেন এবং খাবেন। চেষ্টা করতে হবে খাবার যেন ডিসপোজাল কন্টেনারে (একবারই ব্যবহার করা হয় এমন বাসন) ব্যবহার করা হয়। খাবার পর সেই বাসন প্লাস্টিকে মুড়ে বিনে রেখে দিন। সময়মত আপনি নিজে বা পরিবারের ওই ব্যক্তি ওই বস্তু নষ্ট করে দেন। পুড়িয়ে ফেলা, মাটিতে পুঁতে দেওয়া যেতে পারে।অবসর সময় কাটান গান শুনে, বই পড়ে, হালকা ব্যায়াম করুন, টিভি দেখুন। জিঙ্ক, ভিটামিন সি জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আ্যজিথ্রোমাইশিন।

আপনার পরিচর্যাকারিকে যা করতে হবে:
যিনি খাবার দেবেন বা যোগাযোগ রাখবেন আপনার সঙ্গে তিনি চিকিৎকের বা স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন সেবন করবেন। যিনি আপনাকে পরিচর্যা করবেন তিনিই আপনার দরজা অবধি আসছেন তাই প্রতিবারই তিনি সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নেবেন। পারলে আধঘন্টা অন্তর। পরিবারের কেউ তাঁর হাতে একটু তরল সাবান দেবেন। ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার নিয়ম মেনে হাত ধুয়ে নেবেন।

হ্যাপি হাই পক্সিয়া থেকে সাবধান:
আপনার কাছে দুটি ছোট যন্ত্র থাকবে। একটি থার্মোমিটার আর একটি পালস্ অক্সিমিটার। কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার প্রথম দিকের হতাশা, ভয় দুর হয়ে যাবে। আপনি ভালো আছেন অনুভব করবেন। আপনি সবাইকে বলছেন আপনি ভাল আছেন কিন্তু হতে পারে আপনি ভালো নেই কিন্তু ভালো অনুভব করছেন। এটাকেই বলে হ্যাপি হাই পক্সিয়া যা বিপদের কারন হতে পারে। তাই মাঝে মধ্যে আপনি যেমন থার্মোমিটারে শরীরের তাপ মাপবেন তেমনি পালস্ অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন মাপুন। প্রতিবারই লিখে রাখুন প্রয়োজনে চিকিৎসকের কাজে লাগবে। পালস্ অক্সিমিটারে যদি দেখেন রক্তে অক্সিজেনের পরিমান ৯৫% আছে তাহলে আপনি সত্যি ভালো আছেন। কিন্তু তার নিচে নামলে সাবধান হন। আমি বলব ৯২ হলেই এমন জায়গায় বা হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করবেন যেখানে অক্সিজেন দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।

স্বাস্থ্যদপ্তরের বা পুলিশের একটি নম্বর আপনাকে দেওয়াই আছে। আছে হেল্পলাইন নম্বরও। আপনি তাঁদের জানান। ২/৩ ঘন্টার মধ্যেই আপনি সরকারি পরিষেবা পাবেন। তাই আপনি ভালো আছেন কিনা সেটা সব সময় জেনে নিন আপনার পালস্ অক্সিমিটারের কাছ থেকে। মনে রাখবেন হোম আইসোলেশনেও সরকার আপনার পাশে আছে, আছে আপনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই। শুধু আপনাকে একটা ফোন করে জানাতে হবে আপনার অসুবিধার কথা। আর পাশে আছে আপনার পরিবার। আমি ব্যক্তিগত ভাবে সরকার আর আমার পরিবারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞ তাঁরা যেভাবে আমাকে মানসিক স্থিরতা জুগিয়েছেন তার জন্য।                                            ডঃ গৌতম সাহার পেশা যেমন চিকিৎসা নেশা তেমন ছবি আঁকা। ১৭দিন নিভৃতবাসে তিনি কিছু ছবি এঁকেছিলেন তার কয়েকটি আমরা পাঠকের জন্য দিলাম।

Advertisement

Advertisement

RELATED ARTICLES

Most Popular