জোট ভেঙে ভোটে লড়তে ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন! ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, আমরাও ঝড়খণ্ডে ভোটে লড়ব

504
জোট ভেঙে ভোটে লড়তে ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন! ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, আমরাও ঝড়খণ্ডে ভোটে লড়ব 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: “মমতা ব্যানার্জি হেমন্ত সরেনের বন্ধু হতে পারে কিন্তু এখানে মানুষের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি সেই দিক থেকে আমরা তাকে বন্ধু ভাবতে পারিনা । এই বারের ভোটে জেএমএম লড়ছে ।” এমনটাই জানিয়ে দিলেন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মুখ্য সচিব সুপ্রিয় ভট্টাচার্য। তৃনমূল সরকারের আমলে জঙ্গলমহলের আদিবাসীদের কানা কড়িও উন্নতি হয়নি জানিয়ে ভট্টাচার্য বলেন, ” এখানে দেখলাম অনেকের পায়ে জুতো নেই গায়ে শোয়াটার নেই । ঝাড়খণ্ডের মত ঝাড়গ্রামের ভাষা সংস্কৃতি এক । তাই আমরা সংকল্প নিয়েছি ঝাড়খণ্ডের মত উন্নয়ন করবো ঝাড়গ্রামে।”

বৃহস্পতিবার পশ্চিমাঞ্চল ( জঙ্গলমহল) কেন্দ্র শাসিত পরিষদ ও পঞ্চম তপশিলী ভুক্ত করার দাবিতে একটি জনসভায় ঝাড়গ্রাম এর জামদা সাকার্স ময়দানে উপস্থিত হন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন। ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চার সেই সভায় ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আদিবাসীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। আজকে চিন্তার বিষয় এমন চাক্কিতে পেশায় হচ্ছে তাতে আদিবাসীরা সব দিক দিয়ে বঞ্চিত হয়ে পড়ছেন।”

জোট ভেঙে ভোটে লড়তে ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন! ক্ষুব্ধ মমতা বললেন, আমরাও ঝড়খণ্ডে ভোটে লড়ব 2

বিজেপির “বিরুদ্ধেও তোপদেগে তিনি বলেন , আমাদের বিরুদ্ধে আইন আনছে যা গরিবের জন্য খুব বিপদ । টাকার দৌলতে কৃষি বিক্রি করে দিচ্ছে ভবিষ্যতে আরও কি কি বিক্রি করবে কে জানে । দেশে আর কিছু নেই যা পূর্ব পুরুষের সম্পত্তি ছিল তাও বিক্রি করে দিয়েছে । এদের আমলে রক্ত সস্তা আর জল দামি হয়ে গিয়েছে । দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে হেমন্ত সরেন বলেন , পুরনো কর্মীদের পুনর্জীবিত করতে হবে পার্টিকে লড়াই করার জায়গায় নিয়ে আসতে হবে । এটা আমার প্রথম সভা নয় এইতো শুরু । আজ নয়তো কাল এই এলাকার মানুষের জন্য লড়াই করতে হবে ।”

উল্লেখ্য ডিসেম্বর মাসে কলকাতায় ঝাড়খণ্ডের পরিবহণ মন্ত্রী চম্পাই সরেন সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে ছিলেন ঝাড়গ্রাম , মেদিনীপুর , পুরুলিয়া , বাঁকুড়া , দুই দিনাজপুর এবং মালদায় এবারের নির্বাচনে জেএমএম এর প্রার্থী দেওয়া হবে ।
২০১১ বিধানসভা নির্বাচনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের সমর্থনে জঙ্গলমহলে জয় যুক্ত হয় তৃণমূল কংগ্রেস । কিন্তু এবারের ২০১৮ পঞ্চায়েত ভোটের জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া , বাঁকুড়া , ঝাড়গ্রাম এই তিন জেলায় হঠাৎ করে বিজেপি মাথা তুলে দাঁড়ায়। ২০১৯ লোকসভায় বিজেপির ব্যাপক সাফল্য আসে এই জঙ্গলমহলে।

এরপর বাকি ভোটে যদি জেএমএম বা ঝাড়খণ্ড মুক্তিমোর্চা থাবা বসায় তবে শূন্য থলি নিয়ে জঙ্গলমহল থেকে ফিরতে হবে সম্ভবতঃ এটা আন্দাজ করেই কলকাতায় একটি সভায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন,  “ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন এসে ঝাড়গ্রামে রাজনীতি করছেন। আর আমরা ওখানে গিয়ে কত সমর্থন করেছিলাম। হেমন্ত সোরেন বাংলায় ভোট চাইলে, ঝাড়খণ্ডে অনেক বাঙালি আছেন, আমরাও সেখানে গিয়ে তাঁদের ভোট চাইব। আপনারা যদি এ রকম করেন, আমরাও করব।’’

Previous article‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে; ভরা জনসভায় উদ্ধৃত লাইন বলতে গিয়ে কটাক্ষের শিকার বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ
Next articleঅমিতের বঙ্গ সফরের আগে মমতার ছবি হাতে নিয়ে বিধায়ক পদে ইস্তফা রাজীবের! আগামীকালই স্পষ্ট করবেন অবস্থান