জায়গা কখন ছাড়তে হয় ভালোভাবেই জানি; মুকুলের বার্তায় কোন রহস্যের ইঙ্গিত লুকিয়ে, জল্পনা বঙ্গ রাজনীতিতে

105
জায়গা কখন ছাড়তে হয় ভালোভাবেই জানি; মুকুলের বার্তায় কোন রহস্যের ইঙ্গিত লুকিয়ে, জল্পনা বঙ্গ রাজনীতিতে 1

অশ্লেষা চৌধুরী: জায়গা কখন‌ কোথায় ছাড়তে হয়, তা ভালোভাবেই জানি।‌ এটাও একটা আর্ট, যা সবাই পারে না। মুকুলের মন্তব্যে‌ তোলপাড় বঙ্গ রাজনীতি। তবে কী দলে নতুন তৃণমূলি মুখের কারণেই কী কোণঠাসা হয়ে পরছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ–সভাপতি মুকুল রায়! সম্প্রতি মুকুল রায় বলেছেন, ‘এখন জায়গা ছেড়ে দেওয়ার পালা শুরু হয়েছে। আমি জায়গা ছেড়ে দিচ্ছি। জায়গা ছাড়াটাও একটা আর্ট। এটাও শিখতে হয়।’ আর এই সভাতে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু-রাজীব দুজনেই। তবে কাকে জায়গা ছাড়ছেন মুকুল রায়? কেনই বা তাঁকে জায়গা ছাড়তে হচ্ছে? কী এমন হল, যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে, যে তাঁকে এই কথা বলতে হচ্ছে? সেই নিয়েই‌ উঠছে প্রশ্ন। সেই সাথেই দলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও অভিযোগের সুর শোনা গিয়েছিল মুকুলের গলায়। তাঁকে রাজ্য বিজেপি ঠিকঠাক কাজে লাগাচ্ছে না। বিজেপির সর্বভারতীয় সভপতি হওয়ার পরও তাঁর আক্ষেপ রয়ে গিয়েছে। দিল্লীতে গিয়ে অমিত শাহের কাছেই তিনি অভিযোগ করেছিলেন। তারপর অবশ্য তাঁর মানভঞ্জন হয়। ফের বাংলায় ফিরে তৃণমূল ধ্বংসে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন তিনি।

জায়গা কখন ছাড়তে হয় ভালোভাবেই জানি; মুকুলের বার্তায় কোন রহস্যের ইঙ্গিত লুকিয়ে, জল্পনা বঙ্গ রাজনীতিতে 2

এখন প্রশ্ন শুভেন্দু-রাজীবদের আগমনে কি মুকুল রায়ের গুরুত্ব কমল বিজেপিতে? মুকুল রায়কে ব্যবহার করা হয়ে গিয়েছে, এবার শুভেন্দু-রাজীবদের ব্যবহার করতে চাইছে একুশের ভোটের আগে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তৃণমূলকে ভাঙা প্রায় সম্পূর্ণ। বিজেপি টার্গেট পূরণ করে ফেলেছে মুকুল রায়কে দিয়ে। তাই মুকুলের গুরুত্ব কমেছে।

অন্যদিকে অমিত শাহও গত কয়েকদিন বারবার রাজীবের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। এমনকী তিনি যে ডুমুরজলার সভায় ভার্চুয়াল বক্তৃতা করবেন, সেই তথ্য প্রথম শোনা যায় রাজীবের মুখেই। তবে কি শুভেন্দু এবং রাজীব সম্পর্কেও আলাদা আলাদা ‘মূল্যায়ন’ করতে শুরু করেছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব? এই বিষয়ে কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য, রাজ্যে যে কোনওভাবে সরকার দখল করা। তবে এবার আমরা যোগদান বন্ধ করব।’

তবে শাসক শিবিরে, ভাঙণ ধরিয়ে দল ভারী করার যে প্রবণতা পদ্ম শিবিরে দেখা যাচ্ছে এবং তৃণমূল ত্যগীরা যেভাবে ‘গুরুত্ব’ পাচ্ছেন, তা নিয়ে পদ্ম–শিবিরে ক্ষোভ চাপা নেই। পদ্ম শিবিরের নব্য-পুরাতনের কলহ বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। আর তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে গিয়ে মুকুল বাবু সেখানে যে স্থান পেয়েছিলেন, তার তুলনায় আড়ালে চলে যাচ্ছেন বলে অনেকের ধারণা। তবে সেটা কি শুভেন্দু–রাজীবদের উত্থানের জন্য? সেই প্রশ্ন এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে। তার মধ্যেই আবার জায়গা ছাড়া নিয়ে এভাবে বার্তা দিলেন মুকুল!

Previous articleদলত্যাগী তৃণমূলীদের বিরুদ্ধে জায়গায় জায়গায় পোস্টার; পুরোনো ও নতুন দলের চাপে যেন যাঁতাকলে পিষছেন সদ্য তৃণমূল ত্যাগীরা
Next articleরেঞ্জ অফিসার থেকে ফুলবাবু হয়ে উঠার আরেক নাম পাপন মহন্ত