জল্পনা সত্যি করে শাসক শিবিরে যোগ প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের

360
জল্পনা সত্যি করে শাসক শিবিরে যোগ প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের 1

অশ্লেষা চৌধুরী: সবরকম জল্পনা সত্যি করে শাসক শিবিরে যোগ দিলেন চন্দননগরের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির। মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই রাজনৈতিক আঙিনায় পা রাখলেন প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের কালনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তিনি যোগ দেন শাসক শিবিরে।

আচমকাই চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার পদ থেকে কয়েকদিন আগেই ইস্তফা দিয়েছিলেন হুমায়ুন কবির। ইস্তফা দেওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেছিলেন, লেখালেখির জগতে তিনি থাকতে চান। কিন্তু, রাজনৈতিক মহলের জল্পনা ছিল তুঙ্গে যে, হুমায়ুন কবির এবার সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দিতে পারেন বলে। যদিও সেই সম্ভাবনার কথা তিনি খারিজ করে দিয়েছিলেন সেই সময়। তবে জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এদিন ঢুকেই পড়লেন রাজনৈতিক জগতে।

জল্পনা সত্যি করে শাসক শিবিরে যোগ প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের 2

প্রশাসনের পাশাপাশি সাহিত্য জগতেও পরিচিত এই পুলিশ অফিসারের নাম। নিয়মিত তিনি গল্প ও উপন্যাস লেখেন। কয়েক বছর আগে একটি বাংলা সিনেমাও পরিচালনা করেছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, গত বছর ভদ্রেশ্বর ও তেলেনিপাড়া এলাকায় ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা মোকাবিলায় তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। রাজ্য প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ এই পুলিশ অফিসার বরাবর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির মানুষ বলে পরিচিত।

শুধু তাই নয়, ২০০৩ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে যোগদান করা এই আইপিএস ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের অত্যন্ত পছন্দের অফিসার। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে ‘হাত কাটা দিলীপ’কে গ্রেফতার করে প্রথমবার তিনি লাইমলাইটে আসেন। অনেকে বলেন, প্রয়াত সিপিএম নেতা ও মন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীরও পছন্দের অফিসার ছিলেন তিনি। বাম জমানায় উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার একাধিক বাহুবলীকে জব্দ করতে বুদ্ধবাবু নাকি তাঁকে ব্যবহার করেছিলেন।

এমনকি রাজ্যের বর্তমান শাসকদল বামফ্রন্ট সরকারের সময় যে সমস্ত পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে সরব ছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন হুমায়ূন কবীর। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আবার ছবিটা পাল্টে যেতে থাকে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পাঠান মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার করে। সে সময়ে আবার অধীর চৌধুরীরা তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুরু করেন। অধীর বাবুদের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলের জেলা সভাপতির মতো আচরণ করছেন হুমায়ুন। মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের দল চালাচ্ছেন হুমায়ুন। কংগ্রেস ভাঙানো থেকে শুরু করে বিরোধীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজানো সবেরই নেপথ্যে রয়েছেন তিনি। পরে তাঁকে চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার করে পাঠায় নবান্ন।

প্রসঙ্গত, নভেম্বর মাসেই প্রাক্তন এই অফিসারের স্ত্রী অনিন্দিতা দাস কবির তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও কলকাতার পুর ও নগোরন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের হাত ধরে শাসক শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। আর এদিন মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনি নিজেও যোগ দিলেন শাসক শিবিরে।