নার্সের চাকরি করলে ছাড়তে হবে পাড়া! করোনা আবহে ফের করোনাযোদ্ধাকে হেনস্থা খাস কলকাতায়

155

ওয়েব ডেস্ক : করোনা সংক্রমণের পর কেটে গিয়েছে ৫ মাস। চিকিৎসক-নার্সরা রোগীদের সারিয়ে তুলতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ দীর্ঘ কয়েকমাস কেটে গেলেও মানুষের সামাজিক ছুঁৎমার্গ এখনও কাটেনি। কলকাতার বুকে এমনই এক ঘটনার প্রমাণ মিলল। করোনা রোগীদের দিনরাত সেবা করে নিজেও মারণ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন বেহালার রায় বাহাদুর রোডের বাসিন্দা এক নার্স। দিন কয়েক আগেই করোনা যুদ্ধে জয়লাভ করে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। কিন্তু বাড়ি ফিরতেই প্রতিবেশীদের অমানবিকতার মুখে পড়েন ওই করোনা যোদ্ধা৷ করোনামুক্ত নার্সকে পাড়াছাড়া করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন প্রতিবেশীরা। অভিযোগ, বেহালার রায় বাহাদুর রোডের বাসিন্দা ওই নার্সকে রীতিমতো হুমকির সুরে প্রতিবেশীরা বলছেন, যদি তিনি পাড়ায় থাকতে চান তবে তাঁকে চাকরি ছাড়তে হবে, নইলে তাকে কোনোভাবেই পাড়ায় থাকতে দেওয়া হবে না। গত কয়েকদিন ধরে প্রতিবেশীদের লাগাদার হুমকি শোনার পর শেষমেশ সোমবার বেহালা থানার দ্বারস্থ হয়েছেন ওই নার্স। যদিও এই ঘটনায় পুলিশ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছেন।

আরও পড়ুন -  দুর্গত এলাকা প্রদর্শন করে বসিরহাটে নামতেই আওয়াজ উঠল,মোদি মোদি

জানা গিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে চলতিমাসের ১০ তারিখ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আলিপুর কম্যান্ড হাসপাতালের ওই নার্স। সেখানে তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হলে তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে৷ এরপরই তাঁর ছেলে ও স্বামীর করোনা পরীক্ষা করা হলে দুজনেরই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবুও তাঁর ছেলে ও স্বামী দুজনেই নিয়ম মেনে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এর মধ্যেই গত ২০ তারিখ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বেহালার বাড়িতে ফেরেন ওই নার্স। অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পর থেকেই পাড়া, প্রতিবেশীদের রোষের মুখে পড়তে হয় ওই নার্সের গোটা পরিবারকে। করোনামুক্ত হয়ে ফিরে আসার পরও নার্স নাকি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে, এই আতঙ্কে তাদের পাড়া ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। শুধু তাই নয়, পৌরসভার সাফাই কর্মীরা যাতে ওই নার্সের বাড়ি থেকে আবর্জনা না পরিষ্কার করেন সেকথাও বলে রাখেন প্রতিবেশীরা।

যেহেতু এরপর থেকে ওই নার্স ফের হাসপাতালে গিয়ে করোনা রোগীদের সেবা করবেন, সেহেতু ফের সংক্রমণের আশঙ্কা এবং তাঁর থেকে পাড়ার অন্যান্য বাসিন্দাদের শরীরেও মারণ ভাইরাস আধিপত্য বিস্তার করতে পারে এই ভয়ে ক্রমাগত তাকে চাকরি ছাড়ার জন্য জোর করছেন স্থানীয়রা৷ এরপর একপ্রকার বাধ্য হয়েই ধরনের হেনস্তার মুখে পড়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ওই পরিবার। পুলিশ গিয়ে পাড়ায় প্রতিবেশীদের বুঝিয়েও আসে। কিন্তু তাতেও বিশেষ কোনও লাভ হয়নি। এতে হেনস্তা আরও বেড়েছে বলেই অভিযোগ। এরপর সোমবার ফের থানায় যান নার্সের ছেলে। এবার পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে প্রতিবেশীদের এইধরনের হেনস্থার মধ্যে কতদিন এভাবে তাঁরা পাড়ায় থাকতেন পারবেন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ওই করোনাযোদ্ধার পরিবার।

নার্সের চাকরি করলে ছাড়তে হবে পাড়া! করোনা আবহে ফের করোনাযোদ্ধাকে হেনস্থা খাস কলকাতায় 1