দার্জিলিংয়ের পর কলিংপঙেও তীব্র বিরোধিতার মুখে বিমল , সুবিশাল মিছিলে বিক্ষোভ ফেটে পড়ল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে

254
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: তিন বছর অন্তরালে থাকার পর প্রকাশ্যে আসেন বিমল গুরুং। তার আগমন ঘিরে বিমল পন্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মত। তবে বিপরীত চিত্রটাও কিন্তু ফুটে উঠেছিল। বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে দার্জিলিংয়ের সোনাদায় প্রতিবাদ মিছিলে সামিল হয় বিনয় পন্থী যুব মোর্চার কর্মী ও সমর্থকেরা। ওঠে ‘বিমল গুরুং গো ব্যাক’ স্লোগান। মোর্চার দুই গোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইকে কেন্দ্র করে পাহাড়কে কি আবার অশান্ত হবে? এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্র।

Advertisement

দার্জিলিংয়ের চকবাজারের কাছে বিমলের ছবি লাগানো মোর্চার পতাকা উড়িয়ে ছিলেন তার অনুগামীরা। ঠিক তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে দার্জিলিংয়ের সোনাদায় মিছিলে করে বিনয় তামাং পন্থী মোর্চার যুব সংগঠন। সেই আঁচ এসে পড়ল কালিংপঙেও , বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে কালিম্পং শহরে বিরাট মিছিল করলেন বিনয় তামাং, অনীত থাপার সমর্থক মোর্চা কর্মীরা। এখান থেকেই বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে, বিমলকে মেনে নিতে রাজি নয় তামাং–থাপারা। একইসঙ্গে পাহাড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে নানা ধরনের বিক্ষোভ, মিছিল এবং কর্মসূচি। এভাবেই বিমল বিরোধী হাওয়া জোরালো করা হচ্ছে।

Advertisement
Advertisement

বিমল গুরুং বিজেপি সঙ্গ ছেড়ে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করার কথা ঘোষণা করে মমতা বন্দ্যোপাধায়কে ফের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাহলে বিনয় তামাং, অনিত থাপা গোষ্ঠীর মোর্চার সঙ্গে তৃণমূলের অবস্থান কি হবে? এই প্রশ্নকে সামরে রেখে পাহাড়ের রাজনীতিতে নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

যুব মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সহসচিব ইমন চামলিং বলেন, ‘পাহাড় এখন শান্ত রয়েছে। শান্ত থাকুক, এটাই পাহাড়বাসী চান। আর বিমল গুরুংয়ের লোকজন তা চান না। আবার অশান্তির মেঘ পাহাড়ে জমছে। তার বিরুদ্ধে সবাইকে এবার একজোট হয়ে সরব হতে হবে। বিমলের কর্তৃত্ব অনেকেই মেনে নিতে রাজি নন। সেই বার্তা দিতেই পাহাড়ে এখন এই মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, তিন বছর আত্মগোপন করে থাকার পরে ২১ অক্টোবর কলকাতায় আত্মপ্রকাশ করেন বিমল গুরুং। ঘোষণা করেন তৃণমূলকে সমর্থনের কথাও। তার পরদিন থেকেই পাহাড়ে বিমলের সমর্থনে তাঁর সমর্থকেরা সরব হতে থাকেন। মোর্চা কর্মীরা বলেন, ২০১৭ সালে বিনয় তামাং, অনীত থাপা যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা আজ প্রমাণিত। পাহাড়ের শান্তি, বিকাশ, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁরা ওই কাজ করেছিলেন। বিমল তখন এদের বিশ্বাসঘাতক বলেছিলেন। এখন বাড়ী ফেরার জন্য উল্টো কথা বলে তৃণমূলের পাশে এসেছেন। তবে যাই হোক, বিমল-বিনয় সংঘাত ঘিরে যে ক্রমশই পাহাড়ে উত্তাপ বাড়ছে, তা অস্বীকার করা যায় না। এখন দেখার বিষয়, দুই গোষ্ঠীর সংঘাতের এই জল কতদূর গড়ায়।