ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আবারও মৃত্যু রাজ্যে; করোনা সংক্রমিত মহিলার শরীরে থাবা বসিয়েছিল এই ফাঙ্গাস

103
Advertisement

নিউজ ডেস্ক: কোভিড সংক্রমণে নাজেহাল দশা বঙ্গবাসীর। দৈনিক সংক্রমণ থেকে মৃত্যু, কোনও কিছুই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক বাড়িয়েছে মিউকোরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। শুক্রবারে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে দ্বিতীয় মৃত্যু হল রাজ্যে। হরিদেবপুরের বাসিন্দা ৩২ বছরের মহিলা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পর ভর্তি হয়েছিলেন শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর, মহিলা করোনার পাশাপাশি ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের আক্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের ওষুধ অ্যাম্ফোটিরিসিন-বিও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই শুক্রবার ভোরে মৃত্যু হয় তাঁর।

Advertisement

এনিয়ে করোনা ও ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে দ্বিতীয় মৃত্যুর ঘটনা ঘটল কলকাতায়। এর আগে করোনামুক্ত হওয়ার পর ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হন এক প্রবীণ মহিলা। তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরই সেখানে মৃত্যু হয় তাঁর। এর আগে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত চারজন রোগীর সন্ধান মিলেছিল এই রাজ্যে। যদিও এঁদের মধ্যে তিন জন ঝাড়খণ্ড ও এক জন বিহারের বাসিন্দা ছিলেন। চার রোগীর মধ্যে তিনজনই দিশা চক্ষু হাসপাতালে চিকিত্‍সাধীন ছিলেন। চতুর্থজন চিকিত্‍সা সংক্রান্ত নথি পাঠিয়েছিলেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।

Advertisement
Advertisement

অন্যদিকে করোনা-মহামারীরতে যেখানে গোটা দেশ ছারখার হয়ে যাচ্ছে, তখন ভয়াবহ এই অসুখকেও মহামারী ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারী ঘোষণার জন্য প্রত্যেক রাজ্যকে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, এই রোগকে ‘মহামারী আইন’-এর তালিকাভুক্ত করা হোক। রাজ্যগুলিকে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস রোগ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রককে জানাতে হবে।

ইতিমধ্যেই,দেশে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের’ ক্রমবর্ধমান রোগ এবং এর সাথে সম্পর্কিত ওষুধের ঘাটতি দেখে কেন্দ্রীয় সরকার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। শুক্রবার সরকার এই রোগ মোকাবেলায় বেশ কয়েকটি বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার করোনা ভ্যাকসিন তৈরির জন্য আরও পাঁচটি নতুন সংস্থাকে লাইসেন্স প্রদানের পাশাপাশি দেশে ক্রমবর্ধমান ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের’ ওষুধের জন্য বড় ঘোষণা করেছে। এখন অবধি ৫ টি সংস্থা দেশে আম্ফোটেরিকিন বি ভ্যাকসিন তৈরি করছিল। এর মধ্যে রয়েছে সিরাম এবং ভ্যাকসিনস লিমিটেড, বিডিআর ফার্মাসিউটিক্যালস, সান ফার্মা, সিপলা, লাইফ কেয়ার ইনোভেশন। একই সময়ে, এর ওষুধগুলি মাইলান ল্যাব থেকে আমদানি করা হচ্ছে।

সরকার এখন নতুন ৫ টি সংস্থা নাটকো ফার্মাসিউটিক্যালস, আলেম্বিক ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্যুফিক বায়োসায়েন্স, এম্কিউর ফার্মাসিউটিক্যালস এবং লাইকারকে লাইসেন্স দিয়েছে। এর পরে, দেশে আম্ফোটেরিকিন বি ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সংস্থার সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। যার কারণে দেশের মানুষের ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের’ চিকিৎসার জন্য ভ্যাকসিনের ঘাটতি থাকবে না।