পুড়ে ছাই স্ত্রী-পুত্র, পাশের ঘরে গভীর নিদ্রায় স্বামী

348
Advertisement

অশ্লেষা চৌধুরী: জ্বলছে স্ত্রী ও ছেলের দেহ, অথচ পাশের ঘরেই গভীর নিদ্রায় মত্ত ব্যক্তি। মর্মান্তিক তথা একইভাবে অবাক করার মত এই ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার ব্যাঁটরা থানা এলাকার নরসিংহ দত্ত রোডে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। মৃত দু’জনের নাম মমতা কুণ্ডু; ৫৮ বছর বয়স ও আবির কুণ্ডু; ২৭ বছর বয়স। আবিরের বাবা তপন কুণ্ডু অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Advertisement

জানা যায়, ২৭ বছরের আবির মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। এ নিয়ে মানসিক অশান্তিতে ছিলেন মা মমতা। সেই মা ও ছেলেরই দগ্ধ দেহ উদ্ধার হল ফ্ল্যাটের ঘর থেকে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ছেলেকে নিয়ে মানসিক অবসাদ ক্রমশই গ্রাস করছিল মমতা দেবীকে। আর সেই থেকেই ঘরের দরজা, জানালা ভিতর থেকে বন্ধ করে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন তাঁরা।

Advertisement
Advertisement

জানা গিয়েছে, ১১০/১, নরসিংহ দত্ত রোডের আবাসন সত্যম কমপ্লেক্সের দোতলার একটি ফ্ল্যাটে বেশ কয়েক বছর ধরেই স্বপরিবারে বাস করছেন তপন বাবু। একমাত্র সন্তানের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাঁরা মনকষ্টে ভুগতেন। অন্যান্য দিনের মতো এদিনও দুপুরে একসঙ্গে খাওয়া–দাওয়া সেরে পাশের ঘরে ঘুমোতে চলে যান তপন বাবু। আর মা–ছেলে ছিলেন তাঁদের ঘরে।

সন্ধ্যে বেলা বেশ কিছুক্ষণ সময় কেটে যাওয়ার পরও দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় তপন বাবুর। তখন তিনি প্রতিবেশীদের ডেকে নিয়ে আসেন। এর পর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকতেই দেখা যায়, মা ও ছেলের অগ্নি দগ্ধ দেহ, আগুনে ঝলসে মৃত্যু হয়েছে দুজনেরই। ঘরের যাবতীয় আসবাবপত্রও পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ব্যাঁটরা থানার পুলিশ। দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে তাদের অনুমান, গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়েছেন মা ও ছেলে। কিন্তু ঘটনার সময় পাশের ঘরেই ঘুমোচ্ছিলেন তপন বাবু।
তদন্তকারি অফিসার জানান, অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় যন্ত্রণা, গোঙানির আওয়াজ হওয়াটা খুব স্বাভাবিক। কিন্তু পাশের ঘরে ঘুমিয়ে কোনও কিছুই কি টের পেলেন না তপন বাবু! আর‌ এ ঘটনাটিই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। তারা গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখছেন।

এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ায় স্তব্ধ ও হতবাক পাড়াপড়শিরা। সেই সাথেই ঘটনার সময় তপন বাবুর এমন গভীর নিদ্রা ঘটনাটি নিছকই আত্মহত্যা ছাড়াও যে অন্য কিছুও হতে পারে সেই বিষয়টির দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। ছবি:প্রতীকি