জেলে বসেই তোলাবাজি খড়গপুরের নয়া ডনের, এসডিপিওর অভিযানে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার তিন সাকরেদ

257
জেলে বসেই তোলাবাজি খড়গপুরের নয়া ডনের, এসডিপিওর অভিযানে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার তিন সাকরেদ 1
জেলে বসেই তোলাবাজি খড়গপুরের নয়া ডনের, এসডিপিওর অভিযানে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার তিন সাকরেদ 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: শ্রীনু নাইডু ইতিহাস, আর বাসব রামবাবু নাকি তার রাজ্যপাট সম্প্রতি সঁপে দিয়েছেন খড়গপুরের নয়া ডন সঞ্জয় প্রসাদ। শ্রীনু নাইডুকে খুনে বর্তমানে সঞ্জয় বাঁকুড়ার জেলে। আর সেই জেল থেকেই একের পর এক ব্যবসায়ীকে তোলা চেয়ে হুমকি দিয়ে চলেছে খড়গপুরের নয়া ডন। রবিবার রাতে সঞ্জয়ের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতেই এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তোলা তুলতে গিয়ে খড়গপুরের মহকুমা পুলিশ শাসকের পাতা ফাঁদে অস্ত্র সমেত গ্রেপ্তার হল তিন দুস্কৃতি।

জেলে বসেই তোলাবাজি খড়গপুরের নয়া ডনের, এসডিপিওর অভিযানে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার তিন সাকরেদ 3

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
রবিবার রাতে খড়গপুর শহরের মালঞ্চ মাতামন্দির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ওই তিন দুষ্কৃতিরা বিকাশ বর্মা, সূরজ সিং ও এ.চন্দ্র রাও নামে সঞ্জয় প্রসাদের এই তিন সাকরেদ খড়গপুর শহরেরই বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের কাছ থেকে একটি স্কুটি, একটি দোনলা ইম্প্রোভাইজ পিস্তল ও কার্তুজ সহ মোবাইল ইত্যাদি উদ্ধার করেছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে খড়গপুরের ওই এলাকার এক ব্যবসায়ী আশিস গুপ্তার কাছে কয়েকদিন আগে একটি ফোন আসে যেখানে জনৈক সঞ্জয় প্রসাদ তাঁকে জানায় যে সঞ্জয়ের পাঠানো লোকেদের হাতে আশিস যেন তিরিশ হাজার টাকা তুলে দেয়। এরকমই একটি অভিযোগ দায়ের হয় খড়গপুর টাউন থানায়। ইতিমধ্যে বিষয়টি  মহকুমা পুলিশ শাসক সুকোমল কান্তি দাসের নজরেও এনেছিলেন এক ব্যবসায়ী। টাউন থানায় আভিযোগ দায়ের করার পরই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দেন দাস।

জেলে বসেই তোলাবাজি খড়গপুরের নয়া ডনের, এসডিপিওর অভিযানে অস্ত্র সহ গ্রেপ্তার তিন সাকরেদ 4

এদিকে রবিবার দুপুরেই আশিস গুপ্তার বাড়িতে হাজির হয় ওই তিন দুস্কৃতি। তারা সঞ্জয়ের কথা অনুসারে আশিসকে তিরিশ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে। আশিস জানিয়ে দেয় যে তিরিশ হাজার টাকা সে দিতে পারবেনা, এত টাকা তার কাছে নেই।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ”এরপরই ওই তিনজন আশিসকে জানিয়ে দেয় যে তারা আবার আসবে রাতে এবং তারমধ্যেই আশিস টাকা যোগাড় করুন না’হলে তারা আশিসকে মেরে ফেলে রেখে যাবে। এই হুমকি দিয়ে চলে যায়।”

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
ইতিমধ্যে আবারও ফোন আসে সঞ্জয়ের। সে আবারও জানায়, আশিসের ক্ষমতা জেনেই ১০/৫লাখ নয় মাত্র তিরিশ হাজার চেয়েছে। আর এই টাকা না দিলে তার পরিনতি খারাপ হবে। আশিসের কাছ থেকে ফের গোটা বিষয়টি জেনে এবার ফাঁদ পাতার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ।
মহকুমা পুলিশ শাসক দাস ২জন সাব ইনসপেক্টর, একজন সহকারি সাব ইনসপেক্টর ও কয়েকজন কনস্টেবল নিয়ে রবিবার রাত ১০টা ১৫নাগাদ এলাকায় পৌঁছে যান এবং আশিস গুপ্তার বাড়ির চারপাশে নজরদারি করতে শুরু করেন নির্দিষ্ট দুরত্ব থেকে। ১০টা ৪০নাগাদ তিনজনকে ফের আশিসের বাড়ির পথে আসতে দেখা যায় স্কুটি চালিয়ে। আশিসের ঘরের দরজায় প্রবেশের মুখেই পুলিশ ঘিরে ফেলে ওই তিন দুস্কৃতিকে। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয়।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সোমবার আদালতে পেশ করার সময় রবিবার দুপুরের এবং রাতের অপারেশনের ভিডিও ফুটেজ যা কিনা পাশের একটি সিসিটিভি থেকে পাওয়া গেছে সেই তথ্য পেশ করা হয়। ধৃতদের নিজস্ব হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
তবে গোটা ঘটনায় প্রশ্নও উঠেছে বাঁকুড়া জেল পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। সঞ্জয়ের জেলে বসে এই হুমকি নতুন নয়। চার মাস আগেও  এই  বাঁকুড়া জেল থেকেই সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ফোন করে তোলা আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল সেই ঘটনায়পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারও করেছিল । বাঁকুড়া জেল থেকে রিমান্ডে আনা হয়েছিল সঞ্জয়কে। সেই ঘটনার পর কম হৈচৈ হয়নি। তখনও বাঁকুড়ার জেলকর্মীদের বিরুদ্ধে জেলের মধ্যে সঞ্জয়কে মোবাইল যোগান দেওয়ার আভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তারপরেও জেল পুলিশ একই অবস্থানে রয়েছে সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই।