প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহাবিলে ১কোটি টাকা দান করে শীর্ষে আইআইটি খড়গপুর

281
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: পিএম কেয়ারস ফান্ডে এক কোটি টাকা দান করে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে শীর্ষ স্থানে আইআইটি খড়গপুর। করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিল নামক ১৯৪৮ সালে তৈরি হওয়ার বাইরে এসে করোনা মোকাবিলায় একটি নতুন তহবিল গঠন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার নাম দেওয়া হয় পিএম কেয়ার ফান্ড। সেই তহবিলেই এই দান করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আইআইটির অধ্যাপক অধ্যাপিকা, বিভিন্ন আধিকারিক ও শিক্ষাকর্মীদের একদিনের বেতন মিলিয়ে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বুধবারই অনুদান দেওয়ার কথা আইআইটি খড়গপুরের তরফে জানানো হয়। উল্লেখ্য এখনও অবধি যতগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী কেয়ার ফান্ডে দান করেছে তারমধ্যে এটাই এখনও অবধি সর্বোচ্চ বলে জানা গেছে।

Advertisement

আইআইটি খড়গপুর অধিকর্তা ভিরেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, “আমরা সবার কাছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে করোনা মোকাবিলার জন্য আর্থিক অনুদানের আবেদন জানিয়েছিলাম। আমরা আনন্দিত যে আইআইটি খড়গপুর সবাই তাঁদের  একদিনের বেতন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান হিসেবে দিয়েছেন। আমরা এই অনুদান দেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের কাছে জানিয়েছি।’ ‘  উল্লেখ্য দেশের প্রাচীনতম ও বৃহত্তম আইআইটি খড়গপুরের অধ্যাপক ও অধ্যাপিকার সংখ্যা প্রায় ৮০০র কাছাকাছি এবং শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। এঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের ১দিনের বেতন দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন এই ত্রান তহবিলকে।

Advertisement
Advertisement

এরই পাশাপাশি, আইআইটি খড়গপুর তাঁদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রাক্তনীদের কাছে একটি আপৎকালীন তহবিল গঠন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। যাতে আগামী ছ’মাস আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে ও তার বাইরে থাকা আর্থিকভাবে দুর্বলদের আর্থিক সহযোগিতা করা যায। তবে শুধু অনুদান দেওয়াই নয়, একাধিক কর্মসূচিও নিয়েছে আইআইটি খড়গপুর কর্তৃপক্ষ। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের পরামর্শ অনুযায়ী লকডাউনের আগেই শ্রেনী পাঠ বন্ধ করে দিয়ে অনলাইন পঠনপাঠন শুরু করে দিয়েছিল আইআইটি কর্তৃপক্ষ। সংক্রমন এড়াতে অধ্যাপক অধ্যাপিকাদের বাড়িতে বসেই কাজ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি গবেষকরাও বাড়িতে বসেই তাঁদের কাজ চালিয়ে যান। আর সেই পরিস্থিতির মধ্যেই করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বেশ কিছু নতুন বিষয় তৈরি করে ফেলেন গবেষকরা। যার মধ্যে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য স্বচ্ছ শিরস্ত্রানটি রীতিমত উল্লেখ যোগ্য। ক্যাম্পাসের মধ্যেই চলছে নিজেদের প্রয়োজনে স্যানিটাইজেশন, মাস্ক ইত্যাদি তৈরি। গবেষক ছাত্রদের একটি অংশের তৈরি করেছেন বাতাসকে ভাইরাস মুক্ত করার মত পদ্ধতিও তাঁরা আবিষ্কার করেছেন। করোনা যুদ্ধে এসব উপকরনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে এই বড় অঙ্কের দান আইআইটি খড়গপুরকে করোনা যুদ্ধের আন্তরিক ও একনিষ্ঠ সৈনিক বলেই আরও একবার প্রমানিত করল।