খাস কলকাতায় করোনা রোগীর রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ

189
খাস কলকাতায় করোনা রোগীর রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ 1

ওয়েব ডেস্ক : খাস কলকাতায় করোনা রোগীর রহস্যমৃত্যু। বুধবার ভোরে নারকেলডাঙা মেন রোডের একটি আবাসনের নীচ থেকে করোনা আক্রান্ত এক বৃদ্ধের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, আত্মহত্যাই করেছেন ওই করোনা রোগী। তবে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে ওই বৃদ্ধকে খুন করা হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে ফুলবাগান থানার পুলিশ।

জানা গিয়েছে, নিহত রামকিশোর কেজরিওয়াল নামক বছর ৭০ এর ওই বৃদ্ধ পেশায় ব্যবসায়ী। পরিবার সহ নারকেলডাঙা মেন রোডের আবাসনে থাকতেন ওই বৃদ্ধ। জুলাইয়ের শেষের দিকে ওই ব্যাবসায়ীর শরীরে জ্বর কাশী সহ একাধিক করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। সে অনুযায়ী তাঁর করোনা পরীক্ষাও করা হয়। এরপর গত ২৭ জুলাই জানা যায় ওই বৃদ্ধ করোনা আক্রান্ত। এরপরই পরিবারের সদস্যরাও করোনা পরীক্ষা করান। রিপোর্টে জানা যায় প্রত্যেকেই মারণ ভাইরাসে সংক্রমিত। এরপর থেকে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল প্রত্যেকের। কিন্তু বুধবার সকালে আচমকা আবাসনের সামনেই রামকিশোর কেজরিওয়ালের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান আবাসনের নিরাপত্তাকর্মী। বিষয়টি নজরে আসতেই খবর দেওয়া হয় ফুলবাগান থানায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।

খাস কলকাতায় করোনা রোগীর রহস্যমৃত্যু, খুন নাকি আত্মহত্যা খতিয়ে দেখছে পুলিশ 2

ঘটনায় মৃতের পরিবারের দাবি, গত জুন মাসেই এলাকার একজন প্রোমোটারের কাছ থেকে একটি ফ্ল্যাট কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন রামকিশোর কেজরিওয়াল। সে অনুযায়ী ওই ফ্ল্যাট কেনার জন্য প্রোমোটারকে ২ কোটি টাকাও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রোমোটার টাকা নিলেও এখনও পর্যন্ত ফ্ল্যাট হস্তান্তরিত করেননি রামকিশোরবাবুকে। সে কারণেই দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন ওই বৃদ্ধ। তার ওপর করোনা সংক্রমণ হওয়ায় আরও ভেঙে পড়েন তিনি। করোনামুক্ত হওয়ার পরও আদেও সমাজে আগের মতই চলাফেরা করতে পারবেন কিনা এনিয়ে চিন্তিত ছিলেন তিনি। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যাই করেছেন ওই ব্যক্তি। তবে করোনার কারণেই আত্মহত্যা নাকি প্রোমোটারের সঙ্গে বিবাদের কারণেই অবসাদে আত্মঘাতী হয়েছেন ওই বৃদ্ধ তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসাথে খুনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পুলিশ। তবে যেহেতু এখনও পর্যন্ত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসেনি, সেকারণে আপাতত রিপোর্ট হাতে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন -  দিল্লির আনাজ মান্ডি এলাকায় ব্যাগের কারখানায় ভয়াবহ আগুনে মৃত ৪৩জন শ্রমিক, আহত আরও অনেকে