খড়গপুরের রেলের হাসপাতালেই সুস্থ হলেন জওয়ান, বিষ মুক্ত শহর, বুধবারই খুলে যাবে দ্বার

3593
খড়গপুরের রেলের হাসপাতালেই সুস্থ হলেন জওয়ান, বিষ মুক্ত শহর, বুধবারই খুলে যাবে দ্বার 1
খড়গপুরের রেলের হাসপাতালেই সুস্থ হলেন জওয়ান, বিষ মুক্ত শহর, বুধবারই খুলে যাবে দ্বার 2

নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্য তাঁকে কোনও হাসপাতালে জায়গা দেয়নি। বাধ্য হয়ে রেলের হাসপাতালে রাখতে হয় তাঁকে, রেলের জোনাল হাসপাতাল তথা মেইন হাসপাতালে ভেন্টিলেশন নেই, নেই আইসিইউ। উদ্বিগ্ন রেল চার চারটি চিঠি দেয় জেলা প্রশাসনকে,অনুরোধ জানায়, জওয়ানকে কোনও কোভিড হাসপাতালে নিন,কারন রেলের হাসপাতাল কোভিড হাসপাতাল নয়,জওয়ানের পরিস্থিতি সঙ্কটজনক হলে বিপদ বাড়বে।কিন্তু জবাব দেয়নি রাজ্য, বাধ্য হয়ে রেলের হাসপাতালেই প্রবল উৎকন্ঠা নিয়ে ভর্তি। অবশেষে কোভিড মুক্ত হলেন রেলের সপ্তম এবং শেষতম আক্রান্ত জওয়ান। শুক্রবারই ওই জওয়ানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রেল হাসপাতালের দায়িত্ব প্রাপ্ত এক চিকিৎসক কর্তা জানিয়েছেন, ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! গুরুতর তেমন কিছুই হয়নি, গভীরতর সঙ্কটে পড়ে যাননি ওই জওয়ান।’

গত ৩০এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হওয়া ওই জওয়ানের ৯ দিনের মাথায় মুক্তির খবরে স্বস্তিতে রেল সেটেলমেন্ট এলাকা, স্বস্তিতে সারা খড়গপুর শহর। এর আগেই মুক্তি পেয়েছিলেন ৬ জওয়ান। তাঁদের অবশ্য রাজ্য সরকারের কোভিড হাসপাতাল বড়মা হাসপাতালেই চিকিৎসা হয়েছে। কোভিড মুক্ত হওয়ার পর ক’দিন নজরদারিতে রাখার পর তাঁদের ছুটিতে পাঠিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এই জওয়ানকে আপাতত ব্যারাকে রেখে পর্যবেক্ষন করা হবে বলে জানিয়েছেন খড়গপুর রেল হাসপাতালের চিফ মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট এস এ নাজমি।

খড়গপুরের রেলের হাসপাতালেই সুস্থ হলেন জওয়ান, বিষ মুক্ত শহর, বুধবারই খুলে যাবে দ্বার 3

অন্যদিকে খড়গপুর রেলসূত্রে আক্রান্ত ১১জন জওয়ানই আপাতত সুস্থ বলেই জানা গেছে। খড়গপুরে থাকা এই ৭ জন বাদে ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডে রয়েছেন ২জন। বাকি ২ জন হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে পোস্টিং ছিলেন। তাঁরাও সুস্থ বলেই খবর মিলেছে। বাকি ১৭ জন জওয়ান সহ রেলের আরও যে প্রায় ৯০ জন জওয়ানকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছিল তাঁদের সকলেই বর্তমানে নিরাপদ ও কোভিড মুক্ত রয়েছেন বলে রেল ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য মোট ২৭ জন রেল রক্ষী বাহিনী বা আরপিএফ জওয়ান খড়গপুর থেকে দিল্লি ও রাজস্থানে গেছিলেন। লকডাউনের পরে রেল পন্য পরিবহন শুরু করলে আটকে যাওয়া এই ২৭জনকে একটি বিশেষ পার্সেল ভ্যানে খড়গপুর ফিরিয়ে আনা হয়। ছুটিতে থাকা এক জওয়ান এলাহাবাদ থেকে এঁদের সঙ্গে ফিরে আসেন। সম্ভবত এই জওয়ানই করোনা আক্রান্ত ছিলেন যাঁর থেকে বাকিরা সংক্রমিত হয়ে পড়েন। ১৪ এপ্রিল এঁরা খড়গপুরে ফিরেছিলেন। ২০ তারিখ এই জওয়ানদের একজন যিনি বালেশ্বরে পোস্টিং ছিলেন তিনিই প্রথম আক্রান্ত হন।

এদিকে এই জওয়ানদের সংক্রমিত হওয়াতে খড়গপুর পৌরসভার আরপিএফ ব্যারাক সংলগ্ন ২টি ওয়ার্ড ২৬ ও ১৮ কন্টেনমেন্ট জোনের আওতায় চলে আসে। আরপিএফ সূত্রেই ওই জোনের আওতায় চলে আসে মেদিনীপুর পৌরসভার স্টেশনপাড়া ২৫নম্বর ওয়ার্ডও। ৪ঠা মে এই কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষনা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী আগামী বুধবার ১২মে কন্টেনমেন্ট মুক্ত হয়ে যাবে খড়গপুর ও মেদিনীপুর। তবে শর্ত একটাই নতুন করে এই এলাকায় কেউ যেন না আক্রান্ত হন। এখন খড়গপুর বাসীর সেটাই প্রার্থনা।