প্রচন্ড তুষারপাত অগ্রাহ্য করেই সদ্যোজাত সন্তান ও তার মাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছালেন ভারতীয় সেনাকর্মীরা

116
প্রচন্ড তুষারপাত অগ্রাহ্য করেই সদ্যোজাত সন্তান ও তার মাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছালেন ভারতীয় সেনাকর্মীরা 1

অশ্লেষা চৌধুরী: সাদা ঘন বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছে চারিদিক। তার ওপর অনবরত চলছে তুষারপাত। কিন্তু সেই সকল কিছু প্রতিকূলতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে এক সদ্য প্রসূতি ও তাঁর নবজাত সন্তানকে হাসপাতাল থেকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ী ফেরালেন সেনাকর্মীরা। এক হাঁটু বরফ ভাঙতে ভাঙতে কাঁধে করে ওই মহিলা ও তাঁর সন্তানকে তাঁরা নিরাপদে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে কাশ্মীরের সোপরে।

 

প্রচন্ড তুষারপাত অগ্রাহ্য করেই সদ্যোজাত সন্তান ও তার মাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছালেন ভারতীয় সেনাকর্মীরা 2

এই ঘটনার ছবি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেনা জওয়ানরা বরফে ঢাকা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে একটি স্ট্রেচারে করে ওই মা ও তাঁর সন্তানকে পাজালপোরার একটি হাসপাতাল থেকে দুনিওয়ারের বাড়ীতে নিয়ে যাচ্ছেন। এই ঘটনা যখন ঘটে, তখন জম্মু কাশ্মীরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল শূন্যের নীচে। প্রচণ্ড তুষারপাতে বন্ধ হয়ে যায় রাস্তা। কিন্তু তাতেও দমানো যায়নি ভারতীয় সেনাদের। বরফে ঢাকা সাড়ে তিন কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে মা ও সন্তানকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেন তারা। তবে এও জানা গিয়েছে, এলাকার বাসিন্দারা এবং নার্সিং কর্মীরা সেনা কর্মীদের সাহায্য করেছেন।

তবে এমন ঘটনা এই প্রথম নয়, এর আগে মঙ্গলবার ৫ই জানুয়ারি প্রায় এমনই একটি ঘটনায় সেনা কর্মীরা কুপওয়াড়ার করালপুরা থেকে এক অন্তঃসত্ত্বাকে খাটিয়ায় চড়িয়ে তাঁর বাড়ী থেকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সঙ্গে ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে সহায়তা করা এক নার্সিং কর্মীও। এ জন্য ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল তাঁদের। কিছু পরে সেই মহিলা এক সুস্থ পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

প্রসঙ্গত, কাশ্মীরে প্রবল তুষারপাত চলছে গত ৩ দিন ধরে। কাশ্মীর উপত্যকার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, রাস্তাঘাট আটকে গিয়েছে বরফে, বিদ্যুৎ চলে গিয়েছে। বন্ধ হয়ে গিয়েছে কাশ্মীরের লাইফলাইন শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক। ২৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক কাশ্মীরকে অবশিষ্ট ভারতের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এই কঠিন পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভীষণ ভাবে ব্যহত হচ্ছে। প্রশাসন প্রাণপণে চেষ্টা করছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রাস্তার বরফ পরিষ্কার করে জনজীবন কিছুটা স্বাভাবিক করতে।