করোনাকালে ভ্রমণ কতটা নিরাপদ! কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, জেনে নিন

625
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: যেদিন থেকে মহামারী এসেছে, আমরা সকলে একপ্রকার ঘরবন্দি। আর দীর্ঘদিন ধরে ঘরে আটকে থেকে বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার ফলে অনেকের মধ্যে একধরণের একঘেয়েমি ও বিষণ্ণতা তৈরি হয়েছে। ফলে এখন আনলক পর্বে সাপ্তাহিক ছুটি বা অন্য যেকোন অবসরে মানুষ পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে আনন্দ ভ্রমণে বের হতে চাইছেন। যদিও অন্যান্য বছর এই সময় ঘোরাঘুরির প্রবণতা অনেকটাই থাকে, কিন্তু করোনার কারণে তাতে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

Advertisement

এ বছর কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। প্রাণঘাতী এই ব্যাধির সংক্রমণ আমাদের ভ্রমণের সব পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে। ভ্রমনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন, জেনে নিন-

Advertisement
Advertisement

স্বাস্থ্য গবেষকরা বলছেন, মাস্ক ব্যবহার, বারবার হাত ধোয়া ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার মতো সতর্কতা ভ্রমণকারীদের অবশ্যই মেনে চলা উচিৎ।

এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক ব্যাধি বিশেষজ্ঞ ড. কেইথ আর্মিটেজ বলেন, ‘বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যদি সবাই মাস্ক পরিধান করে তাহলে ৩ ঘণ্টার কম সময়ের দূরত্বে ভ্রমণ করলে অনেকটাই ঝুঁকি মুক্ত থাকবেন তারা। ভ্রমণ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। কিন্তু ভ্রমণের মধ্য দিয়ে মানুষ একসাথে হচ্ছে। আর সেটিই মূল উদ্বেগের কারণ। যেমন ভ্রমণের মধ্য দিয়ে বৃহত্তর পরিবারের সদস্যরা একত্রিত হচ্ছেন, মানুষ জন্মদিনের উৎসব বা পারিবারিক উৎসবে যোগ দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোথাও বেড়াতে গিয়ে এবং সেখান থেকে ফেরার পর মানুষ যে আচরণ করছে তার ওপরেই অনেক কিছু নির্ভর করছে।’

নতুন একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, স্পেনে বেড়াতে যাওয়া ভ্রমণপিপাসুদের মাধ্যমে ইউরোপের অন্য দেশগুলোতে সার্স-কোভ-২ ভাইরাসটির নতুন একটি প্রজাতি ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই প্রজাতিটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে যেতে সক্ষম।

ভ্রমণকারীদের কোয়ারেন্টিনের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে বলে সতর্ক করেছেন ড. কেইথ আর্মিটেজ । আর্মিটেজ বলেন, ‘আপনি যদি কম সংক্রমণ ঘটেছে এমন এলাকা থেকে বেশি সংক্রমণ ঘটেছে এমন অঞ্চল ভ্রমণ করেন তাহলে অবশ্যই ফিরে আসার পর কোয়ারেন্টিনে থাকুন। অন্যদিকে যদি বেশি সংক্রমণ ঘটেছে এমন এলাকা থেকে কম সংক্রমণ ঘটেছে এমন এলাকা ভ্রমণ করেন তাহলে সেখানে পৌঁছানোর পর কোয়ারেন্টিনে থাকুন।’

অ্যামোরি ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের এসোসিয়েট প্রফেসর ড. হেনরি উ বলেন, ‘ভ্রমণকারীদেরকে অবশ্যই সকল অবস্থায় অন্যদের থেকে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অন্যসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা আবশ্যক।’তাছাড়া ড. হেনরি উ মনে করেন, খুব বেশি দরকার না থাকলে এই মুহূর্তে ভ্রমণ না করাই ভালো। ভ্রমণ করতে হলে অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ।

অতএব বুঝতেই পারছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলাই এই সময় বুদ্ধিমানের কাজ। তাই আপাতত ভ্রমণটা না হয় এড়িয়ে চলুন। আর একান্তই যদি যেতে হয়, তাহলে উপরিউল্লেখিত পরামর্শগুলো অবশ্যই মেনে চলুন।