পরোপকারের নেশা! বারণ না শুনে বিদ্যুৎ লাইন সারাতে গিয়ে পুড়ে ছাই কেশপুরের বৃদ্ধ

2253
পরোপকারের নেশা! বারণ না শুনে বিদ্যুৎ লাইন সারাতে গিয়ে পুড়ে ছাই কেশপুরের বৃদ্ধ 1
পরোপকারের নেশা! বারণ না শুনে বিদ্যুৎ লাইন সারাতে গিয়ে পুড়ে ছাই কেশপুরের বৃদ্ধ 2
ট্রান্সফর্মার থেকে নামানো হচ্ছে বিষ্ণু পলমলকে

নিজস্ব সংবাদদাতা: বয়স ৬৮ কিন্তু যুবকের মতই তরতাজা আর চটপটে ছিল শরীরের ক্ষমতা। ৫০কিলো ধানের বস্তা পিঠে নিয়ে গাড়ি থেকে নামিয়ে অনায়াসে চলে যেতেন ধানকলে। আর ছিল পরোপকারের নেশা। কাল হল সেটাই মালিকের বারণ না মেনে ট্রান্সফর্মারে উঠে বিদ্যুৎতের সংযোগ ঠিক করতে গিয়ে উচ্চ পরিবাহী বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে পুড়ে জ্বলে গেলেন বৃদ্ধ। শনিবারের এই ঘটনায় পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর থানার দক্ষিণ পড়সুড়া আর গোটগেড়িয়া গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে মৃত ব্যক্তির নাম বিষ্ণুপদ পলমল। তাঁর বাড়ি কেশপুর ব্লকের ১৪ নম্বর ঝেঁতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের অঞ্চলের গোটগেড়িয়া গ্রামে। বিষ্ণুপদ পাশের ১৩নম্বর ধলহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ পড়সুড়া গ্রামের পঞ্চানন মল্লিক নামে এক ব্যক্তির ধান ভাঙানোর কলে কাজ করছেন প্রায় ২০বছর। মেশিন অপারেট করা থেকে মেকানিক ছিলেন তিনি। মল্লিকের ধান ভাঙানোর মেশিন ঘরের বিদ্যুৎ সংযোগ গিয়েছে অদূরেই একটি ট্রান্সফর্মার থেকে। যা দোগাছিয়া সাব স্টেশন থেকে আসা একটি ১১হাজার ভোল্টের লাইন থেকে নামানো।

পরোপকারের নেশা! বারণ না শুনে বিদ্যুৎ লাইন সারাতে গিয়ে পুড়ে ছাই কেশপুরের বৃদ্ধ 3

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই ট্রান্সফর্মার থেকে মেশিন ঘর অবধি আসা লাইনটি শুক্রবার থেকেই সমস্যা করছিল। মেশিন চলতে চলতে মাঝে মধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল সেটি। সাধারণ ভাবে মেশিন খারাপ হলে কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগের ছোটখাটো সমস্যা বিষ্ণুপদই সামলে নিত। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্যাটি বড় অনুমান করেই ধানকলের মালিক বিদ্যুৎ দপ্তরকেই খবর দেয় যা সরানোর জন্য দপ্তরের লোকের আসার কথা ছিল বলে মালিক জানিয়েছেন। এরই মধ্যে শনিবার বেলার দিকে এক ব্যক্তির ধান ভাঙানোর কাজ করছিলেন বিষ্ণুপদ। মেশিন চকাকালীন ধান সহ মেশিন মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। বিপাকে পড়েন চাষি।

এই অবস্থায় ওই চাষির সুবিধার জন্য

বিষ্ণুপদ নিজেই ট্রান্সফর্মারে উঠে যায়। তাঁর ধারণা ছিল ট্রান্সফর্মারের থেকে সংযোগকারি ফিউজ নড়ে গিয়েই বিপত্তি ঘটাচ্ছে। এর আগেও এধরনের কাজ করেছেন তিনি। এই কাজ করতে ওপরে থাকা ১১হাজার লাইনটির সংযোগ বন্ধ করাই শ্রেয় কিন্তু বিষ্ণুপদ চালু লাইনেই কাজ করতে গেছিলেন। আর সেটা করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ওই তারের সংস্পর্শে চলে আসেন তিনি। মুহূর্তেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে তাঁর শরীর। ঘটনাস্থলেই ট্রান্সফর্মারে ঝুলে পড়ে তাঁর মৃতদেহ।

ঘটনাটি দেখার পরই আতঙ্কে ছোটাছুটি করতে থাকেন স্থানীয় জনতা। কয়েকজন যুবক ট্রান্সফর্মারের জাম্পার ফেলে দেয়। কিন্ত তাতে ওপরের লাইন সরবরাহ থাকায় তখুনি তাঁকে নামানো সম্ভব হয়নি। এরপর বিদ্যুৎদপ্তরে খবর দেওয়া হলে তাঁরা দোগাছিয়া থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এরপরই স্থানীয় মানুষজন এবং বিদ্যুৎ কর্মীরা গিয়ে তাঁর দেহ উদ্ধার করেন। কেশপুর থানার পুলিশ সেই মৃতদেহ সংগ্ৰহ করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় দুই গ্রামেই শোকের ছায়া।