Homeএখন খবরভুল শুধরে ঝাড়গ্রাম থেকে ভাইকে নিয়ে গেল পুলিশ, দাদা আপাতত করোনা হাসপাতালেই

ভুল শুধরে ঝাড়গ্রাম থেকে ভাইকে নিয়ে গেল পুলিশ, দাদা আপাতত করোনা হাসপাতালেই

নিজস্ব সংবাদদাতা: অবশেষে ভুল শুধরালো ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার সন্ধ্যার পর করোনা আক্রান্তকে বাড়ি থেকে নিয়ে হাসপাতালের দিকে নিয়ে গেল পুলিশ। শনিবার সাড়ে সাতটা নাগাদ ঝাড়গ্রাম শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দুরের ওই গ্রাম থেকে ১৮ বছরের ওই তরুনকে গাড়িতে তুলে রওনা দিয়েছে পুলিশ। রাতেই তাঁকে পূর্ব মেদিনীপুরের মেচোগ্রামের করোনা হাসপাতালে ভর্তি করার কথা যেখানে ইতিমধ্যেই পজিটিভ না হয়েও স্বাস্থ্য দপ্তরের ভুলের মাশুল দিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই তরুনের ৩০ বছর বয়সী দাদা।

মেচোগ্রামের বড়মা করোনা হাসপাতালে ভুল করে নিয়ে আসা ওই তরুন শুক্রবার রাতে জানান, ”গতকাল রাতেই আমাদের পরিবারকে পুলিশ জানিয়েছিল যে, আমার ভাইকে নিয়ে আসা হবে। সেইমত আমার ভাই তৈরী হয়েই ছিল কিন্তু শুক্রবার সারাদিন পুলিশ যায়নি। রাতে খবর পেলাম ভাইকে বাড়ি থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় নিজেদের গাড়িতে নিয়ে গেছে পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে আমার কথাও হয়েছে। ভাইয়ের সঙ্গে থাকা পুলিশ কর্মীরা জানিয়েছেন ভাইকে তারা মানিকপাড়ায় নিয়ে যাবেন প্রথমে, সেখানে কোনও জায়গা না পাওয়া গেলে তাকে আমি যেখানে আছি সেই বড়মা হাসপাতালেই আনা হবে।”

এখনও অবধি জানা গেছে ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ায় ঝাড়গ্রাম জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি ইনস্টিটিউয়াল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার রয়েছে। সেখানে ওই তরুনের সাথে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তারই আত্মীয় আরেক তরুণকে। আপাতত দুটি পৃথক ঘরে রাখা হয়েছে তাদের। তবে যেহেতু ওই সেন্টার করোনা চিকিৎসার জন্য নয় তাই ওখানে তাকে রাখা যাবে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। আপাতত এখানেই পর্যবেক্ষণে আছে তারা।

এদিকে নিজের অবস্থা নিয়ে যথেষ্টই উদ্বিগ্ন ভাইয়ের বদলে করোনা চিকিৎসারত তরুন। গত ৫ দিন ধরেই করোনা রুগীদের মধ্যেই রয়েছেন তিনি। তরুনের বক্তব্য, “হাসপাতালের দোতলায় যে কক্ষতে আমি রয়েছি সেখানে ১১টি শয্যা রয়েছে যার ১০টি পরিপূর্ন। প্রতি তিন হাত ব্যবধানে একটি শয্যা। একই সাথে বাথরুম ইত্যাদি ব্যবহার করছি। ওরা করোনা আক্রান্ত কিন্তু আমি তো নই। ফলে খুব টেনশন হচ্ছে। বৃহস্পতিবার যখন জানতে পারি আমি করোনা আক্রান্ত নই, আক্রান্ত আমার ভাই। তখন থেকে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি আমি।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার মুখের এবং নাকের রস সংগ্ৰহ করা হয়েছে এই যুবকের। ফলাফল নেগেটিভ হলে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে আবার যেহেতু আক্রান্ত না হয়েও আক্রান্তদের মধ্যে এতদিন কাটিয়েছেন তাই আরেক দফা পরীক্ষা করা হতে পারে।

উল্লেখ্য ওড়িশার সম্বলপুরে সোনার কারিগর হিসাবে কর্মরত এই তরুনের সাথে দেখা করতে গিয়ে লকডাউনে আটকে পড়েছিল তার ভাই। পরে দুজনেই বাড়ি ফেরে। গ্রামের লোকের কথা মত দুজনেই ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নমুনা দিয়ে আসে ৭মে, যেদিন তারা বাড়ি ফিরেছিল। ১০ তারিখ ভাইয়ের পজেটিভ আর দাদার নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। পুলিশ ভুল করে দাদাকে নিয়ে বড়মা হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। চারদিন চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার একটি সূত্র মারফৎ দাদা জানতে পারে সে নয়, পজিটিভ তার ভাই। এদিকে ভাই নেগেটিভ জানার পরই স্থানীয় এলাকায় ঘুরে বেরিয়েছে বলে অভিযোগ এলাকার মানুষের। ফলে আতঙ্ক রয়েছে গ্রামেও।

RELATED ARTICLES

Most Popular