খোলার সপ্তাহ না পেরুতেই বাড়ল করোনা সংক্রমন! ফের ঝাঁপ বন্ধ করে দিল IIT

706
খোলার সপ্তাহ না পেরুতেই বাড়ল করোনা সংক্রমন! ফের ঝাঁপ বন্ধ করে দিল IIT 1

অশ্লেষা চৌধুরী: করোনা ভয় জয় করেই সরকারি পরামর্শ আর নির্দেশ নিয়েই খুলেছিল IIT Madras কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই মহামারীর থাবায় ফের বন্ধ হল প্রতিষ্ঠান।

করোনা আবহে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নভেম্বরের শেষদিকে কোভিড বিধি মেনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি খুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছিল কেন্দ্র। ডিসেম্বরের প্রথম দিন থেকেই খুলে দেওয়ার কথা ছিল সেসব। কিন্তু তারও এক সপ্তাহ প্রতীক্ষার পর ৭ ডিসেম্বর থেকে খোলা হয়েছিল আইআইটি, মাদ্রাজ (IIT- Madras)। কিন্তু খুলে যাওয়ার এক সপ্তাহর মধ্যেই তরতর করে চড়ল করোনা সংক্রমণের পারদ, যার জেরে কার্যত বাধ্য হয়েই বন্ধ করে দিতে হল প্রতিষ্ঠান। জানা গিয়েছে, আইআইটি, মাদ্রাজের অন্তত ৬৬ জন পড়ুয়া, গবেষক এবং কর্মীর দেহে এই মুহূর্তে থাবা বসিয়েছে মহামারীর ভাইরাস।

খোলার সপ্তাহ না পেরুতেই বাড়ল করোনা সংক্রমন! ফের ঝাঁপ বন্ধ করে দিল IIT 2

জানা গিয়েছে, গত ৭ তারিখ আইআইটি,মাদ্রাজ খোলার পর গবেষণার জন্য প্রায় ৭০০ জন পড়ুয়া, শিক্ষাকর্মী ও অশিক্ষক কর্মীরা ফিরেছিলেন। তাঁরা সকলে হস্টেলে থাকছিলেন। সেখান থেকেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। একে একে ৬৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস বাসা বাঁধায় আর ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখায়নি কর্তৃপক্ষ। তাই প্রথমেই লকডাউনের আওতায় আনা হয় গবেষণাগার, অ্যাকাডেমিক বিল্ডিংকে। এরপর ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের দরজাও বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার জানানো হয়েছে, আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হল আইআইটি, মাদ্রাজ। গোটা চত্বর স্যানিটাইজ করা হবে এবং প্রত্যেকের করোনা পরীক্ষা হবে। ক্লাস আপাতত হবে অনলাইনে। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার কাজে এমনিই অনেকটা ক্ষতি হয়েছে বলে আক্ষেপ করেন গবেষকেরা। কারণ, সব কাজ অনলাইনে সম্ভব নয়; অন্তত এই ক্ষেত্রে । ফলে অন্তত ল্যাবরেটরির কাজের জন্য তাঁরা চাইছিলেন, প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক। কিন্তু সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করে অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো আইআইটি,মাদ্রাজ খোলার পরও করোনার থাবায় তা ফের বন্ধ করে দিতে হল। ফলে এখানকার গবেষকরা নিজেদের কাজে আরও খানিকটা পিছিয়ে গেলেন।

একে তো এইভাবে সবকিছু গ্রাস করে নিচ্ছে এই মারণ ভাইরাস। সমগ্র বিশ্বের পাশাপাশি আমাদের দেশটাকেও নিজের ঘেরাটোপে নিয়ে ফেলেছে সে। এখনও পর্যন্ত ভাইরাসের খাদ্যে পরিণত হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। ৯৯ লক্ষ মানুষের শরীরে এখনও বাসা বেঁধে রয়েছে। মুখ থুবড়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। কেটে গিয়েছে আমাদের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ। পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। তার পর দীর্ঘ নয় মাস পর যা9ও বা উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ এল, তাতেও বাধ সাধল করোনা। খোলার পরেও ফের বন্ধ করতে হল আইআইটি মাদ্রাস। ফলে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে গেলেন এখানকার গবেষকেরা।