লকডাউনে পুড়ে ছাই আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা প্রায় ২০টি দোকান, মজুত গ্যাস সিলিন্ডারে ভয়াবহ অবস্থা

4440
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: ভায়বহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল আইআইটি ক্যাম্পাসের মধ্যে থাকা প্রায় ডজন খানেক দোকান। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ লাগা এই আগুনে ক্ষতির পরিমান লক্ষাধিক টাকা বলেই জানা গিয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা যে দোকানগুলি পুড়ে গিয়েছে তার সবটাই ছোট ছোট দোকান বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। তাঁদের পুঁজির সর্বস্বই এই আগুনে নিঃশেষ হয়ে গেছে বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। অনেকেই হা হুতাশ করে বলেছেন নতুন করে দোকান গুছিয়ে ওঠা তাঁদের পক্ষে আর সম্ভব হবে কিনা সন্দেহ। আইআইটি খড়গপুর সূত্রে জানা গেছে সবজি, ডাব, খাবার, দর্জি, ম্যাগাজিন সহ প্রায় ২০টি দোকান ছিল ওই একই সারিতে যার প্রত্যেকটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, কোনও কিছুরই প্রায় অবশিষ্ট নেই।

Advertisement

জানা গেছে আইআইটির টেকনলজি বা টেক মার্কেট বলে পরিচিত ওই মার্কেট কমপ্লেক্সের মধ্যেই পৃথক সারিতে একই সঙ্গে যুক্তছিল দোকানগুলি। প্রত্যক্ষদর্শীদের অনুমান করা হচ্ছে সন্ধ্যে সাড়ে সাতটা নাগাদ দোকানগুলির লাগোয়া একটি ট্রান্সফরমার থেকেই প্রথমে লাগোয়া একটি দোকানে এই আগুন লাগে। লকডাউনের কারনে শুধু মাত্র দিনের বেলায় দোকান খোলা থাকে তাই ঘটনার সময় কেউ ছিলনা তাই প্রথমে নজরে পড়েনি কারও। যেদিকে আগুন লাগে অর্থাৎ বাজারটির উত্তর দিকে আইআইটির আবাসনগুলি পরিত্যক্ত হওয়ায় লোকজনও ছিলনা ফলে মানু্ষের চোখের আড়ালেই অনেকটাই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পথ চলতি আইআইটির নিরপত্তা রক্ষীদের যখন নজরে আসে তখন আগুন অনেকটাই ছড়িয়ে গেছে। সাথে সাথে খবর যায় পুলিশ এবং দমকলে। আইআইটি থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দুরে খড়গপুর দমকলের সদর দপ্তর হওয়া স্বত্তেও দমকল কিছুটা দেরিতে আসে বলে অভিযোগ।

Advertisement
Advertisement

খড়গপুর দমকলের দুটি ইঞ্জিন কাজ শুরু করলেও খাবার দোকানগুলির ভেতরে মজুত গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হতে শুরু করলে বিপদ আরও বেড়ে যায়। দুটি খাবার দোকান ও একটি ভেলপুরীর দোকানে অন্তত আটটি গ্যাস সিলিন্ডার ছিল যার তিনটি বিস্ফোরন হয়। ইতিমধ্যে সালুয়া ইএফআর ব্যাটেলিয়ন থেকে আরও একটি ইঞ্জিন আসে। আগুন ততক্ষনে ভয়ানক রূপ ধারন করেছে। আগুনের শিখায় পুড়তে শুরু করেছে আশেপাশের বড় বড় গাছ গুলিও। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রনে আসলেও ততক্ষনে সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সব মিলিয়ে কত ক্ষতি হয়েছে তার পরিমান এখনও নির্ধারন করা যায়নি। যদিও ট্রান্সফরমার থেকেই আগুন লেগেছে এমনটা সরকারি ভাবে এখনও জানানো হয়নি। ট্রান্সফরমার থেকে নাকি শট সার্কিট থেকে অথবা অন্য কি কারনে আগুন লেগেছে তাও পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ ও দমকল সূত্র জানিয়েছে।