পরিকল্পনার অভাব, খড়গপুর পৌরসভা কাজ করতে না পারায় ফেরৎ যাচ্ছে আড়াই কোটি, দোষ চাপল রেলের ঘাড়েই

246
Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা: একেই বলে যত দোষ , নন্দ ঘোষ। খড়গপুর পৌরসভারও তেমনই অবস্থা, নিজেদের সমস্ত ব্যর্থতা অনায়াসে রেলের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়। সম্প্রতি আড়াই কোটি টাকা পৌরসভাকে সরকারের ঘরে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে জেলা পরিকল্পনা দপ্তর। দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, পৌরসভার অন্তর্গত ১১হাজার ২০৬টি পরিবারে  সুলভ শৌচাগার বানাতে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার যে টাকা বরাদ্দ করেছিল সেই টাকার পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি পুরসভা। সুতরাং যে টাকার কাজ হয়নি সেই টাকা ফেরৎ দিতে হবে। অঙ্কের মূল্যে ওই টাকার পরিমান ২কোটি ৪০ হাজার।
খড়গপুর পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে দুই সরকার মিলে বরাদ্দ করেছিল ৮কোটি ৯৬লক্ষ ৪৮হাজার টাকা। সেই টাকায় ৮হাজার ১০০টি পরিবারে শৌচাগার নির্মান হয়েছে অথবা নির্মানের কাজ চলছে। বাকি ৩হাজার পরিবার চিহ্নিত করতে পারেনি পুরসভা।

Advertisement

Advertisement
Advertisement

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
পুরসভা বলছে রেল এলাকায় তারা ওই শৌচাগার করতে চেয়েছিলেন কিন্তু রেলের বাধায় তা হয়ে ওঠেনি। এটা ঘটনা যে রেল এলাকায় কাজ করতে হলে রেলের বাধার মুখে পড়তে হয় পুরসভাকে। প্রশ্ন হল যদি তাই হয় তবে এমন প্রকল্প রেল এলাকায় পুরসভা করতে যাবে কেন যা বাস্তবায়িত না করতে পারলে টাকা সরকারের ঘরে ফেরৎ যাবে ? সরকারের তরফ থেকে তো বলা ছিলনা যে রেল এলাকাতে প্রকল্প করতেই হবে ! বরং বলা হয়েছিল নির্মল পরিবেশ গড়ার লক্ষ্যে কোথায় কোথায় শৌচাগার করার দরকার তার পরিকল্পনা পুরসভাই করবে।

(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
বিরোধীরা বলছেন, এমনটাও নয় যে পুরসভার বাকি অংশে গরীব পরিবার গুলিতে শৌচাগার হয়ে উদ্বৃত্ত হওয়ায় রেল এলাকায় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। বিরোধী কাউন্সিলাররা বলছেন, ৩৩নম্বর ওয়ার্ড রবীন্দ্রপল্লী, দিনেশ নগর এবং তালবাগিচা, ২৫নম্বর ওয়ার্ড কৌশল্যা, ১০নম্বর ওয়ার্ড মালঞ্চ প্রভৃতি এলাকায় হাজার হাজার পরিবার রয়েছেন যাদের সুলভ শৌচাগার পেলে উপকার হত কিন্তু বর্তমান পুরবোর্ড বিরোধী কাউন্সিলর অধ্যুষিত এলাকায় উন্নয়নের কাজই করতে চায়না। তাঁদের নিয়ে কোনও আলোচনা হয়না, সরকারি পরিকল্পনাগুলি জানানো হয়না। যদি হত তবে এই টাকা ফেরৎ যাওয়ার নয় উল্টে এই খাতে আরও টাকা বরাদ্দ হতে পারত।

এদিকে এ বছরেরই মাঝামাঝি রাজ্যের শতাধিক পুরসভার নির্বাচনকে সামনে রেখে উন্নয়ন খাতে পুরসভাগুলিকে ৮হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে চলেছে রাজ্য সরকার । কাজের গতি ও প্রকল্প বাস্তবায়নের তৎপরতার নিরিখেই কয়েকটি ধাপে সেই বরাদ্দ করা হবে বলে জানা গেছে । স্বাভাবিক ভাবেই যে পুরসভার টাকা ফেরৎ যাবে তাকে নতুন বরাদ্দ দিতে গিয়ে রাজ্য পাঁচ বার ভাববে এ বিষয়ে সন্দেহে কি ?