দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ল ঝাড়গ্রাম! ‘করোনা-কোমর্বিডিটি’তে মারা গেলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড

1318

নিজস্ব সংবাদদাতা: মর্মান্তিক দুঃসংবাদ অরন্য শহরে। করোনা যুদ্ধের প্রথম সারির যোদ্ধা, ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের ডেপুটি সিএমওএইচ-২ ডঃ সুবোধ মণ্ডলের অকাল প্রয়ান ঘটল সোমবার দুপুরে। কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে বেশ কিছু শারীরিক উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিলেন তিনি কিন্তু তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল করোনা সংক্রমনও। দু’দিকের আক্রমনেই মধ্য পঞ্চাশেই প্রান হারালেন তিনি।

ঝাড়গ্রামে দায়িত্ব নিয়ে আসার পর সদা হাস্যময় মানুষটি এ শহরের আপনজন হয়ে উঠেছিলেন। তিনি ও তাঁর স্ত্রী একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
তাঁর প্রকৃত বাড়ি নদিয়া জেলার হাঁসখালিতে। চিকিৎসক সুবোধ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে কিডনির সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। ইদানিং সপ্তাহে একাধিকবার তাঁকে ডায়ালসিসও করতে হত। অসুস্থতার জন্য বর্তমানে তিনি অফিস থেকে ‘ছুটি’তে ছিলেন।

চিকিৎসক সুবোধ মণ্ডলের হঠাৎই শ্বাসকষ্ট হওয়ায় গত ২৬ আগষ্ট ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর স্ত্রী। এরপরই দেখা যায় করোনা পজিটিভ। সাথে সাথেই স্বাস্থ্য দপ্তরের পরামর্শে তাঁকে কলকাতার এমআর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার বিশেষ উন্নতি না হওয়ায় এবং বহুমুখী সুবিধা সম্পন্ন চিকিৎসা পরিষেবার জন্য তারপর কলকাতারই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সুবোধবাবুকে। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের পক্ষ থেকে চিকিৎসার সব রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছিল সুবোধবাবুর জন্য। কিন্তু সমস্ত চেষ্টাই ব্যর্থ করে দিয়ে ওই বেসরকারি হাসপাতালে ইসোমবার দুপুরে কলকাতার তিনি শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করেন।

আরও পড়ুন -  সংক্রমণের আশঙ্কায় ৭ দিন গৃহবন্দী থাকার ঘোষণা করেও সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার দার্জিলিংয়ের

যেহেতু করোনা আক্রান্ত ছিলেন তাই তার মরদেহ সরকারি উদ্যোগে সৎকার করা হবে বলে প্রয়াত স্বাস্থ্যকর্তার স্ত্রীকে গাড়ি করে নদিয়ায় বাড়িতে পাঠানোর উদ্যোগ নেয় ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। তাঁর মৃত্যুর খবরে ঝাড়গ্রাম শহরে শোকের আবহ।

দুঃসংবাদে ভেঙে পড়ল ঝাড়গ্রাম! 'করোনা-কোমর্বিডিটি’তে মারা গেলেন স্বাস্থ্য বিভাগের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড 1