রাজ্যে হটস্পটের সংখ্যা বাড়তে পারে, সীমানা সিল করার কাজ শুরু , নিষেধ ঢোকা বেরুনো, হবে সবারই করোনা টেষ্ট

350
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুরু হয়ে গেল হটস্পটগুলি সিল করে দেওয়ার কাজ শুরু করে দিল রাজ্য সরকার। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা হাওড়া সহ বিভিন্ন এলাকার রাজপথ থেকে অলি গলি সিল করে দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জায়গায় সব থেকে বেশি সংক্রমণ হয়েছে। সেই জায়গা গুলি চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথম দিকে রাজ্যের মোট ৭ টি হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছিল বলেই বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছিল যদিও রাজ্য সরকার একটি মানচিত্র ছাড়া হটস্পট সংখ্যা বা জায়গার নাম বলা হয়নি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৫ থেকে ২০টিও হতে পারে বলেও জানা গেছে। আর চিহ্নিত ওই সমস্ত জায়গায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা।

Advertisement

শুক্রবার নবান্ন থেকে লকডাউনের কথা ঘোষনা করেছিলেন রাজীব সিনহা। তবে এখনই হটস্পটের নাম প্রকাশ করেননি তিনি। সূত্রের খবর, সেই সমস্ত এলাকায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকাজুড়ে ক্লাস্টার তৈরী করা হচ্ছে। এলাকার সমস্ত পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে। কড়া নির্দেশ রয়েছে বাড়ি থেকে কেউ বাইরে বেরোতে পারবেন না।
যদিও এলাকাগুলির নাম প্রকাশ করা হয়নি। কিন্তু ওই এলাকা গুলিতে বাইরে থেকে কেউ ঢুকতে পারবেন না। এমনকি ওই এলাকা থেকেও কেউ বাইরে অন্য স্থানে যেতে পারবেন না। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আবাসিকদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রশাসন থেকে সর্বদা নজরদারি চালানো হবে ওই সমস্ত এলাকাগুলিতে।

Advertisement
Advertisement

সিনহা জানিয়েছিলেন, সরকারের প্রদত্ত মানচিত্র অনুসারে কোভিড ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে এমন জায়গাগুলির ওপরেই নজর রাখছে সরকার। আর সেই হিসাবেই উত্তরবঙ্গের কালিম্পং আর দক্ষিনবঙ্গের কলকাতা , হাওড়া, বেলঘরিয়া, নদিয়ার তেহট্ট, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, এগরার নাম উঠে আসছে। কিন্তু এটাই যে সম্পুর্ন এমনটা নয়। পরে সরকারের নজরে আলিপুর দুয়ার, দক্ষিন ২৪পরগনা সহ অন্য দু’একটি জেলাও রয়েছে। অর্থাৎ কোভিড ভাইরাসের অস্থিত্ব মিলেছে এমন কোনও জায়গাই সম্ভবনার বাইরে নয়।
কমপ্লিট লকডাউন বলার অর্থ ওই এলাকার অধিবাসীদের পুরোপুরি গৃহবন্দী থাকতে হবে। কোনও বাজার হাট দোকান খুলবেনা। খাদ্য, চিকিৎসা সহ সমস্ত জরুরি পরিষেবা সরকার বাড়িতে পৌঁছে দেবে। এলাকায় কেউ ঢুকতে বা বেরুতে পারবেননা। পুলিশের নির্ধারিত জায়গাতে পুলিশের সঙ্গেই পণ্যবাহী গাড়িগুলি প্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুত করবে এবং পুলিশ মারফৎ তা পৌঁছে যাবে এলাকার বাড়িতে বাড়িতে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রতিটি বাড়িতে যাবেন এবং বাড়ির প্রতিটি সদস্যের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি করবেন।

এই লকডাউন মহকুমা ভিত্তিক নাকি থানা ভিত্তিক অথবা ওয়ার্ড বা গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক হবে তা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ মিলে ঠিক করবে। তবে মনে রাখতে হবে বর্তমানে যে লকডাউন চলছে এই প্রক্রিয়া তার চেয়ে আরও অনেক বেশি কঠোর হবে। আর রাজ্য বা দেশ থেকে লকডাউন প্রত্যাহার হয়ে গেলেও এই এলাকায় লকডাউন থেকে যেতে পারে অনির্দিষ্টকাল। পর্যায়ক্রমে মূল্যায়নের পরেই দেখা যাবে লকডাউন প্রত্যাহার করা হয় কিনা।
এদিকে মূলত রাজ্যব্যাপী সংক্রমন এড়াতে এছাড়া আর কোনও পথই খোলা ছিলনা বলেই জানিয়ে দিয়েছে সরকার। আর গোষ্টি সংক্রমন এড়াতেই হটস্পট এলাকায় প্রতিটি বাড়িতেই নির্বিচারে মানু্ষের করোনা ভাইরাসের টেষ্ট করার উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে। এরজন্য একটি মাস্টার প্ল্যানও তৈরি করছে রাজ্যসরকার। শনিবার সকাল থেকেই কলকাতা হাওড়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড তৈরি করার কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে প্রতিটি বাড়িতেই পুলিশের নম্বর দিয়ে দেওয়া হবে। সেখানেই ফোন করে নিজেদের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে দিলে পুলিশই সরবরাহ করবে সবকিছু।