অসম্মান নিয়ে থাকতে চাই না, ঋতব্রতের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দল ছাড়লেন আলিপুরদুয়ারের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা

636
অসম্মান নিয়ে থাকতে চাই না, ঋতব্রতের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দল ছাড়লেন আলিপুরদুয়ারের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: দলের জেলা ও রাজ‍্য নেতৃত্বের উপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে সমস্ত সরকারি ও দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আলিপুরদুয়ার জেলার তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা মোহন শর্মা। সোমবার বিকেলে আচমকাই সাংবাদিক বৈঠক ডেকে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের মেন্টরসহ আরও নয়টি সরকারি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি মোহন শর্মা। শুধু তাই নয় তৃণমূলের চুয়ান্ন জনের রাজ্য কোর কমিটির সদস্য ও জেলা কমিটির আমন্ত্রিত সদস্যপদ থেকেও তিনি ইস্তফা দেওয়ার দরুন তৈরি হয়েছে জোর জল্পনা।

অসম্মান নিয়ে থাকতে চাই না, ঋতব্রতের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দল ছাড়লেন আলিপুরদুয়ারের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা 2

তবে কী গেরুয়া পথেই হাঁটতে চলেছেন বিক্ষুব্ধ মোহন? ওই প্রশ্নে ধোঁয়াশা রেখে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে তাঁর দাবী, “যতক্ষণ দলে আছি, ভোটটা দলকেই দেবো।তবে কালচিনি বিধানসভা কেন্দ্রে দল যাঁকে প্রার্থী করেছে (পাসাং লামা), তাঁর হয়ে আমি কিছুতেই প্রচারে নামবো না।কিন্তু সাত দিন পর আমি দলে না থাকলে, আমার আর কোনও দায় থাকবে না।”

অসম্মান নিয়ে থাকতে চাই না, ঋতব্রতের বিরুদ্ধে তোপ দেগে দল ছাড়লেন আলিপুরদুয়ারের হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা 3

নাম না করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে তীব্র কটাক্ষ শানিয়ে তাঁর অভিযোগ, “জেলায় দলটা এখন চলছে গঙ্গার ওপারের এক পরিযায়ী নেতার কথায়। কোটি কোটি টাকার খেলা চলছে। বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় দলের ফল খারাপ হলে তিনি তো পালিয়ে যাবেন। তখন সাধারণ সমর্থকরা আমাদের চামড়া গুটিয়ে দেবে।” জেলা নেতৃত্বের পাশাপাশি রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও এদিন সরব হন মোহন শর্মা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “জেলা থেকে রাজ্যে নালিশ করা হয়েছে যে, আমি নাকি ড্রাগের ব্যবসা করি, ক্যাসিনো চালাই, গরু পাচার করি ও কাটমানি খাই। ওই সব মিথ্যা অভিযোগের তদন্ত চেয়ে চোখের জলে অরূপ বিশ্বাসের কাছে আর্জি জানিয়েছিলাম। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েও কোনও সুফল পাইনি। তাই এত অপমান নিয়ে দল ও দল মনোনীত সরকারি পদে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আজ থেকে নিজেকে অনেক মুক্ত মনে হচ্ছে।”

জেলায় নিজের গুরুত্ব ও সাংগঠনিক দক্ষতার প্রমাণ দিতে গিয়ে হুমকির সঙ্গে মোহন শর্মার দাবী, “জেলা পরিষদের ১৬ জন সদস্যই আমার সঙ্গে আছেন, এমনকি কালচিনি পঞ্চায়েত সমিতির ২২ জন সদস্যও আমার অনুগামী।” এমনকি তিনি এও দাবি করেন “বিমল গুরুংকে দলের পাশে টানতে, গৌতম দেবের উপস্থিতিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় যে গুরুদায়িত্ব দিয়েছিলেন তা আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছি। তার পরেও আমি নাকি দল বিরোধী কাজ করে চলেছি বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাতে আমি প্রচন্ড মর্মাহত।”

বিধানসভা ভোটের মুখে ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আলিপুরদুয়ার সফর প্রাক্কালে চরম ডামাডোল তৈরি হয়েছে জেলা তৃণমূলের অন্দরে। একেবারে ভোটের মুখে হেভিওয়েট এই নেতার দল ছেড়ে দেওয়া শাসক শিবিরে যথেষ্ট প্রভাব ফেলবে বলেই মনে মনে করছে, রাজনৈতিক মহল।

Previous articleরাজ্যে যে দল ক্ষমতায় আসবে সমর্থন তাকেই, সাফ জানালেন প্রাক্তন তৃনমূল নেতা তথা নির্দল প্রার্থী নান্টু পাল
Next articleইতিহাসে অনেক ‘জালিম রাজা’ প্রজাদের জল বন্ধ করে দিয়েছিল, কিন্তু আজ তারা শেষ! কেশপুর আর খড়গপুরে আব্বাস