স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের পর নিজেও আত্মঘাতী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ স্বামী

206
স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের পর নিজেও আত্মঘাতী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ স্বামী 1

নিউজ ডেস্ক: প্রণয়ঘটিত সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ এবং তারপরেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী স্বামী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হুগলি জেলার চুঁচুড়ার চকবাজার শান্তিপল্লীতে, সোমবার সকালে।

জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম রাজু মালিক। শান্তিপল্লীর বাসিন্দা রাজুর সঙ্গে ওই এলাকার এক গৃহবধূর বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ। তা নিয়েই গত দু’বছর ধরে স্ত্রী রিঙ্কুর সঙ্গে ঝামেলা চলছিল রাজুর। এই অশান্তির জেরে শ্বশুড়বাড়ি ছেড়ে ছেলেকে নিয়ে সম্প্রতি বাপের গিয়ে থাকতে শুরু করেন রিঙ্কু। সোমবার সকাল রিঙ্কু শান্তিপল্লী এলাকায় গিয়েছিলেন রক্তের নমুনা সংগ্রহ করতে। তখন তাঁকে দেখতে পেয়ে ছুরি দিয়ে কোপাতে থাকে রাজু। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি পড়েছিলেন রাস্তায়। তা দেখে সেখানকার স্থানীয়রা তাঁকে নিয়ে যান চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে। গুরুতর আহত অবস্থায় সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। রিঙ্কুকে ছুরি মারার পরই রাজু ঘরে ফিরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পুলিশে এসে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে।

স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের পর নিজেও আত্মঘাতী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে আবদ্ধ স্বামী 2

চুঁচুড়া থানার আইসি অনুপম চক্রবর্তী বলেছেন, ‘‘স্বামী স্ত্রীকে ছুরি মেরেছে শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গিয়ে স্বামীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। ওই মহিলা হাসপাতালে ভর্তি। সুস্থ হলে তার বয়ান নথিভুক্ত করা হবে। এই ঘটনায় প্রতিবেশী এবং পরিবারের লোকেরও বয়ান নেওয়া হবে।’’ রিঙ্কুকে ছুরি মারার ঘটনা সামনে আসতে ক্ষোভ জমে এলাকাবাসীর মধ্যে। উত্তেজিত এলাকাবাসী রাজুর সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে থাকা মহিলার বাড়িও ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ।

প্রসঙ্গত, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তাঁর বিভিন্ন রকম উদাহরণ আমরা প্রায় প্রতিনিয়তই পেয়ে থাকি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। যেমন সম্প্রতি বর্ধমানে এক টোটো চালকের নৃশংস খুনের কিনারা করতে গিয়ে চমকে দেওয়ার মত তথ্য প্রকাশ্যে আসে, যাতে চোখ কপালে ওঠে পুলিশ আধিকারিকদের। ১৪ই ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে গলার নলি কেটে ও গুলি মেরে হত্যা করা হয় পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী থানার মাজিদা পঞ্চায়েতের বড়ধামাস গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় টোটোচালক পিন্টু পালকে।

ঘটনার তদন্তে নেমে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ আঠারো দিনের মাথায় খুনের কিনারা করে। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, প্রেমের কাঁটা সরাতে ছাত্রীর বাবাকে খুন করেছে গৃহশিক্ষকই। ছাত্রীর মায়ের সাথে মাখো মাখো প্রেম, সম্পর্কের ঘনিষ্টতা পৌছায় চরম পর্যায়ে। পথের কাঁটা ছাত্রীর বাবা; রীতি মত ঠান্ডা মাথায় ছক কষে সেই কাঁটাকেই উপরে ফেলেন সুচালূ বুদ্ধিসম্পন্ন গৃহ শিক্ষক। রাতের আঁধারে চালান নৃশংস হত্যাকাণ্ড।