কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন জগন্নাথ; বীর সেনার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ধূপগুড়ি

195
কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন জগন্নাথ; বীর সেনার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ধূপগুড়ি 1

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: কফিনবন্দি হয়ে ঘরে ফিরলেন সেনা জওয়ান জগন্নাথ রায়। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের পশ্চিম শালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা তিনি। সেন্ট্রাল কাশ্মীরের শ্রীনগর-বারমুল্লা জাতীয় সড়কের উপর লাওয়াপোরোতে সিআরপিএফের ৭০ নং ব্যাটেলিয়নের কনভয়ের ওপর টহলদারি দেওয়া কালীন গত ২৫ শে মার্চ হঠাৎই ছুটে আসে এলোপাথাড়ি গুলি। জঙ্গিদের সেই অতর্কিত হামলায় শহীদ হন ২ জওয়ান এবং গুরুতর আহত হন ৩ জন। তার মধ্যে একজন ছিলেন ধূপগুড়ির সেনা জওয়ান জগন্নাথ রায়। জখম হয়েই প্রথমে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ও তারপর লড়ছিলেন মৃত্যুর সঙ্গে। কিন্তু শেষমেশ সেই যুদ্ধে পরাজিত হলেন জগন্নাথ। বুধবার সকালে জগন্নাথের কফিন বন্দি দেহ বাগডোগরা বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

গত ২৫ মার্চ শ্রীনগর-বারামুলা জাতীয় সড়কের উপর টহল দিচ্ছিলেন সিআরপিএফের ৭০ নম্বর ব্যাটেলিয়ান-এর জওয়ানরা। সেই সময়ে আচমকাই সিআরপিএফ কনভয়ের উপর এলোপাথাড়ি গুলি ছুঁড়তে শুরু করে লস্করের ৩-৪ জন জঙ্গি। জঙ্গিদের গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন ধূপগুড়ির বাসিন্দা সিআরপিএফের জওয়ান জগন্নাথ রায়। শনিবারই জগন্নাথের দাদা, শ্যালক সহ পরিবারের তিন সদস্য জগন্নাথকে দেখতে পৌঁছে যান হাসপাতালে। সেখান থেকে বাড়ির সদস্যরা জানতে পারেন চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন তিনি। তবে সোমবার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁর শহীদ হওয়ার কথা পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়।

কফিনবন্দি হয়ে ফিরলেন জগন্নাথ; বীর সেনার প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ধূপগুড়ি 2

এই খবর পাওয়া মাত্রই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। শুধু তাই নয়, জগন্নাথ রায়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্রই শ্মশানের নীরবতা বিরাজ করছে ধূপগুড়ি এলাকায়। জগন্নাথের বাবা গত হয়েছেন অনেক আগেই। ষাটোর্ধ্ব মা প্রমীলা রায়, দাদা, বৌদি, ভাইপো ও স্ত্রী সহ এক পুত্র সন্তান রয়েছে জগন্নাথের। এদিন সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছায় শহীদের নিথর দেহ। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় শহীদ জওয়ানকে সিআরপিএফ কাওয়াখালী ক্যাম্পে। বাগডোগরা বিমানবন্দর এবং সিআরপিএফ কাওয়াখালী ক্যাম্পে শহীদ জগন্নাথকে সম্মান জানান আধিকারিকরা। এরপর তাঁর নিথর দেহ বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যান সিআরপিএফের কর্মী এবং আধিকারিকেরা। তাঁর পরিবারে এখন কেবলই কান্নার রোল, শোকে মর্মাহত তাঁর পরিবার থেকে শুরু করে এলাকাবাসী সকলেই।

উল্লেখ্য, চলতি মাসে একাধিকবার সেনাদের সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াই চলেছে। গত ২২ মার্চ জম্মু ও কাশ্মীরে গুলি বিনিময়ে চার লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গির মৃত্যু হয়েছিল। ওই গুলি বিনিময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর এক জওয়ান জখম হয়েছিলেন।