বিজয়াতেই উঠে গেল কোভিড হাসপাতাল! বিষণ্নতায় ঢেকে রয়েছে আড়াইশো পরিবারের গ্রাম

1460
বিজয়াতেই উঠে গেল কোভিড হাসপাতাল! বিষণ্নতায় ঢেকে রয়েছে  আড়াইশো পরিবারের গ্রাম 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রায় মাস খানেক ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একমাত্র গ্রামীন কোভিড হাসপাতালটি। গ্রামে ২৫০ জনের পরিবার যদিও গ্রামে এখনও অবধি কারও করোনা হয়নি তবুও গড়া হয়েছিল এই হাসপাতাল। এই গ্রাম ছাড়াও আশেপাশের শতাধিক গ্রামের লোক ভিড় করেছে সেই হাসপাতাল দেখতে। হাসপাতালের বাইরে ভেতরে করোনা প্রতিরোধ করার বার্তা আবার করোনা হলে যা যা করতে হবে তার নিদান। অনেক কিছুই শেখা হয়ে গিয়েছিল এই হাসপাতাল থেকে কিন্তু বিজয়া দশমীতেই উঠে গেল সেই হাসপাতাল। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর থানা থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দুরে মহিষদা গ্রামের সেই উঠে যাওয়া হাসপাতালকে ঘিরে এখন বিষাদের সুর গোটা গ্রাম জুড়ে।বিজয়াতেই উঠে গেল কোভিড হাসপাতাল! বিষণ্নতায় ঢেকে রয়েছে  আড়াইশো পরিবারের গ্রাম 2কেশপুরের মহিষদা নবারুন সংঘ ক্লাবের উদ্যোগে নিউ নর্মালের পুজোর থিমই ছিল করোনা হাসপাতাল। এবছর অতিমারি কালীন সময়ে২৭ তম বর্ষ ছুঁয়ে ফেলল এই পুজো। আগামী তিন বছরের মাথায় পুজোর ৩০তম বর্ষ পালন হবে তাই গত বছর থেকে ভাবনা ছিল অন্যরকম। একটু একটু করে জৌলুস বাড়িয়ে তিনবছর পরে বেশ জাঁকজমক করে তিনদশক পালন করা। কিন্তু করোনা বদলে দিল সব হিসাব। আড়ম্বর বাদ দিয়ে ভাবতে হল অভিনবত্বের কথা। এমন কিছু করতে হবে যাকে মনে রাখবে সব্বাই। আর সেই ভাবনা থেকেই গড়ে তোলা হল একটি করোনা হাসপাতালের মডেল।
না, মামুলি মডেল নয়, একেবারে একটি অস্থায়ী করোনা হাসপাতালের ধাঁচেই গড়া হয়েছিল এই মন্ডপ। ছিল লালারস সংগ্রহ কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড, আইসিইউ থেকে আইসোলেশান ওয়ার্ড। নাম দেওয়া হল নবারুণ করোনা হাসপাতাল। ভাল করে না দেখলে বোঝাই দায় এটা মডেল পুজো প্যাণ্ডেল।

আরও পড়ুন -  এবার পিংলায় করোনা আক্রান্ত মহিলা পুলিশ কর্মী, ডেবরাতেও আক্রান্ত পুলিশ, দুই থানা এলাকায় সংক্রমনে আরও দুই

অনান্য বছর বাইরে থেকে প্রতিমা দর্শন করা গেলেও করোনা কালে সাবেকীয়ানায় মোড়া দেবী প্রতিমা রইল অন্তরালেই। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে মুল মণ্ডপের গেটেই ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে “নো এন্ট্রি” বোর্ড। মণ্ডপের ভেতরে থাকবেন উদ্যোক্তাদের জনা কয়েক, তবে প্রত্যেকের জন্য মাস্ক, ফেশ শিল্ডের ব্যাবস্থা করা হয়েছে মহিষদা সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পক্ষ থেকে। উদ্যোক্তাদের পক্ষে পুজো কমিটির সম্পাদক দিব্যেন্দু মণ্ডল জানিয়েছে, ‘কোভিড বিধিকে মান্যতা দিয়ে মূল প্যান্ডেলের উল্টোদিকে খাটানো হয়েছে শামিয়ানা। সেই শামিয়ানায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ২০ জনের এক্ষেত্রে বসার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিজয়াতেই উঠে গেল কোভিড হাসপাতাল! বিষণ্নতায় ঢেকে রয়েছে  আড়াইশো পরিবারের গ্রাম 3

মহিষদা গ্রামে করোনার কোনও সংক্রমন ঘটেনি। এখনো অবধি করোনা মুক্ত এই গ্রাম। যদিও পরিযায়ী শ্রমিকের সূত্র ধরেই কেশপুর জুড়ে করোনার বাড়াবাড়ি হয়েছিল বহুলাংশে। এখন প্রকোপ কিছুটা কম হলেও মাঝে মধ্যেই দু’চার জন করে সংক্রমিত হচ্ছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে করোনা সচেতনতা খুবই জরুরি বলে মনে করেছেন উদ্যোক্তারা। এই উদ্যোগ নজর কেড়েছে জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদেরও। তাঁরাও বহুল প্রশংসা করেছেন এই উদ্যোগের। কিন্তু পুজো তো পুজোই তাই নিয়ম মেনে বিজয়াতেই শেষ করে দিতে হল এই হাসপাতালের কর্মযজ্ঞ। প্রতি বছরই তাই হয় কিন্তু এবারের মত এত বিষাদ বিজয়া আসেনি মহিষদায়। বিজয়ার দিনেও তাই বিগত করোনা হাসপাতালকে ছুঁয়ে রয়েছে গোটা গ্রাম।