পুরো পূর্ব মেদিনীপুরই হটস্পট,২৮ দিন লকডাউনে বাংলার চার রেড জোন

354
পুরো পূর্ব মেদিনীপুরই হটস্পট,২৮ দিন লকডাউনে বাংলার চার রেড জোন 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: এগরা বা শুধু হলদিয়া নয়, পুরো পূর্ব মেদিনীপুর জেলাকেই হটস্পট ঘোষনা করল কেন্দ্র আর তার সাথেই দেশের রেড জোন বা লাল অঞ্চলে চলে এল পশ্চিমবঙ্গের চার জেলা। পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়া হটস্পট তথা রেড জোনে এল কলকাতা, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনা। আগামী ২৮ দিন অর্থাৎ ৩মে র পরেও আরও ৯দিন সম্পুর্ন লকডাউনের আওতায় চলে গেল ওই চার লাল তালিকাভুক্ত অঞ্চল। এরই সাথে আংশিক বা ক্লাস্টার হটস্পটের তালিকায় যুক্ত হল পশ্চিম মেদিনীপুর, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, নদিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা।

লকডাউনের প্রথম দফার শেষদিন অর্থাৎ মঙ্গলবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় পর্বের ঘোষণা করেছিলেন। জানিয়ে দেন, ৩ মে পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে লকডাউন। আর এবার যাতে করোনা রোধে লকডাউনের সমস্ত নির্দেশিকা পালিত হয়, তাও বিশেষভাবে নজর রাখবে কেন্দ্র। দেশজুড়ে চিহ্নিত করা হবে হটস্পট বলেও জানায় মোদি সরকার। আর বুধবারই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে হটস্পটের তালিকা প্রকাশ করা হল। যে তালিকায় রয়েছে বাংলার চার জেলা। সেই সঙ্গে ক্লাস্টার এলাকার মধ্যে রাখা হয়েছে আরও সাতটি জেলাকে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল জানান, দেশে মোট ১৭০টি জেলাকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মোট তিনটি ভাগে সেই হটস্পট এলাকাগুলিকে ভাগ করা হয়েছে। সেই হিসেবেই চলবে নজরদারি। এরপরই স্বাস্থ্যমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকা হাতে পাওয়ার পর জানা যায়, কলকাতা-সহ রাজ্যের চারটি জেলাকে হটস্পটের আওতায় রাখা হয়েছে। কলকাতার পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুর। অর্থাৎ এই চার জেলায় কোভিড পজিটিভের সংখ্যা বেশি। এর পাশাপাশি যে সাতটি জেলাকে ক্লাস্টার হটস্পটে নিয়ে আসা হল যার অর্থ ওই জেলাগুলির কোভিড প্রবন অঞ্চলগুলিও আগামী ২৮দিন সিল হয়েই থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

পুরো পূর্ব মেদিনীপুরই হটস্পট,২৮ দিন লকডাউনে বাংলার চার রেড জোন 2

কেন্দ্রের এই ঘোষনার সঙ্গে ফের বিরোধ রাজ্যের । দিন কয়েক আগেই সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের হটস্পট নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। যাতে তিনি জানান, হটস্পট বলে কিছু নেই। বরং যে সমস্ত এলাকায় ভাইরাস সংক্রমণের প্রকোপ বেশি সেগুলিকে মাইক্রো প্ল্যানিংয়ের আওতায় ফেলা হচ্ছে। সেভাবেই ওই এলাকাগুলিকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করতে বিশেষ পদক্ষেপ করা হবে। বলা হয়েছিল বাজার হাট চলবে, মানুষ বেরুতে পারবে। কিন্তু কেন্দ্রের নিয়মে হটস্পট হলে ও সব চলবেনা। হটস্পট মানেই ১০০শতাংশ লকডাউন।  এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রকের এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্যবাসীর। তাদের তরফে বলা হয়েছিল, লাল-কমলা-সবুজ- এই তিন ভাগে হটস্পট জোনে কাজ হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে ২৮ দিন। ২৮ দিনে যদি কেউ ওই এলাকায় নতুন করে সংক্রমিত না হন, তাহলেই তা হটস্পটের আওতা থেকে বেরতে পারবে।

এদিকে কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী কলকাতা-সহ দেশের ছ’টি মেট্রো-সিটি বা মহানগরই করোনার হটস্পট। আর সারা দেশের এই হটস্পটগুলিতেই রয়েছে মোট আক্রান্তের ৮০ শতাংশ। আবার রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও একই ভাবে ৮০ শতাংশ আক্রান্ত এই হটস্পটগুলিতেই রয়েছেন। এই ১৭০টি হটস্পটের মধ্যেও আবার ১২৩টি জেলাকে ‘ব্যাপক সংক্রমিত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ১২৩ জেলার মধ্যে রয়েছে রাজধানী দিল্লির সব ক’টি (৯) জেলা, মুম্বই, কলকাতা, বেঙ্গালুরু আর্বান, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, জয়পুর এবং আগরার বেশ কিছু এলাকা। তবে এর বাইরেও যে সব এলাকায় দ্রুত হারে সংক্রমণ ছড়াবে বা আক্রান্তের সংখ্যা চার দিনের কম সময়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে, সেগুলিও হটস্পটের আওতায় চলে আসবে।
পাশাপাশি পুরো বিষয়টি দেখবেন এলাকার জেলা শাসক। কোন এলাকায় কী কী করতে হবে এই পুরো মনিটরিংয়ের ভার ছেড়ে দেওয়া হয়েছে জেলা শাসকদেরই ওপর।  এলাকা ভিত্তিক পরিকল্পনা করবেন তাঁরাই । কিন্তু  কেন্দ্রীয় আইন মেনেই কাজ করতে হবে তাঁকে এবং কেন্দ্রের নিজস্ব নজরদারি থাকছে হটস্পটগুলির ওপর।