করোনা যুদ্ধের সৈনিকদের বর্ম যোগাচ্ছেন খড়গপুরের মহিলা ব্রিগেড, হাজার কিটের বরাত মেটাবেন তাঁরাই

248
করোনা যুদ্ধের সৈনিকদের বর্ম যোগাচ্ছেন খড়গপুরের মহিলা ব্রিগেড, হাজার কিটের বরাত মেটাবেন তাঁরাই 1

নিজস্ব সংবাদদাতা: করোনা যুদ্ধে অস্ত্রর চেয়ে সংকট বেশি শস্ত্রের। করোনা নিধনের অস্ত্র যদি ওষুধ হয় তবে শস্ত্র হল বর্ম। আর ডাক্তারি পরিষেবায় এই বর্মেরা পোশাকি নাম হল পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট বা পিপিই। বাংলায় বলা যেতে ব্যক্তি সুরক্ষা পোশাক। যা ছাড়া এই লড়াইয়ে এগিয়ে যেতে পারেন না চিকিৎসক নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীর দল। যদিও ঘটনা এটাই যে সর্বত্রই এই পিপিই-র অভাব বোধ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে তো রেনকোট পরে করোনা যুদ্ধে নামতে দেখা গেছে চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের। পর্যাপ্ত পিপিই-র অভাবে বিক্ষোভও হয়েছে কোথাও কোথাও।

এবার সেই পিপিই কিট বানাতে কাজে লেগে পড়েছেন দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মহিলা ব্রিগেড। দক্ষিন পূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশনে কর্মরত আধিকারিক ও কর্মীদের মূলতঃ গৃহিনীদের নিয়েই তৈরি সাউথ ইস্টার্ন রেলওয়ে উইমেন্স ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে এই কাজ চলছে খড়্গপুরে। ইতিমধ্যেই এক হাজার কিটের বরাত পেয়েছে তারা। এর মধ্যে দুশোটি কিট তৈরি করা হয়ে গেছে বলে জানান অর্গানাইজেশনের সভাপতি পদাধিকার বলে যিনি ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজারের গৃহিনী প্রিয়া প্রধান বলেন, “আইসিএমআরের নির্দেশ মতো ও তাদের ছাড়পত্র নিয়েই এই কাজ করছে রেল। রেলের পক্ষে এই কাজ করে দিচ্ছে খড়্গপুরের মহিলা ব্রিগেড।”

করোনা যুদ্ধের সৈনিকদের বর্ম যোগাচ্ছেন খড়গপুরের মহিলা ব্রিগেড, হাজার কিটের বরাত মেটাবেন তাঁরাই 2

এই পিপিই কিট রেলের বিভিন্ন হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের দেওয়া হবে বলে জানান প্রিয়া প্রধান। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অধীন বিভিন্ন হাসপাতালে এই জিনিসগুলি পৌঁছে যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন যা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে সামিল ডাক্তার ও নার্সদের কাজে লাগবে।
খড়গপুর রেলের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার তথা জন সংযোগ অধিকারিক আদিত্য চৌধুরী জানিয়েছেন, ” হু র নির্দেশিকা মেনেই এই বর্মের কাপড় ইত্যাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে। দেশে মাত্র ২টি জায়গায় পিপিই-র নির্মান সামগ্রী পাওয়া যায়। সেখান থেকেই আনা হচ্ছে কাঁচামাল। এরপর আইসিএমআর অর্থাৎ ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর মেডিক্যাল রিসার্চ য়ের গাইড লাইন মেনে তা বানানো হচ্ছে। কোথায় সেলাই করতে হবে এবং কিভাবে সেই সেলাই ঢাকতে হবে ইত্যাদি বিস্তারিত বিধি মেনেই কাজ চলছে।” আপাতত রেলের ডাক্তার নার্স বা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য তৈরি হলেও সরকারের নির্দেশ পেলে অন্য সংস্থাগুলিকেও তা সরবরাহ করা যেতে পারে বলে জানা গেছে।

ইতিমধ্যেই রেলের তরফে মাস্ক আর গ্লাভস তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেছিল এবার পিপিই বা পুরো পোশাক তৈরির কাজে ষোলো কলা পুর্ন করল রেল। অন্যদিকে রেল এলাকার মধ্যেই ২০০বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করে তা স্যানিটাইজ করে তৈরি রেখেছে রেল। প্রয়োজন হলেই তা খুলে দেওয়া হবে। অন্যদিকে তৈরি রয়েছে রেলের লাইনের ওপর বসে থাকা রেলকামরার করোনা ইউনিট গুলি। প্রয়োজন হলেই এলাকায় ছুটে যাবে সেগুলি।