ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-প্রাক্তনীদের চাপে শেকল ভাঙল আইআইটি-খড়গপুরের (IIT-Kharagpur)! ১২মাস পর খুলল দ্বিতীয় গেট

1106
ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-প্রাক্তনীদের চাপে শেকল ভাঙল আইআইটি-খড়গপুরের (IIT-Kharagpur)! ১২মাস পর খুলল দ্বিতীয় গেট 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুক্রবার সাত সকালে আইআইটি-খড়গপুর(IIT-Kharagpur) কর্তৃপক্ষের একগুঁয়েমি মনোভাব ভেঙে দীর্ঘ ১২ মাস পর দ্বিতীয় গেট খুলে দিতে বাধ্য করলেন ছাত্র-শিক্ষক- অভিভাবাক- প্রাক্তনী জোট। করোনাকাল শুরু হওয়ার মুহুর্ত থেকেই আইআইটি কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের চারটি প্রবেশ দ্বারের তিনটিই বন্ধ রেখেছিল যা নিউ নর্মাল পরিস্থিতি চালু হওয়ার পরেও খোলা হয়নি। আর এরফলে চূড়ান্ত অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়েছিল পার্শ্ববর্তী বাসিন্দাদের যারা বিভিন্ন কারনে এই ক্যাম্পাসের ওপর নির্ভরশীল। যাঁদের নিত্য প্ৰয়োজনে ক্যাম্পাসে প্রবেশের জন্য কিলোমিটারের পর কিলোমিটার ঘুরতে হত। তারই প্রতিবাদে বেশ কয়েকবার অবস্থান বিক্ষোভ হয়েছে আইআইটির প্রধান সড়কের সামনে কিন্তু কোনোও ভাবেই বাকি গেট খুলতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-প্রাক্তনীদের চাপে শেকল ভাঙল আইআইটি-খড়গপুরের (IIT-Kharagpur)! ১২মাস পর খুলল দ্বিতীয় গেট 2

শুক্রবার সকাল থেকে নতুন করে ফের ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান শুরু করেন আইআইটি ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত স্কুলগুলির ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবক এবং প্রাক্তনীদের জোট। যার মধ্যে হিজলী হাই স্কুলের অংশই ছিল প্রধানতঃ বেশি। প্রায় হাজার খানেক প্রতিবাদী সকাল ৭টা ১৫নাগাদ প্রধান গেটের সামনে অবস্থান শুরু করে দেয়। প্রচুর ছাত্রছাত্রী গেট ঘিরে বসে পড়ে। ফলে ক্যাম্পাস সড়ক পথে শহরের বাকি অংশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিবাদকারীরা জানিয়ে দেয় ক্যাম্পাসে প্রবেশের বাকি ৩টি গেট না খোলা অবধি আন্দোলন জারি থাকবে প্ৰয়োজনে দিনের পর দিন গেট বন্ধ করেই অবস্থান চলবে। হিজলী হাইস্কুলের শিক্ষক অমিতাভ দাস, প্রাক্তনী ও স্থানীয় নেতৃত্ব পূর্ণেন্দু পানিগ্রহী, আয়ুব আলি, খড়গপুর শহর যুব তৃনমূল সভাপতি অসিত পাল, স্থানীয় প্রাক্তন কাউন্সিলর অপূর্ব ঘোষ, শিক্ষিকা ও প্রাক্তন কাউন্সিলর স্মৃতিকনা দেবনাথ, প্রাক্তন শহর চেয়ারম্যান জহরলাল পাল প্রমুখরা অবস্থানে সামিল হন।

ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক-প্রাক্তনীদের চাপে শেকল ভাঙল আইআইটি-খড়গপুরের (IIT-Kharagpur)! ১২মাস পর খুলল দ্বিতীয় গেট 3

অবস্থান ঘন্টা খানেক চলার পরই ছুটে আসেন পুলিশ কর্তারা। খড়গপুর মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দীপক সরকার, খড়গপুর শহর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক রাজা মুখার্জী প্রমুখরা আসেন ঘটনাস্থলে। আসেন খড়গপুর শহর বিধায়ক প্রদীপ সরকার। আন্দোলনকারীদের দাবির প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তাঁরা। আন্দোলনকারীরা তাঁদের জানান, নিউ নর্মাল পরিস্থিতি চালু হওয়া স্বত্ত্বেও আইআইটি কর্তৃপক্ষ পড়ে রয়েছেন সেই লকডাউনের যুগেই। গত মার্চ মাস থেকে সমস্ত গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এরফলে ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত বাজার, রান্নার গ্যাস,ব্যংক, পোস্ট অফিসে যাঁদের যেতে হয় তাঁদের সাড়ে তিন, চার কিলমিটার পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে।

এরই মধ্যে সরকার স্কুল খোলার কথা ঘোষণা করেছেন এবং স্কুল চালু হয়ে গেছে। একই সমস্যায় পড়েছেন পড়ুয়া, শিক্ষকরা। যাঁদের আসতে হয় প্রেমবাজার,গোপালি, সালুয়া কিংবা হিজলী কো-অপারেটিভ সোসাইটির দিক থেকে তাকে আর আড়াই কিলোমিটার ঘুরে পুরীগেটের দিকের প্রধান ফটক দিয়ে। তালবাগিচা, রথতলা এলাকার পড়ুয়াদের জি-টাইপ দুর্গামন্দির গেটের পরিবর্তে আরও দেড় কিলোমিটার দূরে প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে ক্যাম্পাসের ভেতরে ফের দেড় কিলোমিটার পথ ভাঙতে হচ্ছে।
এরপরই পুলিশ আধিকারিকরা আলোচনায় বসেন আইআইটির নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে। আপদকালীন অবস্থায় অবিলম্বে ক্যাম্পাসের দক্ষিণপ্রান্তে অবস্থিত গ্যাস-গোডাউনের দিকে প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। এরপরই অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।

যদিও হিজলী হাই স্কুলের শিক্ষক অমিতাভ দাস বলেন, এতে কিছুটা হলেও সমস্যা লাঘব হয়েছে ঠিকই আর সেই কারণে অবস্থান আপাতত প্রত্যাহার করছি ঠিকই কিন্তু সমস্ত গেট খোলার দাবি থেকে সরছিনা আমরা। কিছুদিন সময় দেওয়া হল, সমস্ত গেট না খোলা হলে ফের অবস্থান শুরু করব আমরা।” এদিকে সমস্ত গেট খোলা নিয়ে আলোচনায় বসার জন্য আইআইটি কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছেন খড়গপুর মহকুমা শাসক। শুক্রবার বেলা ২টায় সেই আলোচনা হওয়ার কথা।

আইআইটি কর্তৃপক্ষের একটি সূত্রে বলা হয়েছে, “আইআইটি তার সমস্ত গেট যাতায়াতের জন্যই তৈরি করেছে তাই চিরদিনের জন্য গেট বন্ধ রাখার প্রশ্নই নেই কিন্তু অতিমারি সংক্রমনের সঙ্গে আপোষ করে নয়। সেই মত আরও একটি গেট খোলা হল। ক্যাম্পাসের মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী সব গেট খুলে দেওয়া হবে।’