৮ ঘন্টা ধরে ঝাড়গ্রাম পুলিশের অস্ত্রাগারের ছাদে দাঁড়িয়ে রাউণ্ডের পর রাউন্ড গুলি জাওয়ানের

6318
৮ ঘন্টা ধরে ঝাড়গ্রাম পুলিশের অস্ত্রাগারের ছাদে দাঁড়িয়ে রাউণ্ডের পর রাউন্ড গুলি জাওয়ানের 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রায় ৮ ঘন্টা ধরে ঝাড়গ্রাম পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগারের ওপরে ওঠে রাউণ্ডের পর রাউন্ড গুলি চালিয়ে যাচ্ছেন এক জওয়ান আর তাতেই ঘুম ছুটেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগ জনক ও ভয়াবহ যে তাঁর কাছাকাছি যাওয়া মুশকিল হয়ে পড়েছে। বারংবার অনুরোধ করা স্বত্তেও নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছেনা ওই জওয়ানকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে উপায় খুঁজছেন পুলিশের শীর্ষ অধিকারিকরা।
ইতিমধ্যেই ওই জওয়ান আবার ফেসবুকে একটি পোষ্ট করে বিতর্ক তুলে দিয়েছেন যেখানে তিনি বলছেন, ‘হিন্দুদের এক হতে হবে, দেশদ্রোহীদের দেখে নিতে হবে।’ যদিও এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে রাজি নয় পুলিশ। পুলিশের মতে কোনও মানসিক চাপ থেকে যুবক এধরনের আচরন করছে। এরসঙ্গে ধর্মীয় কোনও বিষয় যুক্ত
নেই।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টা, এই প্রতিবেদন লেখার সময় ঝাড়গ্রাম পুলিশ লাইনের সামনে ব্যর্থ আক্রোশে ছুটে বেড়াচ্ছে অ্যান্টি ল্যান্ড মাইন গাড়ি। পুলিশ লাইন থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দুরে বিশাল বাহিনী নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ঝাড়গ্রাম পুলিশ সুপার অমিত  রাঠোর, স্পেশাল আইজি বাঁকুড়া রাজশেখরন। বারংবার মাইকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে জুনিয়র কনস্টেবল বিনোদ কুমার কে। কিন্তু যুবক নাছোড়বান্দা, পুলিশের হিসাবে ১৬ থেকে ২০ রাউন্ড আর স্থানীয়দের হিসাবে ৪০ রাউণ্ড গুলি চালিয়ে দিয়েছেন বিনোদ। দুপুর সাড়ে তিনটা নাগাদ এক জওয়ান পেছনের দিক থেকে দ্বিতীয়তলার অস্ত্রাগারের ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু টের পেয়ে বিনোদ গুলি চালালে নেমে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয় সে।

৮ ঘন্টা ধরে ঝাড়গ্রাম পুলিশের অস্ত্রাগারের ছাদে দাঁড়িয়ে রাউণ্ডের পর রাউন্ড গুলি জাওয়ানের 2

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে ঝাড়গ্রাম পুলিশ লাইনে আর্মারি সেকশন বা অস্ত্রাগারের দায়িত্বে আজ দুপুরে ছিলেন ৫ জওয়ান। দুজন দোতলায় অস্ত্রাগারের সামনে। বিনোদ সহ তিনজন অস্ত্রাগারের ছাদে। বেলা একটা নাগাদ হঠাৎ করেই বিনোদ নিজের ৭.৬২ এম এম এসএল অার উঁচিয়ে অন্য দুজনকে অস্ত্র সমর্পণ করতে বলে এবং দ্রুত নিচে নেমে যেতে বলে। একজন কোনও ক্রমে নিচে নেমে প্রাচীর টপকে পালাতে পারলেও অন্যজন কোথাও আটকে গেছে জানা যায়নি। এরপরই অবিরাম গুলি ছুঁড়ে যাচ্ছে সে। প্রথম দিকে ঘন ঘন গুলি চালালেও পরে কিছুক্ষন পরে পরে চালায়। শেষ গুলি শোনা গেছে বিকাল ৪টার আশে পাশে।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী তাঁর নিজের এসএলআরে প্রায় ৮০ রাউন্ড ও সতীর্থদের আগ্নেয়াস্ত্র দুটিতে ৬০ রাউন্ড করে গুলি রয়েছে। এদিকে গুলি চলার পরে ব্যারাকে মহিল পুরুষ, অফিসার নিয়ে কয়েক’শ জওয়ান বন্দি হয়ে অাছে এই মুহুর্তে। পুলিশ লাইনের ভেতরেই পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য আধিকারিকদের অফিস, আবাসন ও ব্যারাক।

জানা গেছে পুরুলিয়ার কোটশিলা থেকে আনা হয়েছে বছর ৩২য়ের যুবক বিনোদের মা, স্ত্রী ও ভাইপোকেও। তাঁদের একজনকে দিয়েও মাইকে বিনোদকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে কিন্তু বিনোদ রাজি হয়নি। ইতিমধ্যে হিন্দুত্বকে রক্ষা করার জন্য আরও দুবার ফেসবুক পোষ্ট করেছে সে। আপাতত গোটা এলাকা ব্ল্যাক আউট করে পুলিশ লাইন ঘিরে ফেলে সশস্ত্র পুলিশ। অপারেশনের পরিকল্পনা চলছে। বিনিদ্র রাত জাগতে তৈরি হচ্ছেন আধিকারিক ও জওয়ানরা।

Previous articleশুধু খড়গপুরেই করোনা আক্রান্ত ৬ আরপিএফ জওয়ান, খড়গপুর যোগে আরও ৩, মোট ৫৪ জওয়ান কোয়ারেন্টাইনে
Next articleফের ঘাটালে করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলল, লুকিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রী বহন করে আক্রান্ত যুবক, কোয়ারেন্টাইনে অর্ধশতাধিক