ইমনের টানে স্রোত নামল খড়গপুর বইমেলায়! হিমেল হওয়ায় শরীর গরম করলেন দর্শকরা

368
ইমনের টানে স্রোত নামল খড়গপুর বইমেলায়! হিমেল হওয়ায় শরীর গরম করলেন দর্শকরা 1
ইমনের টানে স্রোত নামল খড়গপুর বইমেলায়! হিমেল হওয়ায় শরীর গরম করলেন দর্শকরা 2

ইমনের টানে স্রোত নামল খড়গপুর বইমেলায়! হিমেল হওয়ায় শরীর গরম করলেন দর্শকরা 3নিজস্ব সংবাদদাতা: ইমন হওয়ায় ভর করেই ভিড় উপচে খড়গপুর বইমেলায়। শীতের চাদর দুরে সরিয়ে নাচলেন ইমনের তালে তালে নাচলেন দর্শকরাও। ২১তম খড়গপুর বইমেলা নিজের ছন্দে ফিরল বইমেলা শেষ হওয়ার ঠিক আগের দিন। তা নাহ’লে আয়োজকদের আফসোসটা বোধহয় থেকেই যেত। গত শনিবার শুরু হয়েছিল বইমেলা কিন্তু সান্ধ্যকালীন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া খুব একটা ভিড় নজরে পড়েনি এবার। বিশেষ করে এবার জোর ধাক্কা খেয়েছেন বই বিক্রেতারা। ভিড় না হওয়ায় মুখের হাসি মিলিয়ে গেছিল তাঁদের। বুধবার অবধি অনেকেই জানিয়েছেন যে রাহা আর খাওয়া খরচাই উঠে আসছেনা তাঁদের।

অবস্থাটা কিছুটা বদলেছিল বৃহস্পতিবার থেকে। একটু একটু করে ভিড় বাড়তে শুরু করে ওইদিন থেকেই। শুক্রবারও আরও একটু ভিড় বাড়ায় বই বিক্রেতাদের আশা কিছুটা হলেও বাড়ে। তবে মরশুমের সেরা ভিড় অবশ্য হল শনিবার। এদিন খড়গপুর যেন ঝাঁপিয়ে পড়েছে বইমেলায়। ঘটনাক্রমে এদিন শহরের পারদ নেমেছে ১১ ডিগ্রির ঘরে। হারিয়ে যাওয়া শীত ফিরে এসেছে উত্তুরে হওয়ায় ভর করে। শনিবার বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া উদ্যানের রেকর্ড বলেছে স্থানীয় তাপমান নুন্যতম ১১.৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর সর্বোচ্চ তাপমান ২৩.৪৮ ডিগ্রি। দিনের গড় তাপমান ১৬.৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সারাদিনই কমপক্ষে ঘন্টায় ৫ কিলোমিটার বেগে উত্তুরে বাতাস বয়ে গেছে। শিরশিরানী ঠান্ডা অনুভূত হয়েছে দিনভর।ইমনের টানে স্রোত নামল খড়গপুর বইমেলায়! হিমেল হওয়ায় শরীর গরম করলেন দর্শকরা 4

ইমনের টানে স্রোত নামল খড়গপুর বইমেলায়! হিমেল হওয়ায় শরীর গরম করলেন দর্শকরা 5

যদিও শনিবার সে সবকেই যেন তুড়ি মেরে হওয়ায় উড়িয়ে দিয়ে মানুষের ঢল নেমেছে খড়গপুর টাউনহলে।এদিনের মুখ্য আকর্ষণ অবশ্যই ইমন। যাঁর গানের তালে নেচে উঠেছে পুরো বইমেলা প্রাঙ্গণ। ইমন আসবে বলে বিকাল ৫টা থেকেই দর্শকাসন দখল করা শুরু হয়ে গেছিল। বিকাল ৬ টাতেই সমস্ত চেয়ার দখল হয়ে যায়। ইমন এসেছেন রাত প্রায় সাড়ে আটটা, তখন মুল মঞ্চের চেয়ার তো দুরের কথা চাঁদোয়ার নীচে পা রাখার জায়গা নেই।

খড়গপুরের মিনি ভারতের কথা মাথায় রেখেই ইমন এদিন বেছে নিয়েছেন নানা ভাষা, ছন্দ এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত, ভূপেন হাজারিকা কিংবা তার ভুবনমোহিনী লোকসঙ্গীতের ডালিকে। তাঁর ‘অই গিরি নন্দিনীতে’ খড়গপুর খুঁজে পেয়েছে মাতাপূজার ছন্দ আবার ‘রঙ্গবতী রঙ্গবতী’ টানে ওড়িয়া ভাষীর সাথে নেচেছে বাঙালি মন।

তাঁর লোকতানে ‘মনে করি আসাম যাব’ কিংবা ‘পিন্ধারে পলাশের বন’ অথবা কীর্তন ঢঙে ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও রে’ থেকে একের পর এক গানে যেমন কোমর দুলিয়েছে খড়গপুরের যৌবন তেমনই প্রশান্তি এনেছে রবীন্দ্রসঙ্গীত এ কী লাবন্যে পূর্ন প্রাণ, যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসেরে।” আবার সবাইকে নাচিয়ে ফিরে গেছেন, গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের ‘পৃথিবীটা নাকি ছোট হতে হতে’ কথা ও সুরে। সব মিলিয়ে শীতের খড়গপুরে প্রায় দেড়ঘন্টা ধরে উষ্ণতা বিলিয়ে বিদায় নিয়েছেন এই শিল্পী। ছবি:অচিন্ত্য ত্রিপাঠী