Homeএখন খবরদাদা আমি রিজার্ভে আছি

দাদা আমি রিজার্ভে আছি

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: বেলা সাড়ে ১২টায় গলার স্বর একটু চড়ল ঘোষকের যদিও গলাটা তখনও অনুরোধের। ‘যাঁরা যাঁরা রিজার্ভে আছেন এখানে এসে সই করে যান দয়া করে। স্থান,  খড়গপুর কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়-২। রবিবার টেণ্টের পর টেণ্ট সাজিয়ে ভোট সামগ্রী বিতরনের কাজ চলছে। যাঁদের উদ্দেশ্যে বলা তাঁদের কোনও নড়ন চড়ন আছে বলে মনে হলনা। সবাই ঘুরছে ফিরছে কিন্তু কেউই রিজার্ভদের জন্য ব্যবস্থা করে রাখা চেয়ারগুলোতে বসছেনা।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বেলা ১টায় ঘোষকের গলা আরও একটু কঠিন, ”কি হল ? আপনারা এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছেন অথচ সই করছেননা!” সম্ভবত নতুন ভোটের কাজে আসা এক তরুন এগিয়ে যেতেই অন্য একজন খপ করে তাঁর হাতটা ধরলেন, কোথায় যাচ্ছিস ? তরুন বললেন, সইটা করে আসি।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে ? শালা গেলেই এখন খপ করে ট্যাগ করে দেবে, তখন বুঝবি। তরুন পিছিয়ে এলেন। এরকমই লুকোচুরি চলছে। বেলা আড়াইটা, এবার রীতিমত চড়া গলা ঘোষকের। ‘যাঁরা ভাবছেন পোলিং পার্টি চলে গেলে আসবেন তাঁরা কিন্ত নিজেরাই বিপদে পড়বেন। সই না করলে রিলিজিং অর্ডার পাবেননা।’

সেই তরুন এবার উসখুশ করছেন দেখে প্রবীন গলা চড়ালেন, শোন ১৫বছর ধরে ইলেকশন করছি। ১২বার প্রিজাইডিং ছিলাম। কেউ কিচ্ছু করতে পারবেনা। তিনটের পর সই করব আর পাঁচটায় রিলিজ নিয়ে নেব।
২৭০টি বুথে ১০৮০ভোট কর্মী আসতে আসতে নির্বাচন সামগ্রী নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। ১৫শতাংশ রিজার্ভ থাকার মধ্যে তখনও রিজার্ভ থেকে যাওয়ার লড়াই চলেছে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
একই অবস্থা পুলিশ কর্মীদের মধ্যে। একদল ভোট কর্মী দৌড়ে এলেন টেণ্টে, দাদা আমাদের সঙ্গে থাকা পুলিশ নেই । দেখুন দেখুন , টেণ্টের  থেকে আওয়াজ এল। নম্বর কত , ব্যাচ নম্বর ? খোঁজ খোঁজ। কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ের বাইরে সার সার গাড়ি অপেক্ষা করছে ভোট কর্মীদের নিয়ে যাওয়ার জন্য। দাদা চলুন, ড্রাইভার তাড়া লাগায়। আরে কি করে যাব ? পুলিশ পাচ্ছিনা। সামনে তেঁতুল তলায় তিন কর্মী মনোযোগ দিয়ে তাস পিটিয়ে চলেছেন। প্রিজাইডিং অফিসার দৌড়ে গেলেন, দাদা আপনি আমাদের বুথে ? গম্ভীর ভাবে হাতের টেক্কা মাটিতে পাতলেন। তারপর অফিসারের দিকে তাকিয়ে বললেন, না দাদা , আমি রিজার্ভে আছি।

Advertisement

Advertisement

RELATED ARTICLES

Most Popular