“বউ-বউদিকে চাকরি দিয়েছি,” বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কালনার বিধায়কের, পোস্টারে ছয়লাপ এলাকা

347
“বউ-বউদিকে চাকরি দিয়েছি,” বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কালনার বিধায়কের, পোস্টারে ছয়লাপ এলাকা 1

নিউজ ডেস্ক: ‘টেট দুর্নীতি প্রকাশ্যে, বউ-বউদিকে চাকরি দিয়েছি বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কালনার বিধায়কের।’-এমনই পোস্টারে ছয়ে ছয়লাপ এলাকা। কালনার বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর বিরুদ্ধে পড়েছে এই ধরণের পোস্টার।

বৃহস্পতিবার যখন দ্বিতীয় দফা ভোট ঘিরে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রামে সকলের নজর আটকে ছিল, চড়ছিল উত্তেজনার পারদ, ঠিক সেই সময় পূর্ব বর্ধমানের কালনায় বিভিন্ন খবরের কাগজের কাটিং দিয়ে কালনার বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর বিরুদ্ধে এলাকায় পোস্টার পড়ল। পোস্টারে তাঁর ছবিও দেওয়া হয়েছে।
শহরের চকবাজার-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশ্বজিৎ কুণ্ডুর ছবি দিয়ে পোস্টার দেখা যায়। সেই পোস্টারে বিশ্বজিৎ কুণ্ডুকে নিয়ে কয়েক মাস আগে প্রকাশিত বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরের শিরোনামগুলিকে তুলে ধরা হয়েছে। কোনও পোস্টারে রয়েছে ‘টেট দুর্নীতি প্রকাশ্যে, বউ-বউদিকে চাকরি দিয়েছি বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কালনার বিধায়কের।’ এছাড়াও ‘বিধায়কের টেট নিয়ে মন্তব্যে অস্বস্তি দু’দলেই’ – এই খবরের শিরোনাম তুলে ধরা হয় সেই পোস্টারে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পোস্টার ঘিরে চঞ্চল্যও বাড়তে থাকে ঐ এলাকায়। কে বা কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে এই নিয়েই জোর তরজা এখন শাসক ও পদ্ম শিবিরে।

“বউ-বউদিকে চাকরি দিয়েছি,” বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি কালনার বিধায়কের, পোস্টারে ছয়লাপ এলাকা 2

বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ-এর অভিযোগ, “তৃণমূলের ছেলেরাই এই কাজ করেছে। সেই প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। ওদের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে। ওরা ভাবছে, এই করে হয়তো ওরা ভোটে জিতবে। গতবারের থেকে এইবারেও অধিক ভোটে আমরা জিতব।” অপরদিকে কালনার তৃণমূল প্রার্থী দেবপ্রসাদ বাগের দাবী, তৃণমূল এই ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। তিনি বলেন, “প্রতিযোগিতার লড়াইয়ে তৃণমূলকে তো ওরা টানবেই, এটা নতুন কিছু নয়। নিজেকে প্রচারের আলোয় আনতে অথবা নিজের টিআরপি বাড়াতে ওঁরাই এইসব করছেন। আবার এও হতে পারে, বিজেপির আদি লোকজন তাঁকে মানতে পারেননি, তাই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, কালনার তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু কয়েক মাস আগেই যোগ দিয়েছেন গেরুয়া শিবিরে। তারপর থেকেই তার বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের টেট কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সভায় তোপ দাগতে থাকেন তৃণমূলের নেতারা। বিশ্বজিৎও সেসময় অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, “তৃণমূলের জেলা সভাপতি স্বপন দেবনাথ, তপন চট্টোপাধ্যায়, অনুব্রত মণ্ডলের মত অনেক নেতাই চাকরি দিয়েছেন। আমার স্ত্রী, বউদি চাকরি পেয়েছেন ঠিকই। এ ছাড়া আমি যে ৬২ জনকে চাকরি দিয়েছি, তাঁরা সবাই তৃণমূলের কর্মী।” এই খবরই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদমাধ্যমগুলির নাম দিয়েই শিরোনামগুলিকে তুলে ধরে বিশ্বজিতের ছবি দিয়ে পোস্টার তৈরি করা হয়। ভোটের আগে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই তৃণমূলই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব।